আমার কবিতা - ২
সংশয় –
এত কেন রাগ ওই দুই চোখে
মাঝে মাঝে ভুলে যাই
তোমার আভাস আমার স্মৃতিতে
জেনো আছে পুরোটাই।
কত দিন গেল, কত না বিকেল
অস্তপারের আলো
রোজ মায়াময় রোজ’ই নতুন
একবার মুখ তোলো।
এমন রেঙেছে সাত রঙ মেখে
তোমার চোখের কাছে
তবে কেন রাগ, কেন অভিমানে
বৃথাই স্বপ্ন বাঁচে।
আমি তো বুঝিনা, প্রেম কাকে বলে
কাকে বলে পিছুটান
মনের নাগালে কেন ছূঁয়ে যায়
মন কেমনের গান ?
উদাস প্রকৃতি কখনো যদিও
ধুসর রঙেতে সাজে
মনে হয় নাকি, - সব কিছু শেষ
রঙিন জীবন মাঝে ?
দুঃখ, কষ্ট, রাগ, অভিমানে
জীবনের ভাঙ্গাগড়া -
আমরা শুধুই পুতুল খেলার
দিশাহীন ওঠাপড়া।
এরি মাঝে যদি বিরহ বেদনা
কখনো সখনো বাজে,
মাথা রেখে কাঁধে, অস্ফুটে বোলো
সকালে, বিকেলে, সাঁঝে।
রাত শুধু থাক, গভীর আড়ালে
শরীরী ভাষায় মিশে –
বাকি কথাগুলো- রাত ভোর হ’লে
বোলো তুমি অনায়াসে।
২৮শে মার্চ, ২০১৬
মাঝে মাঝে ভুলে যাই
তোমার আভাস আমার স্মৃতিতে
জেনো আছে পুরোটাই।
কত দিন গেল, কত না বিকেল
অস্তপারের আলো
রোজ মায়াময় রোজ’ই নতুন
একবার মুখ তোলো।
এমন রেঙেছে সাত রঙ মেখে
তোমার চোখের কাছে
তবে কেন রাগ, কেন অভিমানে
বৃথাই স্বপ্ন বাঁচে।
আমি তো বুঝিনা, প্রেম কাকে বলে
কাকে বলে পিছুটান
মনের নাগালে কেন ছূঁয়ে যায়
মন কেমনের গান ?
উদাস প্রকৃতি কখনো যদিও
ধুসর রঙেতে সাজে
মনে হয় নাকি, - সব কিছু শেষ
রঙিন জীবন মাঝে ?
দুঃখ, কষ্ট, রাগ, অভিমানে
জীবনের ভাঙ্গাগড়া -
আমরা শুধুই পুতুল খেলার
দিশাহীন ওঠাপড়া।
এরি মাঝে যদি বিরহ বেদনা
কখনো সখনো বাজে,
মাথা রেখে কাঁধে, অস্ফুটে বোলো
সকালে, বিকেলে, সাঁঝে।
রাত শুধু থাক, গভীর আড়ালে
শরীরী ভাষায় মিশে –
বাকি কথাগুলো- রাত ভোর হ’লে
বোলো তুমি অনায়াসে।
২৮শে মার্চ, ২০১৬
#
আবার পলাশ, আবার শিমূলে রঙ,
চোত-ফাগুনের দখিন হাওয়ায় মেশে –
বুকের ভেতর অজানা কি এক ডাক
বয়স হঠাৎ কমে যায় অক্লেশে।
সান্ধ্য আকাশ মায়াময়, ভরা চাঁদে,
দিগন্তে ভাসে অপরূপ মঞ্জরী,
আমের পাতায় মুকুলের মিঠে ঘ্রাণ -
তোমার চোখেতে ভাসে স্বপ্নের তরী।
লেগেছে দহন, গাছে গাছে উচ্ছ্বাস ;
ফাগুয়ার রঙে রঙিন প্রকৃতি মাতে -
সবুজ পাতারা সলাজে ঢেকেছে মুখ,
বসন্ত আসে বাসন্তিকার সাথে।
এমন দিনেতে মনে আসে যত কথা
তোমার অবশ চোখের তারায় চেয়ে,
তোমার গালেতে দু-একটা কালো চুল -
উড়ছে হাওয়ায় আমার স্বপ্ন বেয়ে।
কতদিন আর এমন করেই যাবে ?
দুজনে দুচোখে চেয়ে চেয়ে দেখা আর -
তার চেয়ে চলো, চলে যাই ভেসে ভেসে
প্রেমকে যেখানে করবোই নিরাকার।
এসো সবকিছু দুহাতে সরিয়ে দিয়ে,
একটু না হয় সাহস করেই বলো –
দূরছাই ! চলো জাহান্নামেই যাই ,
জীবনটা করি এলোমেলো অগোছালো।
পঞ্চমী আজ দোলের গন্ধে মাখা
রঙ আবীরেতে মুখরিত চার দিক
রঙের আড়ালে তোমাকে বুকেতে নিয়ে
শিহরিত করে দেখাবোই দশ দিক।
২৩শে মার্চ, ২০১৬
দোল পূর্নিমার প্রাক রাত।
#
'ভুলে যাও' বললেই কি ভুলে যাওয়া যায় !
একথা কি জেনেছিলে তুমি -
সেদিনের সোনাঝরা সন্ধ্যে বেলায়।
তখন তো আকাশে ছিল -
সাদা কাস্তে চাঁদ।
হয়তো শুনতে পেয়েছিল -
তোমার ওই দুটো অক্ষর, বাংলায়।
ঈথারে ঈথারে ভেসে অক্ষরদুটোই
গেছিল চাঁদের কাছাকাছি।
আরো কাছে যেতে -
চাঁদ যেন পাল্টালো রঙ,
সাদা থেকে হাল্কা হলুদ হয়ে লালে -।
প্রতিবাদ জানাতেই কি ?
তারপরে মেঘ এসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে --
হয়তো লজ্জায় ভেসে,
ভেসে ভেসে সরে গেল দূরে।
লজ্জাভেজা সুরে,
বলে গেল তারে -
ঠিক নয়, ঠিক নয়, বলে দাও তারে।
তখনো ফেলোনি চোখ আকাশে'র গায়।
তখনো সরেনি ঠোঁট সেই মোহানায়।
ভেসে যাওয়া কথা শুধু দূরে সরে যায়।
তুমি আর আমি ভাসি ছিন্ন পাতায়।
জীবনে জীবন কাঁদে শূণ্য চরায়।
বলা কথা ফিরে ফিরে আসে আর যায়।
সেই সন্ধ্যায় -।
১৯শে মার্চ, ২০১৬
#
ভাষা -
তোমার তো বোঝা উচিৎ ছিল। না কি ?
কতোবার -
কতোবার, বলতে গিয়েও
বলতে পারিনি আমি।
সব কিছু কি ঠোঁট দিয়ে বলা যায় ?
অনেক কিছুই তো অনুচ্চারিত রয়ে যাওয়া।
অঘ্রানের পাকাধান মাঠে নত হয়ে -
হাওয়ার সুরে ধানশীষের সোনালী ঢেউ খেলা।
তুমি তো জেনেছ দিনে দিনে,
আমি এক অবুঝ প্রেমিক।
নাকি -
ভালবাসার সাগরজলে ভেসে এসে,
পাড়ে পরে থাকা ঝিনুকের মতো প্রাণহীন ?
যা তুমি শুধু কুড়িয়েই উদ্বেল। অথবা,
তোমার আলতা রাঙা পায়ের চাপে
বালিতে গেঁথে যাওয়া এক মৃত প্রাণী !
মুখ ফুটে কিছুই তো বলা হয় না আমার।
তবুও তো চোখে ফোটে ভাষা -
তবে ?
সদ্যোজাত সন্তানের চোখে চোখ রেখে -
মায়েরা তো বুঝে নেয় ঠিক,
সন্তানের খাবার সময়।
কিংবা কখন সে ঘুম চায় !
আমিও তো তেমনি এক,
অবুঝ প্রেমিক
অপেক্ষায় আছি।
যদি কোনো নির্জন দুপুরে -
ডাক আসে, মুঠিফোনে।
৫ই মার্চ, ২০১৬
#
নির্জন দুপুরে -
দেখেছো কি –
কোনো নির্জন দুপুরে,
সাগরের পাড়ে বসে সাগরের খেলা ?
মাছরাঙা ওড়াউড়ি –
জলপোকা ভাসা, চোখের ওপরে।
শব্দেরা অবিরত ভেঙে ফেলে ঢেউ –
সাদা ফেনা মাখামাখি জল আর জলে।
নির্জন দুপুরে –
হয়তো তখন এক, শাড়ি পরে মেয়ে
গুটিগুটি পায়েআসে সাগরেরধারে।
হয়তো দুপুর-স্নান এ স্নাত হবে বলে –।
সবুজাভ ঢেউ এসে বারংবার ফেটে পড়ে যায়,
মেয়েটির পায়ে, সাগরের কিনারায়।
জলে নামে, আর -
কামরঙা-রঙী শাড়ি আঁচল উড়িয়ে দিয়ে
খেলা করে ইজেলের টানা জলে
পটে আঁকা ছবির মতন
ঢেউ’র ভেতরে।
মনের সাগরে তখনো কি জলভরা আকুলতা
কেঁপে কেঁপে ওঠে ?
ঢেউ’র মতন বারেবারে –
নির্জন দুপুরে।
মনে হয় নাকি - ? এইমতো নির্জন সাগরবেলায় –
প্রকৃতির সাথে প্রেম চুপিচুপি কথা কয় !
২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
এমন করেই যদি -
এমনই সেদিন ঝোড়ো-বাদল রাতে
কদম রেণুর গন্ধে বাতাস ভরা
চুলের ডগায় জলচুমকীর ছটা
মনের মাঝে বাজছিল একতারা।
কদম রেণুর গন্ধে বাতাস ভরা
চুলের ডগায় জলচুমকীর ছটা
মনের মাঝে বাজছিল একতারা।
তোমার অমন ডাগর ডাগর চোখে
বৃষ্টি-ছাঁটে জলের রেনুর ছোঁওয়া
একখানি হাত রেলিঙ’পরে রাখা
খোলা চুলের গন্ধে তোমায় পাওয়া।
বাদল রাতের বুক চেরা সেই আলো
তোমার মুখেই রুপো’র ঝলক হানে
দিনের সে মুখ রাতের আলোয় ভরা
মাঝ রাতে চাঁদ, আলো’র কোটাল আনে।
এমন করেই রাতের ঝোড়ো হাওয়া
থামবে এসে তোমার মুখে’র পরে
হঠাৎ করেই সকাল ফোটার আগে
চলোই না যাই, অনেক, অনেক দূরে -।
ধলেশ্বরী’র পারেই না হয় যাবো –
একটু দূরেই থাকবে পিসির বাড়ি
কুঁড়েঘরের খড় ছাওয়া ছাদ ‘পরে
লাউ ডগাটা দুলবে হাওয়া’য় তারি।
ঘরের দাওয়ায় ভরা চাঁদের আলো
তোমার চোখে দেখবো ঝুলন খেলা
তোমার কোলেই রাখবো আমার মাথা
স্পর্শ দিয়েই গাঁথবে তারার মালা।
আমার দুচোখ আধেক আবেশে বুঁজে –
আস্বাদে মাখে সে অনুভূতির ক্ষণ
তখন তোমার আঙুল দ্বিধায় কাঁপা
ভাবি মনে মনে, এই দিলে চুম্বন !
তোমার চুলেও আমার আঙুল খেলা
উন্মন মন তোমার গন্ধ মাখে
তারাভরা সেই রাতের আকাশ ঘিরে
তুমি আমি ছাড়া পৃথিবী ঘুমিয়ে থাকে।
তোমার দুঠোঁটে উদগ্রীব গান আসে
সলাজে কেন যে এত শুধু ভেবে যাও
মাথা নীচু করে আরেকটু কাছে এসে
তোমার ঠোঁটের অস্ফুট ছোঁয়া দাও।
তারপরে নয়, সারা রাত হবে খেলা
কবিতায় গানে রাত যাবে শুধু ভেসে
তোমার কোমল শরীরের ঘ্রাণে ঘ্রাণে
ডুবে যাবো আমি বাকি রাত, অক্লেশে।
এমন করেই প্রতি রাতে ভোর হবে
হাল্কা আলোয় তারাগুলো মিশে যাবে
স্বপ্ন নিয়েই কাটাবো সারাটা দিন
কবে যে আবার ফিরে পাবো এই ভাবে।
২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
চাঁপাতলার ঘাট -
চাঁপাতলার ঘাট -
গহন রাতে জল ছলছল চাঁপাতলা’র ঘাট
শিশির ঝরে পদ্মবিলের এপার ওপার জলে,
অন্ধকারে যায় না দেখা দূরের বালির চর -
শব্দ শুনি জলথইথই বটের ঝুড়ির তলে।
দিকবিদিকে ঘন আঁধার হালকা হাওয়া বয়
কারা যেন নুপূর পায়েই জলথইথই করে,
জল ছলকায়, ঘাটের পাশে সাঁতার কাটে কেউ
যায় না দেখা অন্ধকারে কার হাত ওঠে পড়ে – ।
ঘাটের ধারে ঢেউ এর ওপর জল চুঁইয়ে পড়া -
টুপটুপ টুপ জলের ফোঁটা কেমন করে ঝরে !
ভেজা শাড়ির পাড়ের নীচে জল জমে বিস্তর
দ্রুত পায়ে ঝমক ঝমক আওয়াজ দূরে সরে।
তারপরে’তে নিশুত রাতে হঠাৎ থামে হাওয়া
সব চুপচাপ, দূরের গাছে কোন সে পেঁচা ডাকে –
কোথায় গেল ঢেউগুলো সব, জলটা যেন স্থির
আবার শুনি নুপূর ধ্বনি - জলে নামতে থাকে।
আমার হাতে কার সে ছোঁয়া, জলের দিকেই টানে
পেছন থেকে শুনি অনেক, খলখলখল হাসি -
কারা যেন বললো আমায়, যাও না জলের মাঝে
ডাকলো আমায় মিষ্টি সুরে বললো, এসো ভাসি।
শুরু হলো বিলের জলেই জীবন মরণ খেলা ;
জলের নীচে যতই টানে তত’ই হারাই পাড়।
অবাক করে দুই হাতে সে আমায় ঘিরেই থাকে
দেখতে না পাই – অনুভবেই মুগ্ধ পারাপার।
অশরীরি’র খেলা নাহয় দেখবো জীবন ভোর,
শুস্তার জল বয়ে’ই চলুক মেহের আলির ডাকে –
ফণীভূষণ খুঁজতে থাকুক মণি’র ভালবাসা !
আমি তখন ডুব সাঁতারে, পদ্মবিলের বাঁকে।
২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
(মায়াজম ব্লগে প্রকাশিত)
#
আমার ভাষা প্রাণের ভাষা -
প্রথম যেদিন ডাকলি রে তুই
বাবা বলে
সেদিন আবার আমার ভাষা
উঠল জ্বলে
শুনতে পেলাম আবার আমার
মায়ের ভাষা
ছোট্ট দু-ঠোঁট আনন্দেতে
আনলো আশা।
বাংলা ভাষা।
বিদ্যাসাগর তোকেই দিলেন
বর্ণ মালা
ছন্দ ছবির সহজ পাঠ আর
ঝালাপালা।
আবোল তাবোল তোকেই চেনায়
কুমড়োপটাশ
কুম্ভকর্ণ ছমাস জেগেই
আবার ধপাস।
এমন করেই শিখলি সবই
বাংলা ভাষায়
তাইতো আমার চোখের কোনে
জল এসে যায়।
আজকে যখন সকাল থেকেই
রাস্তা ঘাটে
বাংলা ভাষায় শ্লোগান ওঠে
অনেক মাঠে
তখন আমার বুক ভরে যায়
চাপা আশায়
বিশ্বসভায় চলছে ভাষণ
বাংলা ভাষায়
আ মরি বাংলা ভাষায়
অবজ্ঞা আর উপেক্ষাতে
যতই ঠেলো
বাংলা আমার প্রাণের ভাষা
জাগাক আলো
জাগাক আলো সব ভাষাকেই
সঙ্গে নিয়ে
থাকবে জারি লড়াই সবার
মাতৃভাষায় শপথ নিয়ে।
আজকে এ দিন আসুক ফিরে "ভাষার দিনে"
এমনি করেই নিজের মা'কে নেবই চিনে
নেবই চিনে আমার যত ভালবাসা
আসুক ফিরে আসুক ফিরে
সবার যত মায়ের ভাষা।
আসুক ফিরে বাংলাদেশে
আমাদের এই বাংলাভাষা।
বাংলাভাষা।।
২১শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।।
#
ভিজে বালি -
ঢেউজল সরে গেলে পড়ে থাকে ভিজে বালি,
সাগরের পারে পারে।
আবার ঢেউ আসে – ভাঙে – জলখেলা ক’রে
সরে যায় আবার,
মিশে যায় আবার -
সাগরের জলে।
জোয়ারের টান আর ভাটার উজানে
দিবারাত্রির এই ভাঙাগড়ায়
ভিজে দাগ পাল্টায়।
জল আর শুকনো বালিয়াড়ির মাঝে
সেই ভেজা দাগ –
অগুন্তি কাঁকড়া’রা স্থান পাল্টায়
পাল্টায় হিসেব নিকেশ।
ঢেউ এর পরিবর্তে যদি ভাবি সময়
তাহলে অঙ্কের সূত্রে ফেলা সহজ হয়।
যদি বলি -
ঢেউ সমান সমান সময়
তাহলে কি কিছু পড়ে থাকে ?
থাকে পড়ে –
পড়ে থাকে ভিজে বালি’র দাগ সারা সময় জুড়ে।
মন আর মুখোশের মাঝখানে হয়তো বা !
হয়তো বা সরস্বতী - কিংবা চোরাবালি,
চুপিচুপি কাজ করে যায় নিজের খেয়ালে।
পড়ে থাকে অনির্দিষ্ট ভিজে বালির পথটুকু,
মনের সে চোরাপথে – ।
যাকে চাই লুকিয়ে রাখতে –
ঢেউ এর উচ্ছাসের সৌন্দর্য্যের আড়ালে –
ভেসে আসা মৃত কিছুর মতন।
২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
সমকাল -
সমকাল -
যুদ্ধ শেষের সেই শেষ দিন
চারদিকে হাহাকার।
অসংখ্য শব প্রাণ পেয়ে যেন,
বলিতেছে মার মার।
অন্ধকারের আলোয় কিছুতো
চোখেই পড়ে না আর,
আলো যেন সব নিভে গেছে আজ
তাই এত চিৎকার !
অচেতন মন ভুলে গেল নাকি
বোধবুদ্ধির ভাষা –
দিশাহীন তাই রাজনীতি আজ
পেখম মেলেছে খাসা।
কত দেশবাসী অভুক্ত আছে
হিসেব আছে কি তার !
শ্লোগানে শ্লোগানে নিত্য নতুন
সমবেত হুংকার।
পিঁপড়ের ডিম খেয়ে বাঁচে যারা
তারা আজো অসহায় –
মন্ত্রী আমলা নেতা চামচায়
কুরে কুরে সব খায়।
ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে দেখে ওরা
বাবুদের দিকদারি –
নামে জনগণ একথা শুনেই
কান্নায় গলা ভারি।
নদী উথলোলে জোটে নাকো জল
টিউকল যায় ভেসে –
তখন কোথায় থাকে সব নীতি,
নেতা বাঁচে অক্লেশে।
পাঁচটা বছর পরে পরে ফের
কল, আলো, ঠিক হয়
বাকি দিনগুলো শ্লোগানে মিছিলে –
ছোট নেতা কথা কয়।
এমনি করেই কাটছে বছর
দিন যায় রাত আসে –
জাবেদা খাতার পাতা ভরে ওঠে
সংখ্যার উল্লাসে।
মাথাপিছু সব দেনা বেড়ে চলে
বিদেশের ট্যাঁক ভ’রে –
গরিবী হটাও ডাক কেঁদে ফেরে
জংগলে, প্রান্তরে।
“জনগনে যারা জোঁকসম শোষে
তারে মহাজন কয়।”
একথা কি শুধু চাল ডাল তেলে ?
রাজনীতি’তে কি নয় ?
নেতারা চাপেন এসি স্করপিও
পায়ে থাকে এডিডাস,
এরা শুধু ভাবে সারাদিন ধরে
কিভাবে ছড়াবে ত্রাস।
এই চেনা ছবি আজ বাঙময়
সারা ভারতের পটে,
গনতন্ত্রের ধ্বজাধারীগনে –
ঘুরে ফিরে পথ হাঁটে।
খাদ্য শিক্ষা পোশাক আর ঘর,
বাঁচবার অধিকার।
এত বছরেও দিল নাতো কেউ –
আছে শুধু চিৎকার।
সবাই তো দেখি দোষ খুঁজে ফেরে
শুধু নিজেরটা ছাড়া,
কে যে ভাল আর কেই বা খারাপ
বিচার করবে কারা ?
সংবিধানের কূট কচালীও
আজ যেন জলভাত –
চেপে ধরলেই দিক পাল্টায়
কৌশলে বাজিমাত।
হলদে সবুজ লাল নীল রঙে
জোটেনা দুখানা রুটি –
সব কিছু পায় যার আছে শুধু
একটা জোরালো খুঁটি।
এমনি করেই বারোমাস যায়
যায় তেরো পার্বন –
ভোট আসে যায় মেলে না উপায় –
পড়ে থাকে জনগন।
১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
ধারাপাত -
ধারাপাত -
প্রহরে প্রহরে নির্মাণের সৃজনী গতি’র
কতটুকুই বা পাই টের !
ঘাসের উচ্চতা প্রতিদিন বাড়ে –
হয়তো মাঝ রাতে কিংবা
তপ্ত সূর্য কিরন ঢালা দুপুরবেলায়।
ছড়ানো গন্ধের আকুলি জানান দেয়
ফুল ফোটার সম্ভাবনা।
বহতা নদীর জোয়ার ভাঁটা বলে ওঠে –
আমি বেঁচে আছি,
সাগরের সাথে মেশবার আহ্লাদে !
রাতে, মাঝ রাতে, যখন কৃষ্ণাদ্বাদশীর চাঁদ
মাথা তুলে দেখি –
হয়তো তখন বোধ জাগে ; এই চলিষ্ণু জীবনের।
তবু কেন স্থির হয়ে থাকা -
বিশ্বাসের পুরোনো অভ্যাসে।
কেন তবে, মিছে এত অহমিকা !
কেন এত ভয় ? জীবনের গতিপথে।
এ কি শুধু আত্মরতির নেশা - !
কায়াহীন আলোয় ছায়ায়।
তবে কেন, জীবনের শকুনের ভয়ে -
সেই এক, সেই একঘেয়ে মহাপ্রস্থানের
চলমান যাত্রার খন্ডিত ছবি।
১৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
ভ্যালেনটাইন -
ভ্যালেনটাইন -
আজকে না হয় ভালবেসে
এসো তুমি সলাজ হেসে
আমার আরো কাছে –
বুকটা আমার ভরেই আছে
তোমার ছায়ায় সুখও নাচে –
জীবন আমার বাঁচে।
মনের কোণে তোমার খেলা
খেলতে যে চাই সারা বেলা
বছর বছর ধরে –
সেইটুকু ফাঁক পুরিয়ে দিয়ে
তারপরে নয়, যেও ফিরে
সারা দিনের তরে।
সারাদিনের রান্নাখেলা
হোক না তো আজ হেলাফেলা
অনেক বেলা বাকি –
একটু না হয় গুনগুনিয়ে
গলা না হয়, সাধলে সুরে
এ আর এমন টা কি !
তারপরেতে স্নান’টা হলে
দেখব তোমায় খোলা চুলে
ধূপ জ্বালানোর ফাঁকে –
গায়ের গন্ধ ভরা ঘরে
ধূপের ধোঁয়া যাবে ভরে
মিশবে এসে নাকে।
দুপুরবেলায় খাওয়া হলে
বসবো খাটে দুজন মিলে
রোদ পড়বে পিঠে –
চুল শুকোনো সাঙ্গ হলে
দিও না হয় আমার গালে
একটা চুমো, মিঠে।
তারপরে নয় একটু পাশে,
পানের গন্ধে ভরে আসে
দুপুরবেলার ঘর -
একটু যেন তন্দ্রা ঘিরে
কানের কাছে পাবো ফিরে
ফিসফিসে সেই স্বর।
১৪ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
অচিনপুর -
পাহাড় ছিল দূরে
ছিল পাঁচিল ঘেরা বাড়ি
সামনেতে লাল পথ
বিস্তৃত আড়াআড়ি।
দূরে ঘোমটা খসা মেঘ
নীচে সবুজ গাছের মায়া
ছাদে উড়ছিল লাল শাড়ি
নিচে বইছিল সেই হাওয়া।
আমার মনের কোনে আলো
যেন লজ্জা পাওয়া দিন
চোখের তারায় খোঁজা
স্বপ্নে পাওয়া ঋণ।
ঋণ মুকুবের তালে
যদি শরীর ছুঁতে পারি
তোমার কাজল কালো চোখ
অবাক হবে ভারী !
সময় যদি থাকে
রাত কাটানোর ছলে
তোমার ছাদে একা
চাঁদ উঠবে জ্বলে।
তখন নিশুত রাতে
তোমার আমার ছায়া –
দূরে গাছের সারি,
মনে ছবির মায়া।
এমন করেই যাবো
হয়তো কোনোদিন
তৈরী থেকো তুমি
আমার সে নন্দিন !
৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
চলমান -
এমন করেও তো আসা যেত -
এই রাত জোৎস্নায় !
সব কিছু আছে ঘুমে, কেবল একাকি তুমি
জেগে আছ চরাচরে,
এই হিমমাখা জোৎস্নায়।
চাঁদও ভেসে যায় অমাবস্যায় -
আমাদের অন্ধকার দেবে বলে।
নেড়ি কুকুরের ব্যস্ত চিৎকারে শুধু জেগে থাকে
আমাদের শহরের পাড়া।
ডাক থেমে গেলে আবার নিস্তব্ধ সব,
ফুলেরা ফুটবে বলে।
গন্ধ ছড়াবে বলে প্রভাতের মৃদু হাওয়ায়।
সব কিছু জেগে থাকে, সবকিছু।
নাম কেনে রাতের পেঁচারা শুধু।
একা একা বসে বসে,
আমিও কি ছাই জানি -
নক্ষত্রের আলো কেমন করে জ্বলে।
মসৃণ শরীরে শরীর,
ঘষা খেয়ে ফেলে দেয় আগামীর বীজ।
তুমি তবু জেগে থাকো -
সব কিছু মেপে নেবে বলে।
এভাবেই বয়ে চলে মজা নদী।
প্রাণের ভেতরে প্রাণ,
আকাঙখার কল্পবৃক্ষে -
অনেক উচ্ছিষ্ট থেকে প্রাণ নেবে বলে।
৯ইফেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
একটু নিস্তব্ধতা দাও -
একটু নিস্তব্ধতা দাও -
হে আমার মহান শহর।
একটা কবিতা লিখবো এখন।
ভোরবেলা আমার ঘুম ভাঙে না -
তখন মনে হয় অপার নৈশব্দ থাকে।
মনে হয় - !!
থাকো কি সত্যি –
ভোর ঘুমে রোজ ?
ঠিক ভোর বেলা -
যখন ফোটেনা আলো আকাশের কোনে।
সবাই বকছে সারা দিন, সারা বেলা
বাসে, ট্রামে, ট্রেনে, লঞ্চে, রিক্সায় -
ঘরে, বাইরে, এমনকি উড়ানেও !
গান বাজে শহরের মোড়ে মোড়ে।
পেন ড্রাইভের গোঁজামিলে
মাঝে মধ্যে পরিবর্তন -
আমার ভাষার।
ডেসিবল মাপে কার সাধ্যি ?
কেন এত গান লিখেছিলেন রবিঠাকুর ?
আমাদের নৈশব্দও লাগে একটু কখনো সখনো।
আন্দাজ করতে পারেননি বোধ হয় ! তাই না ?
উৎসবে উৎসবে রোজ মাতোয়ারা -
আমার শহর তুমি।
বিয়েবাড়ির আতসবাজি,
বিসর্জনের উত্তপ্ত শোভাযাত্রা,
রাজনীতির রামধুন,
শেষ যাত্রার উচ্চকিত “বল্লো হরি হ্রিবোল্”,
আরো আরো আরো আরো...
অনেক অনেক কিছুই –
যা সারাদিন সারারাত অবিশ্রান্ত।
কি করে পাবো একটুকরো নৈশব্দতা ?
ইডেন কিংবা কার্জন পার্কের হাল্কা ঘাসে –
অথবা বাড়ি, ঘর, প্রান্তরে !
হে শহর, হে আমার প্রিয় শহর !
কখন লিখবো আমার কবিতা – ?
ভোরবেলা যে ঘুম ভাঙেনা আমার !
৫ই ফ্রেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
এসো তুমি নারী -
কবিতা'রা আজ আমায় ভুলেই গেছে
বুকেতে আমার উপোষী ঝড়ের খেলা,
শব্দ'রা সব পিছলে যাচ্ছে দূরে -
কি করে গাঁথব কবিতার ফুলমালা ?
একা একা আর কতো দিন বাঁচা যায় -
সাগরের জলে ছেঁড়া পাতা ভাসে দূরে,
শুকনো ডালেতে মাথা চাড়া দেয় পাতা
আগামী পৃথিবী উঠবেই মাটি ফুঁড়ে।
রঙিন স্বপ্ন আসেনা আমার চোখে ;
শুকনো এ বুকে তীব্র আগুন তাপ।
জানিনা কি করে ফুলের গন্ধ পাবো -
চারদিকে শুধু খয়েরি পাতার ছাপ।
প্রেম, রগরগে শরীরি খেলার নাম ;
সিসি-কেটি আজ, আরো যেন বেপরোয়া - !
কোথায় হারালো নরেন অমিত এরা,
জটিল আজকে, মনের নাগাল ছোঁয়া !
তারি মাঝে বাজে বিসমিল্লাহ গান
জটিল কুটিল ভাবনারা যায় স'রে ;
গান শেষ হলে আবার পুরোনো ছকে -
সব কিছু জ্বালা কেন আসে ভীড় করে ?
পারো তুমি নারী, দিতে পারো তুমি সুর,
অসুস্থ মনে ভরে দাও তুমি আলো ;
পারলে তুমিই ছবি এঁকে ভরে দিও -
সুজাতা'কে আজ কোথায় খুঁজবো বলো ?
জানি এ লড়াই কঠোর কঠিন হবে।
তবু তোমাকেই নিতে হবে গুরুভার,
তুমি ছাড়া আর জাগবে না মরা প্রাণ -
আগামী জীবন চাইছে অঙ্গীকার।
৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
#
বহুরূপী -
রাতের আকাশ যদি মেঘে ঢেকে থাকে –
চাঁদ যদি ঢেকে থাকে সেই সব মেঘে,
তখনো তো ভোর হয়, রাত শেষ হলে পরে।
ডুবে যায় চাঁদ –
ভোরের মেঘলা আকাশে।
কুয়াশায় ঘেরা মন খোলে কি এমন -
অভিমান শেষে ?
জল ! সেকি, ভরে ওঠে দুচোখের কোনে -
পাপড়ি’র গায়ে মাখা শিশিরের মতো ?।
এমনি করেই কি বেড়ে ওঠে তোমার আমার যৌথ ভালবাসা ?
নাকি সে শুধু জোড়া পুঁটিমাছ –
পাশাপাশি শুয়ে থাকা শুধু ?
মনের সে গতিপথ কে কবে পেরেছে জানতে ?।
২৭শে জানুয়ারি, ২০১৬
#
পৌষ সংক্রান্তির রাতে -
ভীড় আর ভীড়ে মাখা সাগর সৈকতে
অগনন মানুষ-মানুষী হিম পড়া রাতে –
খুঁজে চলে পুণ্যে’র পূর্নিমা,
অবিশ্রাম, অন্তহীন।
সব চিন্তা, সব লক্ষ্য এত ভীড় ভরা রাতে
যায় না কি মিশে এক জানালায় - ?
বাছুরের লেজ ধরে আধ পা ভিজিয়ে যে বৌ’টি
প্রতীক্ষা করে চলে ভোরের সে ক্ষণ –
পারে নাকি, সবকিছু মন থেকে মেনে নিয়ে,
প্রাচীন এ ভারতের অনন্ত আত্মা’র সাথে মিশে যেতে !
কত মন আর কতো লক্ষ্য নিয়ে আসে সব
সে কি কেউ জানে নাকি - ?
যে বৃদ্ধ শুধু সংসারের বোঝা হয়ে এসেছে এখানে –
অথবা বুড়ি শ্বাশুড়ি মা –
যে সারাদিন খুঁটে খায় গঞ্জনার গাল,
তার সব জানে তো – ? পুণ্যের অবিশ্রাম খেলা।
ভোর হ’লে স্নান সেরে খোঁজে কেন তবে –
প্রিয়জন আর চেনা মানুষের, স্পস্ট সে মুখ ?
অগনন মানুষ-মানুষী হিম পড়া রাতে –
খুঁজে চলে পুণ্যে’র পূর্নিমা,
অবিশ্রাম, অন্তহীন।
সব চিন্তা, সব লক্ষ্য এত ভীড় ভরা রাতে
যায় না কি মিশে এক জানালায় - ?
বাছুরের লেজ ধরে আধ পা ভিজিয়ে যে বৌ’টি
প্রতীক্ষা করে চলে ভোরের সে ক্ষণ –
পারে নাকি, সবকিছু মন থেকে মেনে নিয়ে,
প্রাচীন এ ভারতের অনন্ত আত্মা’র সাথে মিশে যেতে !
কত মন আর কতো লক্ষ্য নিয়ে আসে সব
সে কি কেউ জানে নাকি - ?
যে বৃদ্ধ শুধু সংসারের বোঝা হয়ে এসেছে এখানে –
অথবা বুড়ি শ্বাশুড়ি মা –
যে সারাদিন খুঁটে খায় গঞ্জনার গাল,
তার সব জানে তো – ? পুণ্যের অবিশ্রাম খেলা।
ভোর হ’লে স্নান সেরে খোঁজে কেন তবে –
প্রিয়জন আর চেনা মানুষের, স্পস্ট সে মুখ ?
মাইকে ঘোষনা চলে –
নিরুদ্দেশের পাল তুলে চোর চোর খেলা।
অবিশ্রাম –
সাগরের ঘোলা জল পারে এসে পড়ে –
খুঁজে ফেরা চোখগুলো তাকায় সাগরে।
২৪শে জানুয়ারি, ২০১৫
#
আত্মহনন –
আত্মহনন –
কেন মরে যায় সব –
অকালঘুমের ডাক এত তাড়া দেয় না কি - ?
কার্তিকের ফাঁকা ক্ষেত - পোকামাকড়ের ছোটাছুটি
দ্যাখে আর হাত নেড়ে ডাকে না কি - ?
সবুজ শস্যের মাঠ ফাঁকা হলে পরে,
রাত জেগে কেন বোনে ঊর্ণনাভ, জাল –
আকন্দের ডাল থেকে ডালে।
ফাঁকা ক্ষেতে, হেমন্তের চাঁদ ঢাকা অদ্ভুত আলোয়।
কেন তাই -
সবার অজান্তে, আত্মচেতনার এক নিস্তব্ধ মুহূর্তে হয়তো বা -
হয়তো বা, - সব কিছু চিন্তার সূত্রগুলো,
অঙ্কের বইয়ের শেষ পাতাদের মত –
খুলেও দেখেনা এরা - ,
মন আর মননের সমষ্টিফল –
মেলে কি না !
জীবন তো স্বাদ বদলায় প্রতি বাঁকে।
প্রতি বাঁকে চিনে নেয় আজন্মলালিত চিন্তার বিপরীর স্রোত সব।
তবু কেন, তবু কেন এমন আকাঙ্খার ঢেউ –
ফিরে ফিরে আসে আমাদের চৈতন্যের চারপাশে,
অবিরাম।
অবিরাম বয়ে যায়, ফল্গুনদীর মতো বিপন্ন চিন্তার অগনন চোরাবালি।
ঘড়ির সে টিকটিক শব্দ করা পেন্ডুলামের অবিশ্রাম দোলার মতন।
অকালঘুমের ডাক এত তাড়া দেয় না কি - ?
কার্তিকের ফাঁকা ক্ষেত - পোকামাকড়ের ছোটাছুটি
দ্যাখে আর হাত নেড়ে ডাকে না কি - ?
সবুজ শস্যের মাঠ ফাঁকা হলে পরে,
রাত জেগে কেন বোনে ঊর্ণনাভ, জাল –
আকন্দের ডাল থেকে ডালে।
ফাঁকা ক্ষেতে, হেমন্তের চাঁদ ঢাকা অদ্ভুত আলোয়।
কেন তাই -
সবার অজান্তে, আত্মচেতনার এক নিস্তব্ধ মুহূর্তে হয়তো বা -
হয়তো বা, - সব কিছু চিন্তার সূত্রগুলো,
অঙ্কের বইয়ের শেষ পাতাদের মত –
খুলেও দেখেনা এরা - ,
মন আর মননের সমষ্টিফল –
মেলে কি না !
জীবন তো স্বাদ বদলায় প্রতি বাঁকে।
প্রতি বাঁকে চিনে নেয় আজন্মলালিত চিন্তার বিপরীর স্রোত সব।
তবু কেন, তবু কেন এমন আকাঙ্খার ঢেউ –
ফিরে ফিরে আসে আমাদের চৈতন্যের চারপাশে,
অবিরাম।
অবিরাম বয়ে যায়, ফল্গুনদীর মতো বিপন্ন চিন্তার অগনন চোরাবালি।
ঘড়ির সে টিকটিক শব্দ করা পেন্ডুলামের অবিশ্রাম দোলার মতন।
সব কিছু থেকেও তো সব কিছু থাকে নাকি আমাদের চিন্তার ভেতরে !
ফাঁকা ক্ষেতে ছুটে যাওয়া সেই সব ইঁদুরের মতো।
২২শে জানুয়ারি, ২০১৫
#
তোদের দুজন’কে -
তোদের দুজন’কে -
জীবন নিয়ে ভাবিস কেন তোরা –
এমন করে কেউ কি ভাবে আর ?
জাত বেজাতের অঙ্কে ভরা দেশ –
সুযোগ লোফে সবাই বারম্বার।
দেখ না চেয়ে,সুজন আছে কই –
বাক্যবাগীশ ভরা এখন দেশ।
চিড়িয়াখানা এখন পাবি পাশে –
স্বপ্ন এতো দ্রুতই হবে শেষ ?
নিজের খুনে রক্তে ভরিস বুক –
এমন বোকা রইলি কেন তোরা ?
ধম্মো এখন শুকনো পাতাময় ;
খবর এখন বাণিজ্যেতে মোড়া।
শিরদাঁড়া যে বেঁকেই গেছে কবে,
তাদের মাঝে তোরাই মরুদ্যান-
আশার আলো তোদের জন্যে জ্বলে –
বাকিরা সব বটের তলে থান।
“জাতের নামে বজ্জাতি” তো কবে –
বলে গেছে এইতো সেদিন, কবি।
তবু তোরা এমনি করেই কেন ?–
আঁকলি মনে নিজের ছায়াছবি।
একজন তো চলেই গেলি দূরে,
পুষে রেখে নিজের অহংকার।
আরেকজনা ফিরলো সবে ঘরে –
তাকে নিয়েও উক্তি কতো আর !
আবার যদি স্বাধীনতার ডাক –
দেয় যদি কেউ, পোড়া দেশে আর -;
তখন না হয় এগিয়ে আসিস তোরা
খুলতে আগল এই দুখিনী মা’র।
২১শে জানুয়ারি, ২০১৫
#
শব্দের সুর -
শব্দের সুর -
চারদিক শুনশান,
উত্তুরে হাওয়ার শব্দ শুনি –
এই শীতের অলস দুপুরে।
শহর ছেড়ে গ্রামের ধানক্ষেতে
একা একা বসে,
শুনে যাই অবিরত শব্দের কুঁড়ি -
কেমন করে ফুল হয়ে ওঠে।
পাপড়ি মেলা’র কি শব্দ হয় !
হলে তা কেমন - ?।
সেকি, অপু’র কানে লাগা রেলের সিগন্যাল !
লাল থেকে সবুজ, সবুজ থেকে লাল।
ভয় করে,
খুব ভয় করে - যদি,
বধিরতা কেড়ে নেয় আমার শ্রবণ।
তুমি কতো দূরে চলে যাবে ঢের !
হারাতে - হারাতে - হারাতে চলে যাবে দূরে।
বধিরতা উপছিয়ে –
শহরের শব্দ যতো ঘিরে নেবে সুর,
আমার সব নির্জনতা !
২০শে জানুয়ারি, ২০১৬
#
যদি ভাবি -
রাজনীতি মানে মন মুখ দূরে রাখা –
এমন কথা কি ভাবা গিয়েছিল আগে ?
ইতিহাস শুনি নিজের খেয়ালে চলে –
পুরাবিৎজন ? সব এক, - অনুরাগে।
ছোট থেকে পড়ি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা,
রাজা প্রজা কবে এক হয়েছিল শেষে – ?
হয়ত তখনো আসেনি কামারশালা,
চকমকি ঠুকে পাথর জ্বলতো দেশে।
শিকার শিকার খেলার ছলেই শুধু,
“ক্ষুধার রাজ্যে” “ঝলসানো রুটি” কই !
কত না শিকার আগুনে ঝলসে ভোজ,
যৌথখামার এ দিন-রাত আসতোই।
শব্দেরা সব জংগলে মিশে ছিল,
শুরুই হয়নি অক্ষরমালা গাঁথা।
পরিবেশে ছিল বুকটা ভরানো শ্বাস,
পৃথিবী’র সীমা জুড়ে ছিল চার মাথা।
মতবাদ ছিল গোপন গুহার খাঁজে
স্বাধীনতা মাখা রৌদ্র ভরানো দিন।
প্রথাগুলো সব আসেনি পাতার ঘরে –
গোল চাঁদ ছিল আকাশেতে, বাধাহীন।
কালো রাত আরো কালীমাখা হয়ে ছিল,
নীলচে আকাশ, বেগুনী’র দিকে মেশা।
না-মানুষ যতো, ফল মূল পাতা খেয়ে –
কাটাতো জীবন, ছন্দে ভাসাতো ভাষা।
সভ্যতা এলো পাতা ছাওয়া ওই ঘরে –
এক একটি করে কতো না আবিস্কার !
শুরু হল সেই, গিনিপিগ নিয়ে খেলা,
বিধাতার দান, ভেঙে হল চুরমার।
পৃথিবীর ম্যাপ ছোট হতে ছোটতর,
শিকারের সাধ, প্রয়োজন দূরে ফেলে –
দাঁত মুখ নখ নব নব অভিসারে,
আগাছার মতো দ্রুত ওঠে মাটি ঠেলে।
মুখে এলো বুলি, তারপরে অতএব ;
কথা আর কাজে ফারাক বাড়লো ক্রমে,
জ্ঞান নিয়ে এলো বিজ্ঞান, সাথে সাথে –
পেশীর শক্তি ইস্পাতে এসে থামে।
মতবাদ আজ চারদিকে থই থই –
যমুনা’র জলে কাদা ঘাঁটে রাজহাঁস।
অরণ্য আজ চুপিচুপি শ্বাস ফেলে,
বরফচূড়ায় পাপ জমে বারো মাস।
কলিকাল চলে রাজনীতি সম্ভোগে,
নেশা আজ নেমে পেশাতেই ক্ষুরধার।
“অপরে পাওনা আদায় করেছে আগে –”
আমরা হচ্ছি মুখ বুঁজে দেনাদার।
এমনি করেই বিপ্লব ভেসে যায় –
মতবাদ আর মুখোশের খাল পথে,
তার চেয়ে এসো “আমরা সন্ধি করে,”
দড়ি টানি চলো স্থাপিত কোনার্ক রথে।
যদি পারি দিতে রথের চাকায় গতি –
যদি নিয়ে যাই সাগরের মোহানায়,
তবে যদি মেলে যতো মত তত পথ ;
পেয়ে যাবো স্বাদ, আগামীর কিনারায়।
১৮ইজানুয়ারী, ২০১৬
#
দূরে -
এমন করে এড়িয়ে গিয়ে থাকছো দূরে –
আমার মনের অচিন পুরে।
সেইতো কবে সন্ধ্যেবেলায়
ডেকেছিলে তোমার খেলায় –
সঙ্গোপনে।
সেদিন আমি যাই নি বলে –
এতই দূরে গেলে চলে ;
আমায় ফেলে ?
মন মজানো দুপুর বিকেল,
গড়িয়ে গিয়ে, হারিয়ে গিয়ে –
অলস আমি, তোমার ছবি
বুকের ভেতর বারংবারে –
চলকে ওঠা।
ফুল না ফোটা –
অবুঝ কুঁড়ি।
ফুটতে যে চায়, পায়না সময় –
ফুটে ওঠার !
সন্ধ্যে নাকি ভোরের বেলা ? –
গহন রাতের শিশির নিয়ে -
কখন যে তার পাপড়ি মেলা –
খুঁজেই চলে ছোট্ট কুঁড়ি।
তেমনি করে সময় খুঁজে,
আমার বুকে মুখটি গুঁজে –
আসবে কবে ?
সেই সে দিনের, কৃষ্ণখেলা –
মাঠেঘাটে ফুল সাজিয়ে,
বনফুলের।
তোমার গলার সাতটি সুরের
আভাস দিয়েই না হয় যেয়ো-
আবার দূরে,
আমার থেকে।
এমনি করেই চাওয়া পাওয়া,
চলতে থাকুক আসা যাওয়া –
তোমার মনে।
আমি না হয়, অপেক্ষাতে –
কাটবে সময় দিনে রাতে,
উথাল পাথাল !
ঘরের কোণে –
সঙ্গোপনে
তোমার মায়ায় !
১৮ই জানুয়ারী, ২০১৬
#
শীতের শহরে -
শীতের দিনে হঠাৎ এলো
বসন্তের হিল্লোল –
বকুল বনে বনে সুগন্ধী মৌতাতে
মাতাল হাওয়ার আসা-যাওয়া।
যদি এখনি, ভরা কোটালের বানের মত,
আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে –
এই শহরের কালো কালো রাস্তায়
অথবা শহরের সবুজ ডালে ডালে –
তাহলে আমি ভিজব আকণ্ঠ – এই
শীতসন্ধ্যায়।
তোমার সজল শীক্ত কালো বিনুনি থেকে
বৃষ্টিস্নাত জল পড়বে টুপ টুপ...
শীতের শুকনো পাতার ওপর।
অবিরল তার ঝরে পড়ার শব্দে
আবেগে সোহাগে মাখামাখি হয়ে
আহ্লাদে অবসাদে ভরে যাবে আমার শরীর...
চারদিকে এই বিস্ময়ের ভীড়ে
আবার চাইব সোনা রোদের গান।
শীতের সেই সব দিনে
মহূল ফুলের ঘ্রাণে মিশে যাওয়া –
অলস উদাসী সন্ধ্যেবেলা,
ছড়াবে আকুল গন্ধ –
একমুঠো ভালবাসার।
রাত নামবে শহরে।
১৭ই জানুয়ারী, ২০১৬
#
এসো তুমি -
এসো তুমি -
আচম্বিতে এসো একবার –
স্পর্শে ভরাতে মুখ ;
চারপাশ বড়ো ফাঁকা হয়ে আছে।
নোনা আর কটু স্বাদে ভরে আছে ঠোঁটের পাপড়িদুটি।
একটু পালক-স্পর্শের জন্য কতদিন আমি –
অনাদরে আছি অপেক্ষায় !
দাউ দাউ করে জ্বলছে সব।
লেলিহান শিখায় পুড়ে যাচ্ছে আমার সত্তা, আমার সবকিছু।
একটু প্রেম দাও আমায় –
দুহাত তুলেই নাহয় নাচি, তোমার সাথে।
আঙুলে আঙুল জড়াই –
মাধবীলতার মতো ফুটে উঠি পুনর্বার।
একটা কিছু চাই –
জড়িয়ে ধরে শান্তিতে ঘুম।
অসহায় হয়ে আছি !
...সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর চলে গেছে কবে ! –
সাথে সাথে চলে গেছে বাবা-মা-দাদু-দিদা’রা,
বাকি রয়ে গেছে কলি, আর –
আমাদের মত কলি’র রাধাকেষ্টজনে।
একটু প্রেম দাও –
একটা চুম্বনে’র স্পর্শে ভরে উঠুক –
আমার অসহায় ক্রান্তিকাল।
একবার এসো, এসো একবার প্লীজ ;।
গৌতম দত্ত
১৫ই জানুয়ারী, ২০১৫
(মায়াজম ব্লগের জন্য)
#
মাঝরাতে একা -
মাঝরাতে একা -
মাঝরাতে যদি ঘুম ভেঙে যায় –
তখন যেমন একাকী,
তেমনই কি সারাটা জীবন ধরে –
মহাপ্রস্থানের পথে,
হেঁটে যাই আমরা সবাই।
পাশে শুয়ে থাকে যারা,
মা, বৌ, ছেলে বা আর কেউ কেউ –
তারা কি দিয়েছে কিছু ?
দিতে কিছু পারে কি, তারা ?
অনুভবে ভরে দিতে পারে – ?
রাতের তারা ভরা আকাশের কালো স্বাদ !
তবে কেন আমাদের এই মিছে ছলাকলা !
কেন এত সবকিছু – যা আমার নয়।
সারাদিন ধরে অবিচল শিল্পীত অভিনয়।
চেতনার খাঁজে খাঁজে বয়ে যাওয়া ক্লেদভরা রক্তের হিল্লোল।
আকাশেই আলো ফোটে।
স্থির সত্য, জানি।
সন্ধ্যের আলো আমাদের হাতে গড়া –
প্রকৃতির নিজস্ব ক্যানভাসে দুর্বৃত্ত কোদাল।
লাঙল হারিয়ে যায় সূর্যাস্তের গোধুলি মায়ার ভীড়ে।
হারায় না কনে দেখা আলো –
মায়াময় পশ্চিম আকাশে।
বহতা নদীর জলে খেলা করে প্রাণীকূল।
আকন্দ, ধুতুরা’র ফুলে খেলা করে মাছি।
শ্যাওলা’র ভেজা গন্ধে ভরে ওঠে জলা।
ঋতু বদলের খেলা চোখে ভাসে।
চরাচর বর্ণময়।
এই আছি বেশ।
মাঝরাতে একাকী, ঘুমচোখে –
১৪ই জানুয়ারি, ২০১৬
#
“দেখি মুকুটটা তো পড়ে আছে - রাজাই শুধু নেই” -
আরো কতোকাল নীরবতা মাখা মুখ,
শ্বেত পৃষ্ঠায় আঁকিবুকি মুছে দেবে -
তুলি’র আঁচড়’ও বিলায়িত অক্লেশে ;
কলিযুগ নাকি এভাবেই পথ ছোঁবে।
কতো না সংজ্ঞা, নানারূপে বহমান –
যুক্তির জালে ম্রিয়মান নানা প্রথা,
উটপাখী শুধু লুপ্ত’ই নয় আজ –
স্মৃতি’র পাতায়ও অরাজক দৈনতা।
ক্রান্তি’র চাকা দ্রুত রসাতলগামী,
এমন কথা তো, ছিল নাকো ব্যাকরণে।
কতো না যুগে’র সভ্যতা ছুঁয়ে এসে –
বৈদিক মন, হারালো কোথায় ? কে জানে !
সারা পৃথিবীটা ছন্দে গাঁথবে মালা –
সব সীমারেখা উপড়োবে একটানে ;
একটি গ্রামের একটি মোড়ল দেবে –
যত কিছু আশা, বেঁচে থাকবার মানে।
এমন স্বপ্ন দূরাগত কোনো দিনে –
দেখা যেতে পারে বলেছিলে এক জন,
সব মানুষেরে এক গ্রহ এক জাত - !
কি জানি কিভাবে জুড়ে যাবে এত মন।
সুজাতা বানানো পরমান্নের স্বাদে –
জাতক এসেছে ফিরে ফিরে বার বার ;
নিমাই-চরিত হয়নি তো তবু শেষ,
কেউ তো বাঁধেনি তাঁর স্বপ্নের তার।
হাজারো প্রাণের সংবেদ ধ্বজা তুলে –
একীভূত হয়ে কিভাবে গাইবে গান।
বহুমুখী যতো হীনমতি সংবেশ ও,
যদি মেশে, তবেবিনাশিত বীজধান।
সৃষ্টি ব্যহত নব নব ধারাপাতে,
অশুচি হয়েছে “প্রাকপুরানিক”-বাদ ;
পথ যে এখনো গোলোকধাঁধায় ঘোরে –
ছদ্মতাপসে বিকশিত সব সাধ।
রাজা চলে গেছে মুকুটটা পিছে ফেলে –
জনগনে খোলে মুকুটের মণিরাজি।
বোধহীন পলে মঞ্জিমা দূরীভূত –
ফিরবে কি আর ফুলে ভরা সেই সাজি ?।
৬ই জানুয়ারী, ২০১৬
#
স্বাগত ষোলো -
স্বাগত ষোলো -
আবার আগত নতুন বারোটি মাস,
চাঁদ গ্রহ তারা এ’কি ভাবে যাবে দেখা –
রাতের আকাশ মুছে যাবে নাকি রোজ ?
আগামী সকাল হবে তো স্বপ্নে মাখা ?
কি জানি তবুও, কাটেনা মনের ভয় –
বেড়ে যাবে নাতো ! অশরীরী উৎপাত ?
সকালের চা, লাগবেকি তেতো, জিভে -
ভালোয় ভালোয় কাটবে তো দিন-রাত ?
চারিদিকে নাকি সমাজ-বিরোধী সব,
এরা কি হঠাৎ পাখা মেলে নেমে এলো -?
মনেতে অনেক প্রশ্ন রয়েছে জমা,
জবাব কে দেবে ? সবকিছু এলোমেলো।
রঘু ডাকাতেরা ছিলো তো, এ পোড়া দেশে –
শোনা তো যায় নি, একালের মতো পাপ।
রাজা-রাজড়া’রা ক্ষতি করে গেছে শুধু –
কতো জমিদার, করেনি খাজনা মাপ !
কিছু কি হয়নি ? তাদের শাসন কালে –
আচ্ছা, সে কথা, মেনেই নিলাম তবে।
শত্রু’র ভয় ! ছিলো তবু অন্তঃত –
আজ রাজনীতি মিলিয়ে দিয়েছে সবে।
এসেছে কতো না, নবতর মতবাদ,
কোন মতে পাবো ?সুস্থ জীবনে বাঁচা–
ইতিহাস নাকি হয় নি কো লেখা, আজো,
ভারতের গ্রামে এখনো রাস্তা কাঁচা !
মেয়েরা এখনো লোলুপ শিকার শুধু –
লেখাপড়া শিখে মাথা নিচু করে চলা।
দাদা’দের বাড়ি বাজারও পৌঁছে যায় –
আমাদের তরে ভাষণের ছলাকলা !
সব নেতাই তো আমাদের কথা ভাবে -
ইচ্ছে কি হয় ? বাসে ট্রামে চড়বার।
দিনের ঘন্টা চব্বিশে আছে বাঁধা ;
সময় কোথায় ? চারদিকে তাকাবার।
মঠ, মসজিদ, গির্জায় ও ছাড় নেই –
স্থল, জল, রেল সবেতেই আছে ওরা –
খনার বচন এখনো কি কথা বলে ?
জ্বালা শুধু বোঝে যার ঘরে হয়, তারা।
অভিযোগ যদি কখনো বা কেউ করে,
শরীরে আঁচড় আরো বেড়ে যায় দ্রুত।
বিচারের নামে খবরের পাতা বাড়ে –
লোলুপ দৃষ্টি খুঁজে ফেরে ছবি কতো !
এরাই তো আজ সমাজের সব মাথা –
“জোঁকসম শোষা” মহাজন আজো আছে।
স্বাধীনতা ক্রমে প্ল্যাটিনাম ছুঁতে যাবে –
কারো আছে তাপ ? এভাবে বিবেক বাঁচে ?
তাই তো ভাবনা আগামী দিনের কাছে,
হবে তো সকাল ? ফুটবে তো তবে, যুঁই ?
পাবে কি নেতাজী ? মুক্তি ? ফাইল থেকে ?
হাতে গড়া দল’ও, বলেনাতো কিচ্ছুই।
আশা রাখি তবু, আগামী দিনের কাছে –
মনে মনে আঁকি যুদ্ধ শেষের ছবি।
নীলবর্ণের একজন ও যদি আসে –
লিখবেই গান, গাছে বসে এক কবি।
আবার হয়তো কোনার্ক চূড়োয় রঙ,
ছড়াবে নিমেষে পূবের আকাশ থেকে –
নিমাই-বুদ্ধে মিলেমিশে যদি আসে,
ঘন্টা, আজান শুনবোই হাসি মুখে।
সেই সুরে সুরে গাইবে আবার পাখী –
ঝর্নার জলে রামধনু দেখা যাবে -
প্রজাপতি পাখা মেলবেই, উচ্ছাসে, -
আমরা আবার মিলবোই উৎসবে।
৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৫
#
ফেসবুক –
ফেসবুক –
কত গল্প কত গান
বহে চলে দিনমান
কেটে যায় অনেক সময়।
এক থেকে বহু হয়
ব্যাপ্তিতে কাটে ভয়
কত চেনা কত পরিচয়।
সাদা লেখা কালো লেখা
কত ভাবে ছবি আঁকা
সারাদিন ছোটাছুটি কত !
ছোট বড় মেজ সেজ
দিনভর কত কেজো
মোবাইলে হাত শুধু চলে।
কতো কবি কতো ছবি
মাঝে মাঝে তাই ভাবি
এত কিছু ছিল সাপ-ঘুমে।
পেন পেন্সিল যতো
সবকিছু আজ গত
কি-বোর্ডে ব্যস্ততা নামে।
এরি মাঝে শত শত
প্রেম প্রেম খেলা কতো
শুরু হয়ে অচিরে মিলায়।
তবে কিছু প্রেম মেলে
বোঝা যায় চিঠি এলে
কব্জি ডুবিয়ে চলে খাওয়া।
শোক তাপ দুঃখ ব্যথা
ছোটো ছোটো এটা ওটা
সব কিছু এ পাতা’য় চলে।
যত টীকা ততো দাম
সংখ্যাতে গুণমান
সারাদিন দেখাশোনা চলে।
কত দল উপদল
দেশে দেশে চলাচল
কত কিসিমের কতো লোক।
কেউ নিজে নিজে কবি
কেউ আঁকে জলছবি
সবাই যে আগে যেতে চায় !
কেউ কেউ ধরে ফেউ
জনে জনে ঘেউ ঘেউ
‘ইন্বক্স’ ভরে ভরে যায়।
কত কিছু জানা হয়
কত শত পরিচয়
জমে ওঠে পাতায় পাতায়।
শ্লীল নাকি অশ্লীল
পন্ডিতে আঁটে খিল
সারাদিন টীকা লেখা চলে।
সারা পৃথিবীটা হাতে
ইঁদুরে’র চাপে মেতে
দিনরাত এক হয়ে যায়।
একাকীত্বের বোঝা
তাড়াতেই চলে খোঁজা
কত রঙ মিলেমিশেযায়।
এরি মাঝে কাদা ছোঁড়া
একে তাকে গাল মারা
চুপি চুপি কত খেলা চলে।
তবুও তো কত কিছু
শেখা যায় আগু পিছু
ইঁদুরের চাকা দ্রুত চলে।
দুধে জলে মিশে আছে
তার থেকে দুধ বেছে
খেতে হবে এই কোলাহলে।
২৭শে নভেম্বর, ২০১৫
#
আমার তুমি -
আমার তুমি -
সবকিছু হারালেও এই তুমি -,
থাকবেই জানি,
আমার বুকের শিক ঘেরা জানালায় –
ছোপ ছোপ পর্দায়।
জানি, যা কিছু সমর্পন তোমার,
সবটাই ঘিরে আছি আমি।
বনফুল ফুটে থাকে কতো অজানায়।
বুনোগন্ধের রেশ ছড়ায় হাওয়ায়।
সব পাখী গান গায় -
সুরে সুরে মিলে যায় হেমন্ত প্রান্তর।
ধান-কাটা মাঠে, গুছি গুছি ধান-গোড়া
থাকে অপেক্ষায়- আসছে শীতের।
সব কথা হয়ে গেছে বলা -
সোনালী ধানের।
কত দুধ জমে আছে শীষের ভেতর –
শুকোবার আকাঙ্খায়,
আমাদের মুখে তুলে -, তুলে দেবে বলে।
এতদিন তুমি ছিলে,
ধানের শীষের দোলা – হেমন্তের ক্ষেতে।
শিশিরের টুপটাপ,
দোয়েলের ঠোঁট – সবকিছু মেনে নিয়ে,
আদরে, আবেগে, প্রাণে –
মাঠভরা খোড়োফুল মাথা নেড়ে দোলে,
সারাদিন, তোমারি মতো –
রান্নাঘর, বারান্দা আর ঘরের ভেতর –
তোমার বরাদ্দ সীমা, দন্ডীর প্রান্তরে,
যা কিছু বেঁধেছি আমি -
কাল হতে কালে।
কি করে সাজিয়ে রাখো পলাশের ক্ষেত ?
কত কিছু অভিমান জমিয়ে জমিয়ে বুকে –
বহতা স্রোতের মতো,
দূরে ঠেলে সব কিছু –
ভালবাসা রেখে যাও শরীরী আবেগে।
১৭ই নভেম্বর, ২০১৫
#
ডাক -
ডাক -
কতদিন অপেক্ষায় আছি।
শেষ কবে ডেকেছিলে সোহাগী গলায় -
মনেই পড়ে না আর।
পঁচিশ বছর হলো। তাই না গো ?
তখনো আকাশ ছিল, ছিল গাছপালা -
মাধবীলতার লতানে গাছটা -
উঠেছিল দড়ি বেয়ে ছাদে।
থোকা থোকা সাদা ফুল বিকেলবেলায় -
গন্ধ ছড়াতে ছড়াতে লাল হয়ে যেত।
এজমালি সংসারে ঠং ঠং টুক টাকে,
গড়াত বিকেল।
অফিস-ফেরত আমি দূর থেকে দেখতাম -
জানলার কালো শিক -
ধরে আছে তোমার অজানা ভয়ের সান্ত্বনা।
কখন ফিরবো আমি !
অফিসের পরে -
কত কিছু আসক্ত জীবন।
তুমি সেই একা -
মাঝে মাঝে ঝড় কিংবা বৃষ্টির সাথে দেখা।
অপেক্ষার বাঁধভাঙা সময়
দ্রুত ছুটে যেত।
রাত বেড়ে যেতো রোজ।
তারপরে ঘরে ফিরে -
ঘামে আর ক্লান্ত শরীরে,
কলিং বেল।
তোমার সে চাউনিতে ঝরে পড়া –
একরাশ প্রশ্নচিহ্ন।
কোথায় হারালে সেই সব দিন গুলো ?
চোখে চোখে রাখা সবকিছু – কি ভীষন ভয়ংকর সত্য ছিল।
তবে আজ কেন, উদাসীন কথকতা ?
নির্দিষ্ট রুটিন মাফিক সদর খোলা –
তারপর সিরিয়ালে ডুব।
তৃষ্ণায় জোটে শুধু এককাপ চা।
আদরখোয়ানো।
ঘোলা জলে চান করা যেন !
কবিতারা চলে গেছে –
আমাদের মন ছেড়ে।
“অলির ও কথা শুনে বকুল”ওতো –
হারিয়েছে মুঠো-ফোনে।
রাত ও কি চলে গেল দূরে -
সকালকে কাছে এনে দিয়ে।
দুজনের বয়স’কে নিয়ে ?
৭ই নভেম্বর, ২০১৫
#
অধরা -
তোমাকে দেখেছি আজ, হাতিবাগানের মোড়ে, সন্ধ্যেরআঁধারে-
আলো জ্বলে গেছে সব চকিতে’ই পদ্ম ফোটে স্মৃতির ভেতরে।
তোমার মুখের রেখা, আবছায়া হয়ে গেছে, তবুও হঠাৎ
একঝলকের আলো, মুঠোর ভেতরে এলো -, এলো অকস্মাৎ -
ট্রামের জানলা দিয়ে পড়লো আমার চোখে ? মাথার ভেতরে
একরাশ পলাশের ছবি। রামধনু-রঙী মেঘ, দুহাতে সরিয়ে –
সন্ধ্যের আকাশ নীল। চারদিকে তারাবাজী, চোখ কচলিয়ে -
আর নেই সেই মুখ। কোথায় যে গেলে চলে ? দূরে – অজানায়,
মলিন বেহাগ বাজে -, শুরুতেই ঝাঁপতালে, আবার আশায়।
তোমাকে দেখেছি আজ, হাতিবাগানের মোড়ে, সন্ধ্যেরআঁধারে-
আলো জ্বলে গেছে সব চকিতে’ই পদ্ম ফোটে স্মৃতির ভেতরে।
তোমার মুখের রেখা, আবছায়া হয়ে গেছে, তবুও হঠাৎ
একঝলকের আলো, মুঠোর ভেতরে এলো -, এলো অকস্মাৎ -
ট্রামের জানলা দিয়ে পড়লো আমার চোখে ? মাথার ভেতরে
একরাশ পলাশের ছবি। রামধনু-রঙী মেঘ, দুহাতে সরিয়ে –
সন্ধ্যের আকাশ নীল। চারদিকে তারাবাজী, চোখ কচলিয়ে -
আর নেই সেই মুখ। কোথায় যে গেলে চলে ? দূরে – অজানায়,
মলিন বেহাগ বাজে -, শুরুতেই ঝাঁপতালে, আবার আশায়।
জলাভূমি বুঁজে যায় প্রোমোটারী ঈশারায়, চারিদিকে জঞ্জালের স্তুপ -!
হৃদয় কি গেছে ছিঁড়ে ? শহুরে জীবন ঘিরে-, এতো কেন প্রেমহীন মুখ ?
৪ নভেম্বর, ২০১৫
#
জন্মের সুর -
দু-পাহাড়ের মাঝে এক কুমারী-জঙ্গলের যেদিন দেখা পেলাম,
কি দারুন অনুভবে –
রক্তে রক্তে শিহরিত অন্তরাত্মা।
পূব দিগন্তের টকটকে লাল সূর্য -
এখন আমার হাতের মুঠোয় !
হাত রাখলাম ঘাসে –
নরম, পেলব, কোমল ; চারিপাশে –
আরো কতো কিছু !
সে জঙ্গলে ঢাল ছিল, –
অন্ধকারের রূপ ছিল কত।
কি এক সুগন্ধ ভাসছিল মন কেমনের মতো - হাওয়ায় হাওয়ায় !
মুখ রাখলাম ঘাসে, –জন্মভুমির শিশিরভেজা শ্বাসে -
পথে পথে ছড়ানো বিস্ময়।
আমার হাতের স্পর্শে, ঠোঁটের আকুল ছোঁয়ায় -
জঙ্গলের ঘাসে ঘাসে উন্মাদ শিহরণ।
হাত আর মুখের স্পর্শে ঘাস সরে যায় – দেখি
গুপ্ত এক নদীপথ ; অজানা আশ্লেষে বলে
এসো, পবিত্র করো আমার এ উৎস মুখ –
এখানে প্রবেশ ক’রো, বিদ্ধ ক’রো -
জন্ম দাও আগামী পৃথিবীর এক উজ্জ্বল উদ্ভাসিত সুখ।
৫ই নভেম্বর, ২০১৫
#
তোকে চাই -
তোকে চাই-, চাই আমি বারবার –
তুই শুধু একান্ত আমার।
আর–তোর, ওই ঠোঁটেলাগামধু,
বিকেলে নরম আলো অথবা বর্ষার মেঘ ঘনকালো –
বৃষ্টির ছাঁটের জলে, কিংবা ভোরে কুয়াশায় অনুভবে।
নরম নরম বুকে পৃথিবীর সব শোভা এসে থামে।
কোমর ছাপানো চুল, আর কোমরের ওঠানামা –
দেখতে দেখতেই ছোট হয়ে আসে চোখ, ফোকাসের বাড়া-কমা।
এভাবেই চলে যাবে সারাটা জীবন।
অগোপন সব দেখা আর না-দেখা গোপন লুকোচুরি –
চিচিং ফাঁকের শব্দ’রা কারিকুরি মাখে -
অপরাজিতা ফুল- উল্টেই ফুটে থাকে।
সাদা, নীল, বেগনীর রঙে মেলে দিয়েতোর সেই অগোপন রূপে-
পৃথিবীর সব আলো যায় নিভে, তোর সে গোপন আল্জিভে।
তবুও তো তুই, আমার স্বপ্ন-আলো, আমার সব কিছু সাদা কালো –
মেশাবোই তোর মাঝে, তোরই মাঝে বেঁচে থাকা ভাল।
৫ই নভেম্বর, ২০১৫
#
অস্থির সময় -
পুনরায় যেন চেতনাতে হাহাকার,
অনুমিতি পাই শ্বাপদের চলাফেরা –
দিনরাত ক্রমে ছোট হয়ে আসে ফের,
বোধহীন দেশে একরাশ ওঠাপড়া।
হঠকারী সব দলে দলে বাঙ্ময়,
উটপাখী তবে শুনছে কি কথা আজ !
মনন মেধায় অপরিশীলন ছায়া –
দ্বিচারীতা আনে চতুরালি ভরা সাজ।
বাক্চাতুরীতে এলো বিপ্লব বুঝি !
সত্য লুকোয় লজ্জার নিধুবনে –
উৎপথ তার পূর্ণ পাখাটি মেলে,
সম্মান দেয় যত মুজরিম জনে।
প্রতীতি’র আঁচ মরিচীকাসম ছবি
সহজিয়া আজ ছদ্মতাপস কতো !
মানুষের মন বিষমদে চঞ্চল –
চারিদিকে ঘোরে নানাবিধ ছল ছুতো।
ধর্ষণ রোজই শিরোনাম সংবাদে,
সবুজ ঘাসেতে রক্তের টিপছাপ –
ক্ষমতা আজকে আইন নিয়েছে হাতে,
নিরপরাধীরা ভরাচ্ছে লক্আপ।
অশন-প্রাশনে কে দেবে বিজ্ঞাপন –
সারা দেশে কতো ভুখা মিছিলের ভীড় !
কে আর রেখেছে সেই খবরের খোঁজ,
এক সান্কিতে শত্রুরা দেখি স্থির !
কতো শতকের সুপ্রাচীন নীতিবোধ –
এক ঝট্কাতে ড্যাংগুলি খেলা ক’রে।
পুরোনো সে ছবি কবেই তো হারিয়েছি,
কৃমিকীটদলে মাথা তোলে ধীরে ধীরে।
তবু এখনোতো -, শুনি বিহঙ্গগান,
পূবদিগন্ত রক্তিম রঙে মাতে –
ভ্রমর এখনো ফুলে ফুলে মধু খায়,
নদী ফুলে ওঠে চাঁদ-টানে কোটালেতে।
কবিতা এখনো ছন্দের দোলা দিয়ে,
শিশুদের মতো নেচে নেচে দেখা দেয়।
দরবারী আজ শ্রোতার বিহনে কাঁদে –
বিস্মিল্লার টোড়ি ভাসে সন্ধ্যায়।
উৎকোচ আজ বশীভূত সাধারণে,
দুই নাকি চার, নম্বর হাত্রায় -
আরো কতোকাল যাপিত জীবন নিয়ে,
উদাসীন পথ মিলবে কি মোহানায় ?
২রা নভেম্বর, ২০১৫
#
জীবন-আনন্দ -
তুমি বলেছিলে –
“বয়স বেড়েছে ঢের নরনারীদের,”।
আজ দেখি তাহাদের –
বয়স গিয়েছে থেমে
অকারণে, হিজলের ডাল থেকে নেমে
সেই থুরথুরে অন্ধ পেঁচা,
স্থবির হ-তে, হ---তে,
নীলনদীটির তীরে সেই মৃত মমিদের মতো
চেয়ে আছে শুধু - ।
নির্বাক, নিষ্পন্দ, ভাষাহীন।
চারিদিকে এতো ভাঙাগড়া, এতো উথালপাথাল –
কিছুই পরে না আর তার চোখে।
হাসি গান কান্না শোকের বোধ,
সবকিছু সেদিনের চেয়েও শূণ্য মনে হয়।
জীবনের তরে জীবন গড়ায় শুধু –
শশাফুল থেকে এখনো’তো মধু পায়
মৌমাছি, প্রজাপতি, অসংখ্য কীটেরা।
তবে কেন - ?
এইসব নরনারী আজ –
খোঁজে শুধু নষ্টকীট।
এখন কি প্রেম জাগে এইসব কোমল হৃদয়ে !
চাল-ধোওয়া সাদা হাত বাড়ায় কি কেউ আর ?
চারদিকে, সুন্দর অতৃপ্ত হাহাকার !
তোমার কবিতা থেকে জীবন গিয়েছে চলে –
কতো, ক-তো কুড়ি কুড়ি বছরের পার !
সত্যি কি নিভেছে সূর্য –
কমেছে কি আলো তার ?
তা না হলে দেখি কেন –
কচি মেয়েটির স্বামী সতীদাহ করে আজ,
ঘরের ভেতর –
কেরোসিন ঢেলে গায় ?
নির্জন গীর্জা অথবা কোনো এক লোনাধরা
মন্দিরের পাশে –
প্রায়শই রাতে –
শরীর লুন্ঠিত হয় সেই নরে’দের হাতে।
বয়স কি বাধা মানে তার ?
মানুষী’র তরে আর –
জাগে নাকি মন - ?
শুধু প্রয়োজন ভোগের আসঙ্গলিপ্সা।
টাকা টাকা টাকা !
আর শরীরের টান।
হৃদয় তো খানখান –
পড়ে আছে চিতা তার, একা অন্ধকার।
তবুও তো ফুল দেখি –
হলদে রঙের ফুল ! সবুজ ঘাসের ভেতর !
শিউলির কমলা বোঁটা, এখনো তো ঝরে –
রাত শেষ হ’লে পরে।
যুঁইরজনীতে, গন্ধ তো ছড়ায় এখনো !
তবে কেন ? কেন এতো রাগ ?
কেন এই স্খলিত ভ্রুকুটি ?
একি শুধু অকারণ নীতিখেলা – ?
ভোরবেলা –
পূবাকাশে,
এখনো তো ভাসে লাল টিপ।
টুপ করে ডুবে যায় সাঁঝে –
পশ্চিম আকাশের মাঝে।
ফিরে যেন আসে কবি –
তোমার সে কথামত –
“মানুষের তরে এক মানুষীর গভীর হৃদয়।“
যেন জেগে রয় –
সব পাখীদের গান।
আর
সব মানুষের তরে সব মানুষের –
বাঁচার আহ্বান।
কোজাগরী, ২৫শে অক্টোবর, ২০১৫
#
পন্থা -
কাজের যা কিছু ভাবি, ভাবনার স্তরে খেলা করে শুধু-
লোক ক্ষেপানোর মধু, - জানি নির্বেদ প্রাণের সমাহারে।
চৈতন্যের দুই স্তর, দুধ আর জল মিশে গেলে পর –
রাজহাঁস খুঁজে চলে, মূকভাষে রেখা অজানা অক্ষরে।
রামপ্রসাদের সুর, বহমান এখনো ভাঁটার টানে –
জীবন যায়নি চলে -, আমাদের ফেলে আসা স্মৃতি সব –
নতুন কাঠামো বাঁধে, চরাচরে লাল আলো খেলা করে।
সেই রঙে ঝকমক্ , কতিপয় মানুষের কলরব।
তারা ভেবেছিল যেন, সবকিছু ঋণী তাহাদের কাছে –
রক্তের বদলে রক্ত, মুখে ভাসে, মনে থাকে আরো কিছু,
সন্ত্রস্ততা খোঁজে খাঁজ, গুহার আড়ালে চলে আলোচনা,
কোথা গেল সেই ‘সবে’, যারা ছিল চিরকাল পিছু পিছু।
লোক ক্ষেপানোর মধু, - জানি নির্বেদ প্রাণের সমাহারে।
চৈতন্যের দুই স্তর, দুধ আর জল মিশে গেলে পর –
রাজহাঁস খুঁজে চলে, মূকভাষে রেখা অজানা অক্ষরে।
রামপ্রসাদের সুর, বহমান এখনো ভাঁটার টানে –
জীবন যায়নি চলে -, আমাদের ফেলে আসা স্মৃতি সব –
নতুন কাঠামো বাঁধে, চরাচরে লাল আলো খেলা করে।
সেই রঙে ঝকমক্ , কতিপয় মানুষের কলরব।
তারা ভেবেছিল যেন, সবকিছু ঋণী তাহাদের কাছে –
রক্তের বদলে রক্ত, মুখে ভাসে, মনে থাকে আরো কিছু,
সন্ত্রস্ততা খোঁজে খাঁজ, গুহার আড়ালে চলে আলোচনা,
কোথা গেল সেই ‘সবে’, যারা ছিল চিরকাল পিছু পিছু।
দ্বন্দের মাধুরী যদি,- থেকে যায় শুধু, রূপকল্পনায় –
আকাশ বাতাস মেখে, চলে যাও তবে, দূর দুনিয়ায় !
১৬ই অক্টোবর, ২০১৫
#
জয়তু -
জয়তু -
কতদিন আরও, দ্বিপ্রহরের সুর -
আবছা আলোয় হতাশায় রবে মাখা।
সপ্ততি কাল অমানিশাতেই গেল –
শেষের সে দিন নথিতেই আছে ঢাকা।
ইতিহাস নাকি অকপট বলে বলী,
এমন কখনো প্রমাণ হয়েছে নাকি ?
চাই শুধু জয়, এই জানি শুধু মনে –
যথারীতি সব প্রমান অভাবে মেকী।
শীতঘুমে ছিল তোমার সে ইতিহাস –
কত পাতা তার দহনের তাপে মৃত,
তঞ্চক-মাতা চীৎকারে রাখে পাড়া,
জ্ঞানী গুণী জন লালসায় বশীভূত ?
তোমার সে ডাক আজানের সুরে ভেসে-
প্রবাহিত ছিলো আসমুদ্রহিমাচলে,
ঢেউ উঠেছিল অজানিত সংকেতে,
ক্রোধ নিয়োজিত চাতুর্য কৌশলে।
ছলে বলে শুধু দেশসেবা আয়োজিত –
বাকি সব কিছু পরিকল্পিত ছকে,
গনতন্ত্রের পাথর বাঁধানো চাকা –
রাজধর্ম্মের সুপ্রাচীন ছবি আঁকে।
কত শত দানে ভরেছিলে সেবা ঝুলি
পাই পয়সাতে তোমার অশ্রু মাখা –
সে হিসেব আজ কোথায় হারিয়ে গেল,
হয়তো কোথাও সুদে বেড়ে চলে টাকা।
এবার কি তবে নতুন ভোরের আলো,
ইতিহাসে দেবে তোমার জয়ধ্বনি ?
পারবে তো তুমি, বল্মীক থেকে জেগে –
বাতাসে ভাসাতে নতুন সে আগমনী ?
১৬ই অক্টোবর, ২০১৫
#
রাগ -
রাগ -
বন্ধ কোরো না –
দরজা খানা,
অত জোরে।
না হয় বেশ রেগেই আছো,
আমার ‘পরে।
অফিস থেকে ফিরলে না হয় –
আবার বোকো।
থমথমে মুখ, আরো কঠিন -
তখন না হয় দরজা খুলো।
আমায় দেখে।
শ্রান্ত শরীর, তাকিয়ে দেখেও –
মুখটা না হয় ঘুরিয়ে নিও, -
আমার থেকে।
কিন্তু এখন,
একটু তাকাও -
আমার মুখে।
ভরবে আমার সারা শরীর –
গোপন সুখে।
সারাদিনের একলা থাকা,
জানি আমি –
কেমন ফাঁকা,
লাগে তোমার, দুপুরবেলা।
কিন্তু এ’তো জীবন ধারন।
ওই দুপুরে
আমারো হয় –
মনটা কেমন।
মাঝে মাঝেই।
কাজে কাজেই –
তাইত বলি,
আমার অলি –
কথা না হয় নাইবা বলো, আমার সাথে।
সাত পাকা বাঁধ ক্ষইছে নাকি –
আজকালকার, দুর্বিপাকে ?
হোয়াটস এপের আনা গোনায় –
ফেসবুকেরি জানা শোনায় –
ভাবছ নাকি ? –
মনেক কোনায় জল জমেছে ?
বুঝতে পারি –
তোমার জ্বালা।
সেই কবেকার সতীন-মালা,
আঁকড়ে আছে তোমার বুকে।
অবচেতন খেলছে খেলা –
মা-ঠাকুমার পুতুল বেলা,
মনের চোখে।
যায়নি তারা কোনোখানেই –
সন্ধ্যে হলে রাত নামে যেই,
চতুর্দিকে।
সত্যি করে বলবে আমায় ?
নিজের মুখে ?
অবিশ্বাসের দোলা কেন জাগছে চোখে।
তার মানে এই –
হার’তে পারে, সব কিছুতেই
সেদিনের সেই -
গামছা বাঁধা।
এতই ধাঁধা ?
দুতিন দিনের জীবন জ্বরে ?
চুপটি করে ভাবতে থাকো –
তোমার নিজের মনের ঘরে।
৮ই অক্টোবর, ২০১৫
#
আমি ও মুখোশ -
আমায় চিনি না আমি। এই ভাল,এই মন্দ। সবকিছু ধন্দ মনে হয়।
এই মেঘ,এই রোদ। কেন হয় পাপবোধ ?কেন এত মনের সংশয় ?
মাঝে মাঝে অনেক সময়,এপাশ ওপাশ দেখে কেন ;মন হয়ে ওঠে গাঢ় -
আকন্দের আঠা যেন,কিম্বা ফনী মনসা’র সাদা দুধ বেরোল আবারো।
চলমান ছবি ভাসে মনের আকাশে দ্রুত। ভাঙাগড়া,ওঠাপড়া যত -
নদীর জলের মত,কখন যে কোনখানে,ভেসে যায় ! আমারই মতো।
নোনতা জলের স্বাদ পেয়ে গেছে ভাবীকাল। বন্দুকে উদ্যত হাতগুলো,
তন্ত্রের সাধনা সারে – সংখ্যায় অবিচারে, দ্রুত, সব চেনা মুখগুলো –
গুহার আড়াল খোঁজে। অচেনা মুখোশভাসে – চারিদিকে কালো কালো।
মনের আরাম খুঁজে ঘরে ফেরা দিনগুলো, আজ যেন কোথায় হারালো !
বিকেলের আলো পড়ে শহরে গ্রামে কিম্বা দূর কোন শহরতলীতে –
আমি খুঁজি মুখোশটা, বিপ্লবের কাছ থেকে কত খানি রয়েছে দূরেতে !
৪ঠা অক্টোবর, ২০১৫
(যুগ সাগ্নিক - ষষ্ঠ বর্ষ - শীত সংখ্যায় প্রকাশিত)
#
সকাল -
শুধু মনে পড়ে, কত রাত ভোরে তুমি আর আমি, - দুইজনে
দেখিয়াছি কত, ভোর মাখা আলো ফুটে ওঠে। গাছের পাতায় –
চকমকি সোনা রোদ এলিয়ে রয়েছে যত। তুমি গুনে গুনে,
অবাক ঝাপসা চোখে চেয়ে থাকো অই সব সবুজের গায়।
সংখ্যা ভুলে দুই ঠোঁটে, কামড়া-কামড়ি ক’রে রাগে অনুরাগে
চোখের পাতায় জেগে থাকে অবিরল সুখ। রোদের সে খেলা -
জড়াজড়ি ক'রে শুয়ে আছে করবীর লাল গালে । যেন জাগে,
তোমার সে ঘুম-ঘোর ; সবুজ পাতার সাথে, ভিজে ওঠে গলা।
গাল বেয়ে ঝরে যায় নোনতা চোখের জল। ভালোবাসা ভাসে,
নরম নরম বুকে । হলুদ কমলা মুখে দেখি আমি আলো –
আমায় ভাসালো কত সুখে, সকাল গড়াল । এত কিছু মিশে,
অপার অপার সুখে, বিস্ময়ে চেয়ে দেখি সকাল ফুরোলো।
২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫
#
খেলা -
যদি তুমি সারারাত, আমার হাতে’তে হাত, রাখো –
আমি তবে চাইবোই - তোমার শরীরে শুধু মাখো
বকুলের ঝাঁঝে ভরা কিম্বা কামিনী’র ফুলে মেশা
সুরভিত সে সুবাস। তখন ভাসব আমি, নেশা
কাকে বলে জেনে গিয়ে তোমার নরম বুকে, খেলা
হবে বাকি রাত। আরো হবে কত শত কথা বলা –
তোমার কাঁধেতে মাথা রেখে। চাঁদে’র সে আলো জ’লে -
জ’লে ডুবে যাবে, দূর আকাশের গায়। পাখা মেলে
উড়ে যাবে রাত জাগা পাখী ডানা মেলে, হায় ! চার
চোখে ইকিড় মিকিড় খেলা শেষ হবে রাত পার
হলে। পূব আকাশের গা’য় শুরু হয়ে যাবে যত
কিছু রঙ আছে তার - ঝকমকি সুর। আরো কতো
সুরে সুরে ডেকে যাবে কত পাখী – তাহাদের শীষে –
ভরে যাবে চার পাশ, আমাদের কানে কানে মিশে
যাবে সেই সব গান, তোমার সে সারা গায়ে ঢেলে
দেব কত শত মিঠে মিঠে চুমু তোমার সে গালে।
তারপরে, দিন যবে দেবে আলো আমাদের গা’য়
লজ্জা রাঙা মুখে তুমি যাবে চলে ফেলে যে আমায় !
২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫
#
অভিমান -
অভিমান -
ব্যথা না কান্না, রাগ না কষ্ট বুঝতেই চলে যায় –
জীবনের খাতা থেকে অনেক সময়। তবুও তো
মন করে আনচান, খুঁজে পায় কারণের টান।
অভিমান, অভিমান আর অভিমান। চারিদিকে
মাঝে মাঝে - কেন ওঠে গাজনের গান ? নিরালায় –
মন চলে যায়। কোনও, এক সুদূর কিনারায় !
পদ্মফোটা জলের খবর, ডাঁটার খবর, হায় !
চোখের আলোর বৃত্ত ছেড়ে – দূর থেকে দূরে, আরো
দূরে স’রে স’রে যায়। একাকী তখন, শোনো যদি, –
মেঘের ওড়ার শব্দ, দূরে নীল আকাশের গায় –
পাবে খুঁজে সব কিছু । সব কিছু, যা চেয়েছ মুখ
বুঁজে এতকাল। সব ঘরে রয়ে গেছে সর্ষে আকাল !
২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫
#
সেদিন যখন -
সেদিন যখন -
সে ছিল আমার প্রথম আলাপ
কত কথা ছিল মনে
অনেক কথাই সুর বেধেঁছিল
সেদিন সবুজ বনে।
তোমার খোঁপায় ফুটেছিল ফুল
হলুদ কিংবা সাদা-
এতদিন পরে স্মৃতি হ’ল ভুল
রজনী ? অথবা গাঁদা ?
খোঁপাই ছিল তো তোমার মাথায়
নাকি দুই বেণী ঝুলে – ?
কপালে যে ছিল কুমকুমেটিপ,
সেটাতো যাইনি ভুলে।
চোখের পাতায় ছিল দিগন্ত
মুখেতে সলাজ নেশা,
পরনে কি, – ছিল ডোরাকাটা শাড়ী ?
হলুদ জামা’য় মেশা ?
সবকিছু মিলে ফুল হয়ে এলে
সেদিন কিশোর মনে –
প্রজাপতি যেন উড়ে চলে যাবে
তক্ষুনি দূর বনে।
লালচে ঠোঁটের সেই ঈশারায়
আমায় পাগল ক’রে -
দুটি হাত দিয়ে ডাকলে আমায়
আলতা রাঙানো স্বরে।
বনের কিনারে ভেসে গেল যেন
তোমার সে কলতান,
লতানো আদলে কাপঁলো শরীর
দুচোখে মায়াবী স্নান।
হঠাত যখনি সরে গেলে দূরে
সবুজ গাছের ফাঁকে -
ঝরাপাতা সব লজ্জা ঢাকল
তোমার পায়ের চাপে।
মনে হল যেন এখুনি বলবে
এসো না আমায় ছূঁতে –
সবুজ আড়ালে হল লুকোচুরি,
আনন্দ, বনে মাতে।
তারপর দূরে সন্ধ্যা ঘনাল –
আকাশটা লালে লাল,
তোমার আঁচল হাতের মুঠোয়,
চেয়ে দেখে মহাকাল।
১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫
#
প্রেম -
প্রেম -
মনের গভীরে কখনো যদি বা
অগোচরে প্রেম আসে,
পারবে কি তাকে সাজিয়ে তুলতে -
বাঁধভাঙা উচ্ছাসে।
সীমা যদি আজ গাণিতিক জালে
বাঙ্ময় হতে চায় –
দুরাশা তখন ঘিরবেই জানি
জীবনের আঙিনায়।
বাসো যত ভালো, ততই আমার
সুরের সাতটা তার –
হাসিতে খুশীতে ছন্দে সুরেতে,
মিলেমিশে একাকার।
সেকালের প্রেমে ছিল কত বাধা
লুকোচুরি মাখা রাত –
এখন রঙীন দুনিয়া জুড়েই,
প্রেমহীন উৎপাত।
হৃদয় কি তবে নতুন প্রেমের
সন্ধান খুঁজে ফেরে –
নতুন রঙেতে রাঙিয়ে তুলতে,
মনের’ই অগোচরে।
সাদা আর কালো এই দুটো রঙে
হিরোশিমাআজো ভিজে -
প্রকৃতি আবার মেলেছে পাখনা,
আপন খেয়ালে নিজে !
তবুও এখনো প্রেম জেগে আছে
মানুষ মানুষী মাঝে –
তামাম দুনিয়া সেই মাতনেই,
ফলে ফুলে আজ সাজে।
অচেনা প্রকৃতি দিনে দিনে খোলে
নতুন নতুন রূপে,
জাগাতে প্রেমের সে ভরা জোয়ার,
নির্বাক নিশ্চুপে।
১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫
#
অধিকার -
অধিকার -
সপ্তপদীর রোমান্সে
মন যখন উলুধ্বনির গমগমে আওয়াজে দিশেহারা,
তখন কি চোখে পড়ে - ?
মেয়েটির অপাপবিদ্ধ মনের অজানা আশঙ্কা।
বেনারসীর খসখসে আওয়াজে,
ঢেকে যায় সব।
মন, আত্মা, শরীর সব, সবকিছু।
আর সবকিছু ছাপিয়ে মাথা তুলতে থাকে,
প্রবাল দ্বীপের মতো
অধিকারের চিরন্তন লালসা।
সে কার ?
মুক্তমনা সেই পুরুষশ্রেষ্ঠের, নাকি –
আজন্মলালিত পুতুলখেলায় বেড়ে ওঠা,
সেই শিহরিত কুমারী’র।
কত আশা, কত স্বপ্ন, কত প্রতিশ্রুতির
জ্বলজ্বলে তারাগুলো –
ক্রমে ক্রমে পরিণত হয়
উল্কাপিন্ডে।
চার চোখের চাওয়ার সে ঐশ্বর্যের দাম
লাদাখের নেড়া পাহাড়ের মত
প্রতি ক্ষণে দেখা দিতে থাকে।
মধুচন্দ্রিমার সমুদ্রসৈকত ছেড়ে –
উত্তরবায়ুর টানে
ধুসর মরুভূমি এগিয়ে আসতে থাকে, থাকেই।
দিন যায় –
প্রবাহিত নদীর স্রোতের ঘর্ষণে খাঁজ কাটা
পাড়ের পাথরগুলোর মত,
সংসার বহে চলে।
কখনো দুর্মর বেগ,
কখনো বা একটানা প্রবাহে।
এরি মাঝে মাথা তুলে উঠতে থাকে –
অধিকারের গোড়ে মালা গুলো।
আর সেই ধারায় স্নান করতে থাকে –
করতেই থাকে, চিরন্তন সেই -
মেনে নেওয়ার চিরহরিৎ মূর্খতার সরু পথ।
কন্যা-জায়া-জননী’র
সেই চলমান ছায়া –
আস্তে আস্তে গিলে খায়,
অধিকারের পাপ।
আর সেই অধিকারের গর্বে গর্বিত
মুখগুলো –
খসে যেতে থাকে চেনা মুখের মুখোশে।
জীবন চলে জীবনের জোয়ার ভাঁটায়।
১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫
#
সুনীল সাগরে -
কবিতা যখন কথকতা বলে
সুরের ছন্দে গানে –
তখন তোমার লেখাগুলো ছোটে
কত না সুদূর পানে।
নীরার মতন রানী পেয়েছিলে
তোমার জীবন প্রাতে –
নীল আকাশের বুকে ভাসমান
টুকরো মেঘের সাথে।
কত না দুপুর কাটিয়ে দিয়েছি
তোমাকেই নিয়ে বুকে –
চিনেছি শব্দ অক্ষরে মাখা
মুক্তোর মতো ; সুখে।
ছোট ছোট কত ঘটনায় ঘেরা
রঙ বেরঙের মালা –
পড়া শেষ হয়, তবু থেকে যায়,
মনের ভেতরে জ্বালা।
কবিতা, তোমার বাগানের ফুল
প্রজাপতি ওড়া রোদ –
রজনীগন্ধে ভোরের হাওয়ায় –
প্রকৃতির দাম শোধ।
চাঁদের নীলাভ রঙে ভরে ওঠে -
নীরার বিষাদ মুখ;
ঊনিশে বিধবা, গর্ভেতে ধরে -
অপাপবিদ্ধ সুখ।
তুমি দিয়েছিলে স্পর্ধার মুখ -
কলেজমুখর দিনে,
এনেছিলে কত রাতের মোহনা
সেদিনের ফাল্গুনে।
আজো তুমি আছো আমাদের পাশে –
বয়স বেড়েছে বেশ,
পাতা ওল্টালে এখনো হঠাৎ -
কবেকার সেই রেশ।
কত না নীরা’রা এখনো খুঁজছে -
সারা কলকাতা জুড়ে ;
তোমার মতোই প্রেমিকের দেখা –
অন্তরে অন্তরে।
৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫
#
মাতৃভূমি -
মাতৃভূমি -
কু ঝিক ঝিক স্মৃতির মননে আজ,
তান্ডব লীলা উড্ডীন গরিয়ান-
স্বপ্ন বিগত, হারিয়েছে বহুদূরে -
অপু দূর্গার হাসিমাখা মুখ ম্লান।
অধিকার আজ ঝান্ডার ঝড়ে উঁচু
স্পর্ধিত মুখ কালো মুখোশেতে ঢাকা ;
পরমাত্মীয় পর হয়ে আসে পথে
কু ঝিক ঝিকে চলে দ্রুতগামী চাকা।
উপলখন্ড হাতে হাতে ফেরে দেখি -
শত-অর্জুন নিবিড় লক্ষ্যে স্থির,
যুদ্ধে হাজির কত না দ্বিপদজন ;
পিছনে কি তবে রাজনীতি গম্ভীর ?
“পুরুষোত্তম” শব্দটা বেঁচে আছে ?
কোন অভিধান কি মানে লিখছে আজ,
নতুন শতকে সবকিছু বদলেছে –
বিপ্লব আজ স্থবির ডাকের সাজ।
তবুতো এখনো মাঝে মাঝে যেন শুনি –
চেতনা আনবে মুক্তি এ পোড়া দেশে।
আধুনিক যত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়ে,
ভুল হয়েছিল স্বীকৃত অবশেষে।
যাপিত জীবন দিন দিন অধোগামী,
মা বোন ঠাকুমা দিদিমারা ভয়ে বাঁচে –
মাঠে ঘাটে পথে শিকারী শিয়াল জনে, -
এই বুঝি ফেলে গনগনে লাল আঁচে।
নারী শুধু নারী, নারী চাই শুধু রোজ –
যেভাবেই হোক, মারো, ধরো, দাও ফেলে
ঘরে বা বাইরে ধর্ষিতা প্রতি ক্ষণে,
সংখ্যাতত্ত্বে সংখ্যা মাপাই চলে।
জাতীয় লিষ্টে আমাদেরো প'রে আছে
সান্ধ্য মেজাজে কত না বক্তা বকে ;
রাত নামলেই সেই নেতা করে খোঁজ
তার মেয়েটা কি ফিরেছে কলেজ থেকে !
দ্বিচারিতা আর চলবে না বেশিদিন –
জাগছে মানুষ, হটবেই নানা মত,
সব শ্রীমতীই যেন ঘরে ফেরে রোজ
এই শপথেই মিলবেই জানি পথ।
২৬শে আগস্ট, ২০১৫
#
স্বাধীনতা –
স্বাধীনতা –
স্বাধীনতা মানে নেশায় গভীর রাত,
স্বাধীনতা মানে গলায় তরল জ্বালা –
স্বাধীনতা মানে মাইক ফাটানো ব্যথা,
স্বাধীনতা মানে রাইসের চাঁদ-মালা।
স্বাধীনতা কবে এসেছিল,- মনে পড়ে ?
আকাশে কি ছিল বারুদের বোঝাপড়া ?
কি জানি এখন, আমরা তো মৃতপ্রায় –
ইতিহাস শুধু নেতাদের মন গড়া।
ক্ষুদিরাম নাকি গ্যাস খেয়ে পেল ফাঁসী –
যতীন্দ্রনাথ আজো কি আছেন বেঁচে ?
স্বপ্নে যদি বা চাটগাঁ কখনো আসে –
টনটনে মনে ক্ষোভ আসে নেচে নেচে।
কচিকাঁচা আজ নেতাজী বলতে বোঝে,
পকেটে গোলাপ শিশুদের নিয়ে খেলা -
আমরাও তাই স্মৃতিকে দিয়েছি ঠেলে –
গোপন গুদামে পচে মরে কথামালা।
বিপ্লবী সব সন্ত্রাসবাদী, লোকে বলে,
রাসবিহারী’র টিকিও পারেনি ছুঁতে -
সুভাষ কি করে কোথায় হারিয়ে গেল ?
বিনয় বাদল দীনেশে’রা বি-বা-দী’তে।
টিকটিকিগুলো আজো পেনশন পায় –
কতনা বিধবা বাড়ীর বাসন মাজে,
তাঁদের স্বামীর রঙীন নকশী কাঁথা –
কেঁদে কেঁদে ফেরে তাঁদের মনের মাঝে।
ঝুটা আজাদীর সেই সব বুলি আজ,
আলকাতরার কালো রঙ দিয়ে মেখে –
প্রশ্ন শুধোয়; কারা কবে বলেছিল ?
নির্লজ্জতা হেসে ফেলে মুখ ঢেকে।
আরো আছে কথা, তোজোর কুকুর আজ-
নিজের বানানো দলের ঘরেতে ছবি।
দেখিনা বলতে, “ইতিহাস খুঁড়ে দেখো”,
মিলে মিশে আজ একতারে বাঁধা সব’ই।
স্বাধীনতা মানে দেখেছি লড়াই কতো !
স্বাধীনতা মানে চুক্তির আলপনা ?
স্বাধীনতা মানে টুকরো টুকরো দেশ ?
স্বাধীনতা মানে শুধুই কি দিন গোনা।
স্বাধীনতা শুধু বিভেদ বাড়ায় কেন ?
কেন স্বাধীনতা রাস্তায় ছেঁড়া শাড়ী ?
দুমুঠো ভাতের কেন স্বাধীনতা নেই ?
খরা বন্যায় বারে বারে মহামারী ?
স্বাধীনতা শুধু খদ্দরে মেলে পাখা ?
স্বাধীনতা কেন চরকায় সূতো বোনে ?
স্বাধীনতা আজ ভেঁপুটি বাজিয়ে চলা ?
কেন স্বাধীনতা সবে’তে বিভেদ আনে ?
স্বাধীনতা আজ চুক্তির নোটে ভরা –
দেয়নি শিক্ষা, দেয়নি ঘরের আলো।
তাইতো এমন লুকোচুরি খেলা আজ,
স্বাধীনতা শুধু শ্লোগানে’তে জমকালো।
১৫ই আগষ্ট, ২০১৫
#
নতুন সূত্র -
নতুন সূত্র -
আনন্দধারা আটকে দিয়েছি
পৃথিবী হাতের মুঠো ;
সবুজ ফসলে ফলাব’ই সব-
ক্ষেতের সে ফাটাফুটো।
আরুনির আলে কত শতাব্দী,
ইতিহাস কথা বলে –
বিংশ শতকে এল যে জোয়ার,
বিজ্ঞান মাথা তোলে।
রোদের আলোতে জ্বলছেই আজ ;
নতুন দিনের গান।
বন্ধনে বাঁধা শক্তির জালে –
নয়ছয় আজ প্রাণ।
কেতাবের জ্ঞানে দ্রবীভূত মন
কত শত মতামত,-
আলিবন্ধনে বেঁধেছি, কত না
বহতা গাঙের পথ।
গ্রীষ্ম-দহনে, শীতলতা দেবে
বিদ্যুৎ চলাচল -
শুকনো জমি’তে বইবে অঝোরে
ক্যানাল ভরানো জল।
দামোদর স্রোত কত না খন্ডে
খণ্ডিত অগনন -
ফলাফল দেখি, প্রতিটি সনেই,
প্লাবিত মানুষজন।
প্রকৃতি রানীর সব কিছু আজ
ভেঙে-জুড়ে খানখান-
এখন শুনছি ওসব অচল,
চলবে না ও শ্লোগান।
প্রথম বিশ্ব ভাঙছে এখন,
কংক্রীটে গড়া আল –
প্রকৃতি ফিরবে আপন খেয়ালে
ছন্দ ফিরবে কাল !
আমরা তো জানি, তৃতীয় বিশ্বে -
অনুকরনের চাপ ;
ফেলে দেওয়া যত বাতিল সূত্রে
স্পন্দিত উত্তাপ।
এই গরিমায় উজানিত হয়,
মুরুব্বি দল যত –
ওদের কাছেই সবার বিবেক
লজ্জায় পদাহত।
আসবে নতুন রোদের সে ছটা
এই আশ্বাসে বাঁচা।
কি কথা বলবে অনাগত কাল –
মুক্তি না কি খাঁচা ???
৫ই আগস্ট, ২০১৫
#
শব্দের পাখীরা -
শব্দের পাখীরা -
কি করে বোঝাই বলো
শব্দের এত অভিমান, এত লুকোচুরি খেলা।
লোকে বলে, শব্দ নাকি নিরাকার, ব্রহ্ম।
একবার উপুড় হয়ে পড়লে আর নিস্তার নেই।
ট্রিগার একবার চেপে ধরলে –
গুলিতো বেরোবেই, যদিনা মরচে ধরে থাকে ঐপথে।
তাও কি কেউ শোনে!
ট্রিগার টিপবেই ; টিপতেই থাকবে মনের সুখে।
যেন রাগমোচনের ক্ষণিক আনন্দের শিহরনে,
উল্লসিত সারমেয়কূলের রাত্রের চীৎকার।
শান্ত নিরিবিলি শব্দের, শবদাহের প্রস্তুতি।
ব্যবহারে অনিচ্ছাতো –
থাক না।
কেউ তো কালীর দিব্যি দেয়নি, যে
শালপাতাতেই খেতে হবে রাতের খাবার !
গন্ডীর গান্ডুরা আজ অস্তিত্বে বিপন্ন।
শব্দেরা থাকে যেন সেই দুধেভাতে।
উপজ্ঞার জড়িমায় বন্ধকী, শব্দের প্রবাহ।
শব্দের পাখীদের উচ্চকিত শিস –
এদের দুঃসহ রাত্রির নিকষ অন্ধকার।
পাখীরা উড়বেই।
মুক্ত শব্দের গতিময় হাওয়ায় হাওয়ায়।
পরিযায়ী শব্দেরা আসবেই ডান মেলে।
ভোর হবেই।
“আমরা করবো জয় নিশ্চয়...”
১৩ই জুলাই, ২০১৫
#
Comments
Post a Comment