আমার কবিতা - ৯
কবিতা
-
কবিতা তো
ঈশ্বরের দূত
শিমূলের গাঢ় কমলা রঙ
কবিতা তোমার চোখের জলের
বয়ে যাওয়া দাগ
পুতুল খেলার আজন্ম বাসনা।
ধানিরঙা শাড়ির
ছুটে আসা আঁচল
দুহাতের ছোঁয়া শিহরিত দশ আঙুল
কবিতা তোমার
দুপুরবেলার ফাঁকা চোখ
আলমারির ন্যাপথা সুবাস
কবিতা তোমার ফেলে আসা দিন
রুপকুমারের রঙিন বেশ।
কবিতা তো
একান্ত অনুভব
নিষ্কম্প প্রদীপের নরম আলো
নির্জন অরণ্যে দোয়েলের ভেসে আসা সুর
কবিতা মানে তুমি - আমি -
আর এক
নিঃস্তব্ধ জোৎস্নামাখা রাত।
২৪শেফেব্রুয়ারি, ২০১৯
#
ভেবেছিলাম সাঙ্গ হল নদীর সাথে থাকা।
তারপরেতে হাজার বুকের ভালবাসার টান
ফিরিয়ে দিল নদী তখন সূর্য ওঠার গান।
চলুক তবে নদী আমার আরো দূরের পথ
বাজছে সানাই সাজছে আমার বেঁচে ওঠার রথ।
২৭শে ডিসেম্বর, ২০১৮
#
শীতকাল এলেই মনে পড়ে
মরশুমী ফুলের কথা।
ক্যালেণ্ডুলা এ্যাস্টর এ্যান্ট্রিনাম প্যানজি
আরো আরো কতো -
বাবা বলতেন সিজিন ফ্লাওয়ার।
রোববার সকালে
হাতীবাগানের গাছের হাটে কতোবার
বাবার হাত ছুঁয়ে
মনে পড়ে খুব।
আমাদের সেই ছোট্ট জমিটায়
সন্ধ্যের আগে আগে
সেই ছোট্ট ছোট্ট চারাগুলো
নিড়ানি দিয়ে মাটিতে পুঁততে শিখিয়েছিলেন বাবা
তারপরে ঝারি দিয়ে জল।
গাছ বড় হতো
রাতের শিশির ছুঁয়ে।
যেদিন ক্যালেণ্ডুলায় প্রথম ফুটতো ফুল
আমার আনন্দ দেখে
চিকচিক করে উঠতো বাবার চোখদুটো।
সেই বাবা'র মুখে
জ্বলন্ত পাটকাঠির আগুন
ছোঁয়ালাম যেদিন -
সেদিন থেকেই বুঝতে শিখলাম
আমায় একাই ফোটাতে হবে
ক্যালেণ্ডুলা এ্যাস্টর এ্যন্ট্রিনাম প্যানজি।
বাবারা বড় তাড়াতাড়ি চলে যায়
ডারউইন এর কাছে।
#
চলো এবার বেড়িয়ে আসি বৃন্দাবনে
নীল যমুনা ভরিয়ে দিতে পদ্মবীজে
তোমার আমার ভালবাসায়
আবার উঠুক ঢেউ যমুনার তমাল তীরে
সেই তো কবে
সেই তো কবেই
কাজের ভীড়ে হারিয়েছি গন্ধমাদন
বিন্ধ্য পাহাড় আর যা কিছু
আর দেরি নয় এবার চলো
চলোই এবার বৃন্দাবনে
বাকি জীবন তোমায় আমায়
চুমুক দিয়েই কাটিয়ে দেব নীল যমুনায়
নীল যমুনায়
শহর এখন বিষের ধোঁয়া সর্বনাশা
পালাই চলো শহর ছেড়ে
তমাল তলে
সাজাই আবার পর্ণকুটির হোগলা পাতায়
গীতগোবিন্দ লিখব আবার ভালবেসে
তালের পাতায় তোমায় নিয়ে
এই সময়ের দূর্বা রসে
চলো তবে
আর একটিবার
©গৌতমদত্ত
১৫-১১-২০১৮
#
কাছে আসাটাও ?
টানাপোড়েনের এত প্রয়োজন...
নির্লিপ্তির এতখানি সাজা
খুঁড়ে যায় বালুচর।
পায়ের ছাপের দাগ বোঝা গেলে পরে
জানি পাবো জল।
অতল হলেও...
বহুব্রীহি সময়
জল ঠেলছে নিচে।
তবুও প্রস্রবণ ফোয়ারা ছোটায়
ঠিকঠাক আলো পেলে...
©গৌতমদত্ত
#
পাগলঝোরার তীব্র ফেনায় পলকহারা
রাফায়েলে’র সৃষ্টি তখন তুলির টানে
তোমার ছবি জলের ভেতর নজরকাড়া।
উড়ছে শরীর ছন্দে দোলা শ্রাবণ ধারায়
মেঘবালিকা’র নরম শরীর এঁকেবেঁকে
দুহাত দিয়ে জলের ভেতর ফুটছে কুঁড়ি
উছলধারায় আঁকছে ছবি মনের থেকে।
তুমি এখন আকাশকুসুম জলের পরী
ঝরণা ফেনায় শরীর ঘেরা চাঁদের মালা
তোমায় নাচায় ঝরণাধারা চামর ঘিরে
মুগ্ধ আমি চোখের ওপর শিল্পকলা।
কুর্চি ফুলের গন্ধ ওড়ে জলের হাওয়ায়
তোমার ঘ্রাণ আর সব মিশিয়ে দিশেহারা
আলতো স্রোতে জলের টানে পাপড়ি হাজার
মুগ্ধ স্থবির আমি তখন ছন্নছাড়া।
এমন করেই ঝরণা নামে শরীর জুড়ে
পাহাড় ঢালে ঝরণা যেমন নামতে থাকে
তোমার শরীর তেমন করেই ছন্দ তুলে
আমার ভেতর তোমার আলো জ্বেলে রাখে।
©গৌতমদত্ত
#
মুহূর্ত -
যা ছিল স্বপ্নেতে তোমাকে দেবার
হারিয়ে ফেলেছি সব অগোচরে
একবার তাকিও না যদি ফেরে
তোমার মুখের দিকে চেয়ে যদি
ফিরে আসে স্বপ্নেরা সব নদী
দুকূল ছাপাবে জানি মনে মনে
ঢেউ তুলে ফেরা সে পুরোনো দিনে
কতোদিন দেখোনি যে মুখ তুলে
আমি তবু বারবার সব ভুলে
অনিমেষ খোলা চুল উড়ে উড়ে
অপরূপ তাকিয়ে রয়েছো দূরে
এতো কি ভাবনা দূর বালিয়াড়ি
দূরেই থাক না যতটুকু পারো
ততটাই প্রেম কেড়ে নিও শুধু
আমি তো আছিই বাকি সব ধূ ধূ
#
#
সময় ছিল না তখন দেখেছি আমি
চোখে লেগে ছিল দুরন্ত ঘনঘোর
জানতাম আমি বকুলের ঝরে পড়া
কথা থেকে যায় মুগ্ধতা বরাবর...
হিসেব মেলে নি একান্ত অনুভবে
বরষার পরে শরতের ঝিকিমিকি
বসন্ত ভেবে আমিই করেছি ভুল
ভাদুরে আকাশ দিয়েছিল উঁকিঝুঁকি
বুকের ভেতরে গুনগুন কথামালা
শব্দের ফুলে শব্দের মালা গাঁথা
এখনো শব্দ সাজাতে পারিনি আমি
দূরে অগোচরে তাই বেজে যায় ব্যথা।
©গৌতমদত্ত
#
বড় ফাঁকা হয়ে আছে চারপাশ-
সকালের রোদ যে তাপটুকু আনে
কলার ছড়ার মতো লাগে।
বিকেলের নরম আলো
তোমার মুখের মত ভালো
মাঝেমাঝে মনে হয়।
বাকি সব নীলাকাশ
যোনিময় রাত আর শাপলার ভেসে আসা
ছবি পরম্পরায় শুকনো বাজির শব্দ।
.
পুজো আলো রোশনাই
আজ আর নেই।
বুলেট বুলেট শুধু
অগনন লাশ।
তার মাঝে তুমি যদি পারো -
এক ফালি বিশ্বাস দিও আরো
ভালবাসা ঋণী হয়ে রবে।
©গৌতমদত্ত
#
ছেলেটা ভাবছিল....
ঠাকুরদাদার দেওয়া
বাজারের পয়সা থেকে সরিয়ে সরিয়ে....
মা'র দেওয়া ফর্দ আর টাকা -
৬৫ পয়সা তো দূর,
মেয়েটা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে -
গাছের আড়াল কই আর !
মাথায় হেলমেট।
সকালেই এসএমএস এর টিংটাং।
আজ দেখা হবে সরাসরি...
ধাপার আশপাশ।
আসঙ্গ শরীর এর হাঁকডাক -
জিভের তলায় দু-আঙুল ঢুকিয়ে
সিটি মারা....
মূল্যবোধ অনেক দামী আজ...
©গৌতমদত্ত
#
বাহ।
কি ইচ্ছে করে আমারও
কিন্তু আমার যে ছাদ নেই।
বর্ষায় ফোটাবো রজনীর গন্ধ ভরা ডাল
বসন্তে পলাশ
মা আসার আগে শিউলিঝরা ছাদ
সাদাকমলায় সুরেলা ঘ্রাণ।
কবিতা লিখব আমি
পিটুনিয়া কিম্বা প্যান্জির রঙ বাহারে
টাঙানো দড়িতে উড়বে তোমার শাড়ির
সবটুকু, সায়া, অন্তর্বাস
ভরে থাকবে মাধবীলতার সৌরভে
ঘ্রাণ নেবো রাতে
একসাথে
ছাদজোৎস্নায় যুঁই আর বেল
আর শুধু তুমি –
পিঠের ঝোলানো বেণীটুকু হাতে নিয়ে
ডেকে নেবো বারবার
আচম্বিতে...
তারপর
প্রাণ হতে প্রাণেনিস্তব্ধ সন্ধ্যায়
বনলতা –
সব পাখি ঘরে ফেরে সব রোদ...
একা ছাদ
বাগান দুজন আর
মধুমালতীর হাওয়া...
©গৌতমদত্ত
#
(যদি) ভুলে যাও মোরে...
অভিমান কুরে কুরে খেয়ে গেছে
কতোদিন কতোরাত
চণ্ডাল হতে পারিনি তো রাগে
শরণং গচ্ছামি হাওয়া ধানের শীষের ওপর
বুলিয়েছে যাদু তার হাতে -
দিনে দিনে বেড়েছে গেঞ্জির মাপ...
নুব্জ্যতার কারুকাজ শরীর তামাম।
ঋণী হয়ে বয়ে গেছে অভিমান শোক জ্বালা
চন্দনকাঠে পুড়িয়ে দিয়েছি
অতীত অন্তর্বাস।
তবু গান আসে চোখে
জলপাড়ে। সাজ আর সাজানোতে
গার্হস্থ্য টুংটাং ঝিকিমিকি পাশ ফিরে শোওয়া -
স্খলিত আবেশে...
চক্রবৎ স্মৃতির ঝরোকা
সিক্রি-উঠোনে চাঁদ রোজ রাতে।
গোঙানি কাঁদে...ঝুম ঝুম মলের শব্দ শুধু।
©গৌতমদত্ত
#
এমন করে কান্না চেপে অষ্টপ্রহর
জেলের জালে ছটফটানি দিনরাত্তির
ভুলেই গেছো পুতুলখেলা ফ্রকের বাহার
কচুপাতায় কল্মি শাকের সোয়াদখানির -
চুলের খাঁজে লালচে সিঁদুর ধম্মো বাঁচায়
মনের ভেতর একোরিয়াম রুদ্রবীণায়
ঝড় তুলেছে জাকির হোসেন বুকের মাঝে
আগ্রা ফোর্টে বেগমসাহেব রান্না বসায়
বৃষ্টি নামা অকালবোধন চোখের কোনায়
শাড়ির আঁচল কোথায় পাবে ম্যাক্সি হাতা
কপোল বেয়ে ঝর্ণা তখন শীতের ধারায়
নোনতা জলে জিভ ছুঁয়ে যায় বিষন্নতায়
ঘরকন্নায় ব্যস্ত জীবন কাজের মাসি
যুঁইরজনীর গন্ধ ভেজা সান্ধ্যপ্রহর
তুলসীতলা অতীত জীবন হেলাফেলার
চিনে মোমো সুবাস ভাসায় ঘরের ভেতর
নিত্য নতুন দিনের আলোয় তন্দ্রাবতী
রাত বেড়েছে নিয়মমাফিক হাল্কা সুরে
নেশার জলে ডুব ডুব ডুব মনের পাখি
খুঁজছে তাকেই অষ্টপ্রহর মনটা জুড়ে
জলছবি ছাপ জলেই ভিজে খুঁজে বেড়ায়
বই কিম্বা খাতার কোনে লাউয়ের মাচা
সবুজ সাদা ফুলগুলো তার স্বপ্নে পাওয়া
চু-কিত্কিত্ দামাল-বেলার অবুঝ বাঁচা
এমন করেই বলির রেখা উদয়ভানু
মনের নাগাল মন পেতে চায় চৌকো খোপে
সকাল থেকেই গাছের ডালে রঙিন পাখি
একের পরে দুই এসে যায় তোমার চোখে
উড়ছে হৃদয় হাজার কাজে নানান ভীড়ে
তারই মাঝে হঠাৎ করেই পল্লীগীতি
ছাদের ওপর চিলেকোঠায় পশ্চিমে রোদ
স্বপ্ন ভাঙায় কুমীর-ডাঙার হাজার চিঠি
পুকুরপাড়ে সন্ধ্যা নামায় বাবার ভিটে
জোনাক-জ্বলা আঁধার এখন যাদুঘরে
মনের কোনেআলপনা দেয় নষ্ট জীবন
কান্না হারায় রঙিন নিমেষ চুপিসাড়ে।
©গৌতমদত্ত
#
বেদনা নিবিড় ছিল –
অভিকর্ষ টানে।
তীব্র ছিল উচাটন মন
দেহজ কুসুমঘ্রাণে পল্লবিত -
স্বপ্নে চারুকলা অস্টপ্রহর।
বেদনা নিবিড় –
সাঁকোর বিস্তারে।
কদমকুঁড়ি প্রমোহিত
পাতার আড়ালে – আলো সে তো বহুদূর।
ক্লোরোফিল আঁকাড়া আজ –
বন্ধ্যা বঙ্গ চেটেপুটে সাফ্ করে প্লেট
ভাগাড়ের শুয়োর বিড়ালে।
কাব্য হ’ল বেশ।
কথা দিয়ে কথা ঢাকা
তুল্যমূল্য সাজ।
আঙিনাতে অপেক্ষা নেই আর, নেই আর
অলংকৃত পল।
যুক্তির বাহানা খোঁজে অসূয়া হরতন ;
ভোর আসে ভোরে –
দিকে দিকে ভাগাড়ের মৃত শব
তৈরি হয় নতুন সূর্যোদয়ে।
প্লেটে প্লেটে সেজে ওঠে
মহার্ঘ্য মোড়কে
মিশে যায় গতানুগতিক মেনু কার্ডে।
খেলা ভাঙার খেলা আর
চকিত প্রহর।
©গৌতমদত্ত
#
হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলে পেছনে না তাকানোই ভাল –
থমকে গিয়ে, ঘুরুক না যাবার যারা। কিংবা
হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে মোবাইল ক্লিক্ -
বয়েই গেলো পেছনে কে আছে বসে...
চালাকির রন্ধ্রে রন্ধ্রে গোপন থাকুক বোঝাপড়া।
অনেকটা অক্সিজেন বুকের মধ্যে পুরে নিয়ে
মনে হ’ল
মুখোশ নিয়ে বেঁচে থাকাটাই ভালো।
অনেক সহজ জীবন
অজস্র রঙে রাঙানো পৃথিবী
ইচ্ছে মতো রঙ করে নাও যা কিছু চাও।
সবকিছু গজব্ বাত হ্যায় জী...কলকাতা ওড়ে...
©গৌতমদত্ত
#
করুক না হয় মন টা কেমন
বুকের ভেতর উঠুক সুর
তোমায় আমায় ভিজিয়ে দিয়েই
মেঘটা পালাক অনেক দূর।
তারপরেতে ঠাণ্ডা কাঁপন
বুকের ভেতর কেমন ভয়
তোমার বাড়ি অনেকটা পথ
মনের ভেতর কি জানি কি হয় !
ফাঁকা ময়দান সবুজের তাপে
বৃষ্টি ফোঁটায় উদবাহু নাচে
যত ছিল গ্লানি যত ছিল ক্লেদ
নিমেষে উধাও অজস্র গাছে।
বৃষ্টিধারায় আল্পনা আঁকে
বুকের গভীরে লোহিত কণা
জোয়ার ভাঁটায় উদ্দাম আজ
তুমি আমি ছাড়া কেউ জানবো না।
আসুক না আরো বৃষ্টি দুপুর
আরো ঘন মেঘ গভীর কালো
তুমি তো রয়েছো সাথেই আমার
নিভে যাক সব শহরের আলো।
©গৌতমদত্ত
#
গান শুনছিলাম।
ন্যাট কিং কোল এর... ‘আনফরগেটেবল্’।
গান গাইছেন মিস্টার কোল –
জলদ গলায় সুরে সুরে বলছেন –
‘এমনও তো কেউ হয়, যাকে ভোলা যায় না’।
ওই সুপুরুষ নিগ্রো মানুষটা পরের লাইন গাইছেন...
‘ধরে নাও না, আমিও তেমন একজন –
যাকে ভোলা যায় না’।
কি অসম্ভব প্রত্যয়
যাদুমাখা উদাত্ত অনুরণন !
প্রত্যয়হীন সব চিৎকৃত শ্লোগান – ভাষণ –চাওয়া-
অবশেষে–
বেনামী এন্তেকাল...।
ওপরে নীচেতে।
হারানো হ্যারিসন্ রোডে এখনো
ব্যাণ্ডপার্টির সাজ পরে নেয় রিক্সা কিংবা ঠেলাচালক।
দুটো পয়সার লোভে –
হারানো মূল্যবোধে বেঁচে থাকা, এই শহরেও...।
#
ডাক এলে আকস্মিক
ইচ্ছে নদী জোয়ার ভাসায়।
সংবাহী শব্দেরা ফুলঝুরি দিয়ে
মাখায় আতর...
জল ফেঁপে ওঠে বুদ্বুদ দানায় –
নিরালম্ব মেঘ ওড়ে গ্রীষ্মের আকাশে।
সুতো দিয়ে জোড়া যায় –
কশ্চিৎকান্তার বিরহিণী মেজাজ।
বর্ষা আগতপ্রায়...
তোমার আসার ছন্দে
দ্রিমিদিমি বোল আর
‘প্রান্তরের গান আমার’...।
©গৌতমদত্ত
#
তুমি যদি থামতেই বলো...
থেমে যাই তক্ষুনি।
ফাঁকা মনে উড়ে আসে অজস্র মেঘ আর
রূপোলি অভ্রের ঘ্রাণ।
আমি খুঁজি একমুঠি ঘাস আর তোমার সবুজ।
মায়া’য় ভরেছে চোখ এক লহমায়।
চোখ বুঁজে নিতে পারি ভেসে আসা ঘ্রাণ
উড়ন্ত বাতাসে।
লেটে খেলে কেটে দিতে পারি পেটকাটি
টেনে খেলে –
লটকেই এনে দেব লাল-কালো সতরঞ্জি...
তারপর ধরতাই দিয়ে দিও একবার
সুতো দিয়ে ছুঁয়ে নেব দুহাত তোমার...
©গৌতমদত্ত
#
শিমূল কে -
একখানা ফ্রেম তোমার জন্য অসম্পূর্ণ
এটা ভেবেই আমি কাটিয়ে দিতে পারি বাকিটা জীবন...
এখনো বোঝো নি তুমি ?
লাল রঙে দিগন্ত ছুঁয়ে হারিয়ে ফেলতে পারি একটা জীবন।
কমলা পলাশ লাল হয়ে ওঠে আমার চরাচর মেখে
বহতা নদীর পাশে...
বর্ষার কূলছাপা নদী স্থির হয়ে আসে
তোমার আঙুল স্পর্শে।
জীবনে জীবন যোগ সে শুধু তোমারি...
আমি আছি কাপালিক এক –
রক্ত বস্ত্রে হাঁড়িকাঠে ফোটাবো ফুল
বাকিটা সয়ে নেবো অগুন্তি বুদ্বুদে
জীবনের ভাগফলে।
তারপর শুধু সুখ
‘কিছু পলাশের নেশা কিছু বা চাঁপায় মেশা’
আর শুধু রক্তকিংশুক বেলা অবেলায়...
©গৌতমদত্ত
১৭ই জানুয়ারি, ২০১৮
#
একরাশ নগরপাল খুঁজে ফেরে প্রেম
নগর সন্ধ্যায়–এ শহরে আমার।
কাঞ্চন মুদ্রায় প্রেম বাঁচে
শহরের আনাচে কানাচে।
মাঝে মাঝে বাতি জ্বলে
চোখের ওপরে –
শহরের ৪৪০ ভোল্ট কঙ্কাল দেখায়
ভিজে যাওয়া ঘাসে। তবুও তো
প্রেম আসে।
হে মাননীয় ধর্মাবতার
ধারা উপধারা গিলে খেতে খেতে
একবার বলুন না –
হে মহামান্য সরকার...
একটু সবুজ দাও
একখানা গোল ছায়া দাও
শহরের যৌবন বড় তেষ্টায় আছে।
আর যত আছে লাশপোড়া চোখ–
রাতকানা হোক
রাতকানা হোক
রাতকানা হোক...
©গৌতমদত্ত
৬ই মে, ২০১৮
#
হাতে ছিল কিছুটা সময়।
তবুও তো উঠে যেতে হয়
ঘাসগুলো ফেলে রেখে...
তাড়া থাকে ফেরবার -
সংসারে জেরবার একটু সময়
ধুলোঝড়ে উড়ে যায়
ধুলোঝড়ে উড়ে যায়
হলুদের গন্ধেভেজা ঘ্রাণ
নরম নরম হাত শক্ত ক’রে রড চেপে ধরে।
সেই কবেকার কাঁঠাল কাঠের আলমারি
আর শৌখিন বুক-কেস নিরস এখন –।
দুপুরের চাঁপাতলা হারিয়েছে দৃষ্টিস্বাদ।
প্রোমোটার কঠিন চোখ মেপে নেয়
আনাচ কানাচ ফেলে রাখা অযত্নের নুড়ি।
ওইটুকু সময়ের স্বাদ
দিয়ে যায় -
একটা গড়ের মাঠ
ঘুরে যাওয়া শাদা পরী আর
কিছু স্পর্শমাখা ভোর।
নতমুখী চিবুকের ছটা
কলকাতা নরম হয় দু-ফোঁটা জলেই।
©গৌতমদত্ত
৫ইমে, ২০১৮
#
চাঁদ ডুবে গেলে প’রে রাত নামে
চোখের তারায়।
ভগ্নাংশের মাঝামাঝি চিরে দেখো
ভাগফলমেলে না কখনো–
সাঁকো ভেঙে যায় শুধু
অভিমানী আক্রোশে।
বটফল অবিকল অপেয় তবুও তো
প্রাণসঞ্চার
কিছুটা বিরতির পর।
এতখানি তসরিফ অস্মিতা আমার...
©গৌতমদত্ত
২৮শে এপ্রিল, ২০১৮
তসরিফ – উদারতা / অস্মিতা - গর্ব
#
বকুলের গন্ধ বেয়ে
বৃষ্টি এল
বৃষ্টি এল
তোমায় নিয়ে আমার কাছে
কালবোশেখির হঠাৎ হাওয়া
মন ভেজালো
বৃষ্টি ছাঁটে তোমার চুলে
মুক্ত নাচে
দূরের থেকে তোমার ছায়া
স্বপ্নমিথুন
অবাক অতল গভীর মায়ায়
ব্যস্ত দু-চোখ
স্বর্ণচাঁপা ফুলের ভারে
পাতার নাচন
আমার তখন চোখের ভেতর
বৃষ্টি নাচে
বৃষ্টি এল বৃষ্টি এল
আকাশ জুড়ে
অকাল সময় থমকে ছিল
প্রেমের আশায়
তোমার ঠোঁটের আকুলতায়
ভুবন জুড়ে
জল থইথই ব্যস্ত শহর
বৃষ্টি নাচায়
আজকে রাতে হিমেল হাওয়া
উথালপাথাল
তোমায় নিয়ে বৃষ্টিভেজা
আজকে রাতে
বকুল চাঁপা হাস্নুহানার
গন্ধ মাতাল
আজকে আমি রাতের পাগল
তোমার সাথে
তোমার সাথে আজকে খেলা
বৃষ্টি রাতে
জলের ছাঁটে তোমার শরীর
পদ্মদিঘি
ডুব সাঁতারে হাতের মুঠোয়
পদ্মকলি
জলের ভেতর গন্ধ নেব
তোমার তাপের
জল ছপছপ দিঘির জলে
শব্দমায়া
রাত নামবে শহর জুড়ে
বৃষ্টি নিয়ে
তোমার তাপে আমি তখন
ডুব সাঁতারে
করবো খেলা রাতের মায়ায়
তোমায় পেয়ে...
©গৌতমদত্ত
২৬শে এপ্রিল, ২০১৮
#
কাকে তবে ভালবাসি –
চোখে রাখি চোখ ?
যে মেয়েটা এইমাত্র হেঁটে গেল –
সবুজ শাড়িতে,
স্কুল ড্রেসে বাসের জানলা ধরে
যে মেয়েটা তাকালো
অবাক ভাষায় –
তাকে দেখি কোন চোখে ?
এতখানি দাগী হয়ে গেছে আমাদের
পুং-চোখ ? কোন কবি খুঁজে নেবে তবে
মনে মনে চাল ধোয়া সেই সাদা হাতে
স্পর্শের অব্যক্ত স্বপ্ন !
কাল ঝড়ে পড়ে গেছে অনেক গাছ।
দেওদার, কৃষ্ণচুড়া, আম, কাঁঠাল, ইউক্যালিপটাস্।
বাইকদাদারা এসে চিহ্নিত করে গেছে
কার কোন গাছ ! কাটো আর বেচো
বেচো আর কাটো। সবকিছু তছনছ করে দিয়ে
শুধু বেঁচে থাকা –
দাদাদের চোখে চোখ কে কবে রেখেছে আর !!
ভালবাসা কিনে নিতে হবে নগদ পয়সায়...
শরীরের ঘ্রাণে বাইকের তেলের গন্ধ।
সবকিছু সয়ে যাবে কালের নিয়মে ?
ক্ষমতায় তুলে নেওয়া গিরিগিটি রঙ -
পারবে তো বদলাতে ?
ফেলে আসা চুড়ির নিক্কন
কবিতার কথামালা
শুধুই কি সিটি মেরে জানিয়ে দেবে
সবকিছু সেদ্ধ হয়ে গেছে।
সারা দেশ জুড়ে শুধুই কি তবে –
পাগলা মেহের আলী একটানা বলে যাবে
‘সব ঝুট্ হ্যায়’...
©গৌতমদত্ত
১৮ই এপ্রিল, ২০১৮
Comments
Post a Comment