আমার কবিতা - ৪
‘বিরহী’—
ইস্টিশানের পাশেই যদি আমার বাড়ি
লম্বা দুটো শাল গাছেতে আড়াআড়ি
আকাশছোঁয়া—
নীল আকাশে দোদুল দোলায় দুলছে শুধু
ফাঁকা মানুষ ফাঁকা স্টেশন ট্রেন এসেছে।
ট্রেন এসেছে
অনেক দূরের গঞ্জ থেকে তোমায় নিয়ে।
আমি তখন বৈঁচি ঝোপের পাশে গিয়ে
চমকে দেব তোমার চোখের অবাক চাওয়া।
পাগল হাওয়া...
“কি আমার মতন
তুমিও হারিয়ে গেলে
ফুলেরও বনে”
অন্যমনে
ভাবছি শুধু
কেমন হবে জিভের ছোঁয়া সর্বনাশা
তোমার কোমল ঘাসে ঘাসে গালটা ঘষা
আপন মনে
সেই স্টেশনে…
শালের পাতার গন্ধ আসে রোদের তাপে
তখন আমি বুকের বোতাম দাঁতের চাপে—
শিরশিরিয়ে থরথরিয়ে শরীর কাঁপে
যদি তখন— ?
কেমন হবে - ! একলা স্টেশন একলা তখন
একলা হবে ?
ট্রেনতো তখন চলেই যাবে
তোমায় ছেড়ে।
অনেক দূরে…ঠিক দুপুরে।
তখন আমি পাগলাঝোরা’র ঝর্ণা হবো
ছুটেই যাবো
তোমার কাছে
সেই দুপুরে।
ঝোড়ো হাওয়ায় আপন ক’রে সেই দুপুরে
আমার সানাই টোড়ি রাগে
তোমায় খেলায়
মিলিয়ে যে যায়
অতঃপরে
ঝালায় ঝালায় তোমার সুরে
সেই দুপুরে। একটু পরে—
বিকেল নামে
বিকেল নামে এই ‘বিরহী’ স্টেশন কোনে।
বিন্ধ্যাচলের পাহাড় তখন আপন মনে সূর্য তাড়ায়
পশ্চিমেতে
দূরের ক্ষেতে সন্ধ্যে নামে
তুমি তখন আমার বুকে আদর থামে—
আমি আমার সবটা নিয়ে তোমার বুকে...
সন্ধ্যে নামে......।
১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা
#
শিহরণ ছিল যে তখনো—।
রাতজাগা শেষ হ’লে আধখানা আলো -
তখনি জড়ালো।
দূর্বা ছিল, ঝাঁটি গাছ ও ছিল পাশে
তপ্ত নিঃশ্বাসে
বাতাস তখনো ভারী অল্প আলো
অস্ফুট ভৈঁরো যেন কত কি মেলালো !
টানা টানা দুচোখের পাতা –
ছিল বুঁজে। ইলোরা’র ফ্রেস্কো থেকে উঠে আসা ছবি
অচঞ্চল নির্ভার।
তুমি, আমি আর—
পাশে বয়ে যাওয়া নদী
দুকূল রাঙিয়ে যদি
ছুঁয়ে যেত চার হাত...
আর যদি এনে দিত প্রথম প্রভাত
আমাদের নগ্নতায়—
তোমার সে যুগ্মতায় ভোরের প্রথম আলো
উত্তুঙ্গ বৃন্ত পরে ছুঁয়ে ছুঁয়ে গেল
ক্ষণিক সময়।
তখন না হয়
শীৎকারেরই সুরে বাজে আশাবরী
আমার সেতার তোমার গানে নিরঙ্কারি।
উদাস তুমি উদাস আমি ছাড়াছাড়ি
ভাবছি তখন কবে দেব আবার পাড়ি ? –
নতুন দেশে
সব্বোনেশে।
সব্বোনেশে আগুন আবার জ্বালবে কবে
চাতক গুহায় !
আনবো আমি খড়কুটো আর যা সব লাগে...
হোমের জোগাড় –
সাঙ্গ হবে পুজো আমার
তোমার কাছে।
গাছে গাছে পাতায় পাতায় জীবন নাচে
মন্দাকিনী
আমি তখন তোমার বুকে’ই ঘাই-হরিণী
ঘাই-হরিণী সন্ধ্যেবেলায়...
সন্ধ্যে এসে
কানে কানে কি বলে যায় ?
১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
কালাচাঁদ—
কিছুই বোঝোনি তুমি ?
অথচ আকাট আমি...
কতো কিছু ভেবে যাওয়া অকপট।
ঈশারায় ভুল ছিল ? নাকি সেই পথ
চিনতেই করে গেছি
ভুল অবিরল।
ধুকপুকে বুকে
আর গাঢ় শ্বাস ফেলা
নিশ্চুপ বিকেলে
একা একা এলে, গেলে—
কাটা’তে সময়।
আমি বাঙ্ময়
তোমার সে অভিসারে—
মন শুধু ছায়াপথে খেলা করে।
অযথা—
অযথাই— ঘুরে ঘুরে মরে
তোমার সে খেলাঘরে।
অথচ আকাট আমি...
কত কিছু ভেবে ভেবে কাটিয়েছি অনামী
সময়।
আজ মনে হয়—
সবকিছু ছেলেখেলা। সবকিছু।
সময় পারে নি কিছু
আঁকাবাঁকা দাগে এঁকে দিতে
একখানি মোমরঙ দাগ।
গভীর
গভীরতর সে অনুরাগ
একা একা মনে মনে
কত কিছু বোনে
আঙুলে আঙুল উলের কাঁটার সাথে
নামা ওঠা মাঝে মাঝে মেপে দেখা
আর কত দূর ?
উদাস দুপুর চিলেরাও হারিয়েছে ক্লান্ত আকাশে
তেমনি আমি ও ... ।
তোমার উল্লাসে
মাপা যত কিছু গেছে ভেসে
গেছে ভেসে
আমার সে ছবি
রঙ থেকে বহুদূরে
সাদা কালো ঘুরে
সিপিয়া’য়।
আজ মনে হয়
সব কিছু ভুল...
সব কিছু ভালোলাগা সব কিছু...
শুধুই ঘুরেছে পিছু পিছু
সাদা ফেনা ঘিরে ছুটে আসা একঝাঁক পাখির মতন।
লঞ্চ থেমে যায়—
সেই পাখি দল ফিরে যায় নিশ্চিত যাত্রায়
নিজেদের ঘরে
আমি থাকি একা।
সবটুকু যায় নাকি মাপা ?
৮ই ফেব্রিয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
একা একা থাকা যায় ? ব’লো— ?
তার চেয়ে একবার চলো
দারুচিনি বনে—।
তুমি, আমি আর নির্জনে
কতো পাতা ঝরে প’রে
চারদিকে
টুপটুপ স্বরে...
আর ঝ’রে পাখির পালক...
সেইখানে দেখা হোক।
বাকি শুধু মেয়ে হাওয়া আর
ঋজু ঋজু ছেলে গাছ।
জড়ায় গড়ায় খেলা করে—
সারাদিন প্রহরে প্রহরে।
পদ্মদিঘির জলে ছেলে ঢেউ ছোটে কাঁপে
ডাঁটা বেয়ে দেখে নেয় মাপে
জলজ উত্তাপ।
গাঙুরে’ও লেগে ছিল সেই তাপ
মরণজ্বালায়...
জেদ আর এক-বুক পাখনায়।
এসো তুমি দারুচিনি বনে
আমরা দুজনে
ভেসে যাই করতোয়া জলে আর
হাতে ভাঁটি ফুল।
মোহনা কি খুব বেশী দূর – ??
৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
সবকিছু ভুলে যেতে পারি...
কিন্তু ফেলে আসা সেই পিছুডাক ?
থাক্
কিছুটা সময়
নাহয়
রেখে দিও
আমার মুখের কথা ভেবে।
জলভরা ভিজে চোখ ডোবে
হয়তো কখনো—
সেতো, তুমি জানো !
ভায়োলিন ছড়ে যাওয়া আসা
তুমি আমি আর সে প্রথম ভালবাসা...
ব্যাঙ ডাকা বর্ষা-সন্ধ্যায়
বা কোটাল গঙ্গায়
উত্তাল উদ্দাম দিশাহীন
‘বৌ – তুই কেমন আছিস...’ স্বপ্ন রঙিন।
লাবডুগ লাবডুগ লাবডুগ
বুকের ভেতরে
পিছুডাকে ফেরে
পুনরায়
কিছুটা সময়।
এভাবেই বেঁচে থাকা আলো
গঙ্গার পশ্চিম তীর...
সন্ধ্যে ঘনালো
৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
একটু উষ্ণতা আর
একফোঁটা আদরের জন্য
মাখামাখি হয়ে আছি কতটা সময়— !
ভেবে দেখেছো কি ?
ঈথারের কণাগুলি উন্মাদগামী হয়ে
উড়ছিল প্রজাপতি পাখনায়
চঞ্চল ব্যস্ত আর আলোময়
‘নাচে মুক্তি নাচে ছন্দ’— উন্মাদ
শোণিতে শিরায়।
তুমি কি পাওনি সময় ?
একঠোঁট হাসি নিয়ে
‘সমুখের পথ দিয়ে পলাতকা ছায়া ফেলে’
চলে গেলে—
চুপি চুপি
আরো প্রাণ আরো ভালবাসা নিয়ে
ঝাঁপাবে’ই বলে...
কোনো এক বসন্ত সন্ধ্যায়।
আমি জানু ভেঙে বসে আছি
নিঃসহায়।
৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
বড় চাকতি
ছোটো চাকতি
গ্রহণ।
মানিক সাত্যকি ছোটমামা।
জিম ডেলা
মাথার চুল
হাতঘড়ি শুধু
আনন্দ কান্না বিষাদ।
২৪ গুণ ৭
চলেছিল চলেছে
চলবেও
উদাত্ত অনুদাত্ত পানিফল জলে।
উশ্রী'র জল
মহাদেবের জটা
সম্পর্কে সীমাহীন
অম্বল চোঁয়াঢেঁকুর জ্বালাময় বুক।
গহন গভীর
ছটফটানি আদর
আহিরীতলায় ষাঁড়াষাঁড়ি
শৈশব যৌবন চালশে প্রবীন
বাকি শুধু কোনো এক অচেনা শুশ্রুষা
বাঁচবার, হয়ত কবিতা জন্মের.....
৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
ছোটো চাকতি
গ্রহণ।
মানিক সাত্যকি ছোটমামা।
জিম ডেলা
মাথার চুল
হাতঘড়ি শুধু
আনন্দ কান্না বিষাদ।
২৪ গুণ ৭
চলেছিল চলেছে
চলবেও
উদাত্ত অনুদাত্ত পানিফল জলে।
উশ্রী'র জল
মহাদেবের জটা
সম্পর্কে সীমাহীন
অম্বল চোঁয়াঢেঁকুর জ্বালাময় বুক।
গহন গভীর
ছটফটানি আদর
আহিরীতলায় ষাঁড়াষাঁড়ি
শৈশব যৌবন চালশে প্রবীন
বাকি শুধু কোনো এক অচেনা শুশ্রুষা
বাঁচবার, হয়ত কবিতা জন্মের.....
৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
পালিয়ে যাব বললে'ই কি
পালিয়ে যাওয়া যায় গো
আকাশ যদি সবুজও হয়
তখনো আমি চাইবো।
চাইবো আমিবারুদবেলায়
হয়ত হঠাৎ হেলাফেলায়
যখন খুশী - মনের বাঁশী ডাকবে –
তখন জানি
আমায় আবার চাইবে।
গান গাইবে...
দুচোখ ভরা মদির মায়ায়
দূর আকাশে সন্ধ্যতারায়
মিলিয়ে গিয়েও চাইবে।
আমার চাওয়া তোমার পাওয়ায়
ভরবে সে ক্ষণ দমকা হাওয়ায়
পালিয়ে কি যেতে পারবে ?
গাইবে তুমি গাইবে।
আমার সুরেই গাইবে।
চাইবে আমায় চাইবে...।
৩রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
হয়ত তখনো বিকেলের আলো ছিল
চারদিকে ছিল ধোঁয়াশা’য় ভরা ছবি
তোমার মুখেতে প্রজাপতি ফোটা হাসি
অম্লান হয়ে দেখেছিল এক কবি।
তখন ডানাতে নতুন ওড়ার রঙ
ফুল ফুটেছিল চারপাশে চারধারে
যে ফুলেই তুমি স্পর্শ করেছ মুখ
পাপড়ি কেঁপেছে শিহরিত লঘু স্বরে।
সন্ধ্যের হাওয়া বয়ে এনেছিল ডানা
জুঁই কুঁড়িগুলো অধীর— ফুটবে বলে
আঁচলে তোমার রাঙা মেঘ উড়ে এসে
অবাক আঁধারে সিঁদূরে’র মত জ্বলে।
কনে দেখা আলো একটু আগেও ছিল
ন্যাশপাতি রঙ আকাশ ফেলেছে ঢেকে
তোমার দু-চোখে ধানসিঁড়ি নদী ব’য়ে
পট এঁকেছিল কবি’র মানসলোকে।
তন্বী কুসুম শিখরদশনা শ্যামা
নূপুর চরণে সান্ধ্য ধরণী কাঁপে
চুম্বন শেষে দুই-গালে আলো মেখে
পথ হারিয়েছে আবেশের উত্তাপে।
কবি’র চোখেও চন্দ্রমা আনে আলো
সান্ধ্য প্রহরে হাজার লক্ষ তারা
চরাচর জুড়ে বিসমিল্লা’র সুর
ভালবাসাময় এ জগৎ, মনকাড়া।
৩১শে জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
আজ ফুটলো চন্দ্রমল্লিকা
আমার অরণ্যে...
রাতে’রা অপেক্ষায় ছিল—
আমিও—
না জানি আরো কেউ কেউ ছিল কি না ?
অপেক্ষায়
অথবা
ভালবাসায়
সারারাত শিশিরের সাথে !
“ও আমার চন্দ্রমল্লিকা বুঝি চন্দ্র দেখেছে,
যেন কোন শুক্লাপঞ্চমী চোখে স্বপ্ন এঁকেছে।”
মানবেন্দ্র গাইছেন।
বেসুরো তালকানা এই আমিও
কি করে যে গেয়ে উঠলাম আজ !!
৩০শে জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা
#
কিছু কিছু রাত ক্ষমাহীন
প্রতিটি শব্দই ধারালো কৃপান।
কিছু রাত রজনীগন্ধার ডাঁটি
প্রতিটি অক্ষরই ঝর্ণার বাঁধ ভাঙা উল্লাস !
দিন যায়, রাত যায় –
চরকাবুড়ী চরকা কাটে কান্নাপাহাড়ের উল্টোদিকে বসে।
রাজপুত্তুর আর আসেই না।
ঘোড়াশালে ঘোড়া, হাতীশালে হাতী
চরকাবুড়ী চরকাই কেটে যায়... নিরুপায়...
এ সব কি কবিতা ??
নাগো ! এ হ’ল গপ্পের কথা বলা।
আসল গপ্প তো এক রাতেই লেখা হয়ে যায়।
এক রাতে –
বসন্তপূর্ণিমায়।
২৯শে জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
শ্রাবস্তীর কারুকার্য মাখা মুখ
পেয়ে গেছি আমি...
পেয়ে গেছি আমি
বিদিশা’র কালো চুল...
কোনো ভুল
হবে নাকো আর—
হবে নাকো আর
প্রান্তরের পথে
অশান্ত হৃদয়।
বাঙলার ঘেঁটু ফুল আজো কথা কয়...।
মন শুধু জানে আর
জানে
ফিরে পাওয়া সে সময় !
কলমীর ফুল ফোটা হয়ে গেলে প’রে
আমাদের চোখের ওপরে
পাতা পড়ে থাকে শুধু।
জীবন অচেনা এক, ধূধূ করা ছেলেবেলা
আসে যায়-, করে খেলা
প্রহরে প্রহরে।
সেই সুরে বেজে ওঠা গান
আর যাহা কিছু
সেসব তোমারই দান...কোনো এক হেমন্ত-সন্ধ্যা’র !
পট ঘুরে যায়
ঘুরে যায় অনন্ত সময়।
তবু
ভালবাসা কথা কয়।
কোনো এক স্তব্ধ রাতে
জেগে থাকা দুটি কুঁড়ি
আর
বহে যাওয়া সংক্ষিপ্ত সময়।
অনন্ত নক্ষত্রমালা জেগে রয় চেয়ে রয়
রাতের আঁধারে।
দপদপ করে জ্বলা দূরের সে আলো
কানে কানে এসে বলে— যত কিছু কালো
এ গোপন রাতে ; সব কিছু হবে ভালো
আগামী প্রভাতে।
তাই শুধু চেয়ে থাকা তোমার সে মুখে
কখন উঠবে রোদ পাকা কমলা’র মতো
জড়াজড়ি ক’রে বুকে
তোমার
আমার...
মিশে যাবে দুই মুখ আগামী আশার
দিকে চেয়ে...
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে
জীবনের বাকি পথ বেয়ে......।
২৮শে জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
এমন করে কষ্ট দিয়েও থাকতে পারো
এমন করে কঠিন হয়েও
আমার জন্যে আনতে পারো
অর্ঘ্যকুসুম ?
অবলীলায় কেঁদে কেঁদে গুমরে উঠে নিজের মনে
আমায় দূরে ঠেলতে পারো
অমন করে ?
ভোরের বেলা দুই শালিখে কত রকম
ঝগড়া ক’রে বেরিয়ে পড়ে
খাওয়ার আশায়।
দিন ভাল যায়
দুই শালিখে’র দেখা পেলে !
ছোট থেকেই শুনছি বটে
কিন্তু প্রমাণ হাতে পেলে – ?
মনের ঘোরে বৌ—কথা—কও সজনে ফুলে’র
মাতামাতি। অল্প হাওয়ায় দুলছে সে ফুল আর দোপাটি
ঝরে পড়া। এমনি করেই ভাঙাগড়া নিত্যিনূতন।
আমি তো সেই তেমন আছিই
ভাঙাচোড়া গলিঘুঁজি...
হয়ত তখন তোমার শরীর
নাক ডুবিয়ে গাল ঠেকিয়ে
গন্ধ খুঁজি।
গন্ধ খুঁজি ভোরবেলাকার
মাঝদুপুরে
গহন কালো রাতের আকাশ
জ্বলজ্বলে চাঁদ।
গন্ধে খুঁজি হাজার লাখো তারার আলো
ছেলেবেলার।
গন্ধ খুঁজি বয়স বাড়ার
তোমায় আমার প্রথম পাওয়ার
ঠিক যেন সেই সকাল বেলার জুঁই-মালতী
বেড়ার পাশে হাস্নুহানার
আরো কত গন্ধ ভরা সকাল বিকেল
কষ্ট পেয়ে মনকে বোঝাই
কাঠকয়লায় ঢিমে আঁচে হাল্কা সে ছাই
অল্প ওড়ে...
তেমন করে তোমায় নিয়েই বেঁচে থাকা
স্বপ্ন মাখা
রোজ সকালে
রাত পোহালে...
২৭শে জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
কান্না আসে জানলা দিয়ে কান্না আসেই
হয়ত তখন মনের কোনে অবাক ব্যথা
শিল পড়েছে বার-দুয়োরে অল্প কটা
ধাক্কা মারেই মাথার ভেতর নক্সীকাঁথা
হয়তো কিছু শব্দ আঁকার কথামালায়
মনের ঘুড়ি ইচ্ছেমতন খেয়াল খোলা
তাতেই আগুন তাতেই গরল বৃন্ত ছেঁড়া
দূর পানে ধায় কূলহারানো কন্নে’বেলা
অবাক তোমার চোখের তারায় উপমিতি
জীবন হাঁটা অঙ্গীকারে দশ আঙুলে
একটু হেলা একটু ফেলা’র নানান রসে
জড়াও তোমার সঙ্কর্ষণ অরুপ ছলে
সহজ করেই মনের খাতায় লুকোচুরি
সরলরেখায় মরণ হবেই দৃষ্টিপাতে
গণিত শেখায় ধাপে ধাপেই সরল কষা
মনটা হারায় বাঁশ বানরের অনুপাতে
বিরহতেই অনুরাগের সবুজ ছোঁওয়া
পাকা ধানেই ইঁদুর আনে শুকনো হাওয়া
কাজ কি তবে শুকনো ডাঙার শুকনো রঙে
জীবন শুধু সবুজ পাতা রোজই পাওয়া
রোজই আসুক হৃৎকমলে পদ্মদীঘি
রঙ দেখেছো শাপলা ফুলে লালচে সিঁদূর
বুকের ভেতর তোমার ঘরে চিরাগ জ্বলে
আর বাকি সব উথালপাথাল শুকনো দুপুর।
২৩শে জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
বড় রাত হল।
এ আবার কেমন কথা কবি !
কেন ?
বড় দিন যদি হয় তাহলে অসুবিধে কি
বড় রাত হতে ?
প্রদীপের আলোর নীচেই তো অন্ধকার
বিপরীত অর্থবোধক শব্দ
পাপের যেমন পুণ্য
অহিংসার হিংসা
মানুষের অমানুষ
প্রেম আর বিরহ তবে কেন
অহিংসার সহিংসা হবে না বলতে পারো ?
কার কাছে বাঁধা আছে ব্যকরণ ?
"ঘুমে জাগরণে মিশি একাকার নিশিদিবসে।
বেদনাবিহীন অসাড় বিরাগ মরমে পশে আবেশবশে।"
কি নিবিড় ব্যঞ্জনা কবি !
ঘুম আর জাগরণ যদি মিশে একাকার হয়ে যায়
তবে
বড় রাত আনতেই পারে ছোটো রাত !
এমন তো কতো
হয়েই থাকে......
২৩শে জানুয়ারি, ২০১৬।
#
এক্ষুণি এই আলো এলো।
সকাল থেকে মেঘলা ছিল
আমার দুয়ার খোলাই ছিল
সারা দুপুর।
মেঘলা দুপুর রোদ ভরলো
বিকেলবেলা
শুরু হল নিত্যদিনের আমার খেলা
ছোটবেলার পদ্মপুকুর
ভাসলো চোখে অলস দুপুর
মাঠের ধারে।
তুমি যেমন অন্ধকারেও ছুঁয়ে যাওয়া
তার সাথে সেই স্বর্ণচাঁপার গন্ধ পাওয়া
পুকুর পারে।
দালানবাড়ি পুজোর উঠোন ঢ্যাম কুড়কুড়
রঙিন জামা লাল ফিতে আর পায়ের নূপুর
ফ্রকের ঘেরে বিশ্ব তখন হামাগুড়ি
অবাক চোখে কি যেন এক স্বপ্ন চুরি’র
নাগাল পাওয়া।
এমন করেই আমার বিকেল আজকে এল
দূরের থেকেই ডাক পাঠালো এলোমেলো
মিষ্টি হাওয়া।
শব্দ সুরের ঝংকারেতে তোমায় পাওয়া
দুপুর গেল—
তুমি তখন আপনমনে ঘরের কোনে
বিকেল আলো।
২০শে জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা
#
ঠিক কতখানি বিকেল হলে আসতে পারো ?
ঠিক কতখানি
ভালবাসতে পারো—
বুকের থেকে ?
ঠিক কতখানি নামতে পারো খাদের দিকে ?
নিজের থেকে – ?
ঠিক কতখানি আদর দিয়ে
আমায় তোমার সঙ্গে নিয়ে
মোচড়াতে পারো শব্দগুলো ?
ঠিক কতখানি দুমড়ে চুমড়ে
আমার কঠিন মুদ্রাগুলো
ঢাকতে পারো আপন করে ?
এই অবেলায় এসে তুমি আজ
আমার জমানো যত ভুল কাজ
চুমুকে চুমু-কে গোগ্রাসে খেয়ে
এখনো কি পারো –
ভালবাসা দিতে ?
একটুখানি।
কঠিন মানি,
তবু তুমি পারো ;
আবার
আমারো
ইচ্ছেগুলোকে
জড় করে এনে
আগুনের তাপে আগুন জ্বালিয়ে
সব ফেলে দিয়ে দুহাত বাড়িয়ে
ঘন হয়ে আসা ঝোপজংগলে
তোমার মুখটা মুখেতে নামিয়ে
সব শুষে নিয়ে
সব কিছু ভুলে
তুমিই পারো !
ছাল পাতা ফেলে সেই জংগলে
অঙ্কুর দিতে
তুমিই পারো !
তুমিই পারো তুমিই পারো তুমিই পারো।
১৯শে জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
গলার কাছে কান্না এসে আটকে আছে
তোমার কথায় আমি তেমন রাগ করিনি
তুমি যখন যা খুশী তা বলতে পারো
আমার কাছে তোমার কথাই নিস্তারিণী
গহনগামী বুকের হাওয়া অসাড় করে
ভালবাসার চিটে মধু ছড়িয়ে পড়ে
কান্না আমার কান পেতেছে চবুতরে
বিস্মিল্লার কাঠের বাঁশি ভৈঁরো ধরে
তুমি তো সেই চবুতরার ওড়াউড়ি
গোধূম দানা খুঁজে ফেরা নেকনজরে
আলতা রাঙা চরণদুটি দৃশ্যসুধা
মনই জানে মনের কথা চুপিসাড়ে
হঠাৎ করে চলে যাওয়া অসংগত
আমার কাছে তোমার কথা সরস্বতী
অনুরাগের দোহাই সে তো নৃত্যকলা
পূর্ণিমা রাত স্নিগ্ধ আলোয় শুক্রবতী
চাওয়া-পাওয়া মন্ত্র ছাড়া দুর্গাপুজো
ভাবের বসত হৃৎপদ্মে বর্ণমালা
তোমার আমার সুরে স্বরে সপ্তপদী
ফুটে উঠুক সন্ধ্যেবেলায় চন্দ্রকলা
১৭ই জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
আচম্বিতে তোমার ফোনে অবাক আমি
অবাক হয়ে বলতে কথা ইতস্তত
তুমি তখন ওপার ফোনে লজ্জাবতী
আমিও তখন অপেক্ষাতে লজ্জানত।
ঈশারাতে মনের কথা যায় যে দেখা
লাল সবুজের নেভা-জ্বলা ক্রমান্বয়ে
নানা রকম পদ্য তখন গোলোকধাঁধা
বুকের কাছে পাকদণ্ডী ডাইনে বাঁয়ে।
জলের ওপর জলপরীদের জলের ছিটেয়
প্রাচীন দিঘী উৎসুক মন জাল বিছোনো
দূরের থেকে মাছের সারির সাঁতার কাটা
অবাক সময় থমকে থাকেইপথ হারানো।
ঠিক তখনি তোমার ফোনে ইচ্ছেঘুড়ি
শিরায় শিরায় রক্ত নাচা কপালিনী
ফোনের চাপে ব্যথা তখন সূর্যমুখী
পাহাড় ভেঙে শব্দ আসে দিক্বসনি।
অল্প কথায় সাধ মেটেনা লিপিয়ারি
উষ্ণ তাপে রেলের লাইন বাড়া কমা
বার্তাকথা দাবী তখন ওপরতলা
ছোট্ট নুড়ি সব চাহিদা করছে জমা।
ভয়ের চেয়ে ভক্তি তখন নিরাকারী
তোমার গলা দুপুর বেলা আশাবরী
আমার সেতার খুঁজে ফেরে শুদ্ধ নি সা
দুপুর বেলা সেলাই করা বিভাবরী।
১৫ই জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা মেট্রো।
#
কিছু শব্দ নিজেরই থাকে
তার ভাগ হয়না কখনো
কিছু অনুভূতি সেল্ফি
ক্যামেরা উলটে রাখাই ভাল।
এই তো মনের হার্ডডিস্ক।
ফরম্যাট হয়না কখনো
রণে বনে কোনে কিম্বা জল জঙ্গলেও
আসে ভাসে আবার টুপ করে ডুবে যায়
মনের ভেতরে।
সূত্রগুলো পড়ে থাকা তার।
সোনার।
চিতার ভেতরে ওড়ে। বে-নাগাল।
কিছু শব্দের ভাগ নেই বিভাগ নেই হয়ত
বিভক্তি আছে।
খুচরোর সমস্যায় জর্জরিত।
১৫ই জানুয়ারি। ২০১৭
কলকাতা মেট্রো।
#
‘আসছি আমি একটুপরে’
‘আসছি আমি একটুপরে’
এই কথাটা শুনলে ‘পরে
মাথার ভেতর হরেকরকম পদ্য ভাসে।
পদ্য ভাসে
হঠাৎ করে দেখার আশে।
ভার্চুয়ালের বর্ণমালায়
মনটা কেমন ঢেউ খেলে যায়
ভাবতে গিয়ে—
তোমায় নিয়ে কতো ছবি। ফুল ফোটানো
বাগান ঘিরে তোমার ছবি আসেই ফিরে
বারে বারে।
সাগরপারে ঢেউগুলো সব আছড়ে পড়ে।
বুকের ভেতর তখন যেন কড়া নাড়ে
‘আসছি আমি একটু পরে’।
‘আসছি আমি একটু পরে’
এই কথাটাই কেমন করে আছড়ে পড়ে মনের ভেতর।
বুকের ভেতর।
দলমাদলের শব্দ বাজে
বুকের খাঁজে
আসবে কখন ? আসবে কখন ?
মন উচাটন চোখ উচাটন
তোমার আসার অপেক্ষাতে মগ্ন তখন
তুমুল ধারায়
পাশ দিয়ে সব লোক চলে যায়
নিজের কাজে।
দূরে কোথায় ঘন্টা বাজে সন্ধ্যে নামার
শহরজুড়ে।
‘আসছি আমি একটু পরে’
ছড়িয়ে পড়ে ছড়িয়ে পড়ে বুকের থেকে
রাস্তা জুড়ে
শহর জুড়ে।
ঠিক তখনই সব পুড়ে যায় তোমার আশায়
সন্ধ্যে বাড়ে।
১৪ই জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
আবদার—
কতো কিছুই তো চাইতে পারো
যেতে গিয়েও আসতে পারো
আমায় দেখে হাসতে পারো
রাগ দেখিয়ে ঘুরতে পারো
কিন্তু...
ভালবাসতে পারো ? তেমন করে—।
যেমন করে রোজ সকালে ঘুম ভাঙিয়ে
সূয্যিমামা। পূব আকাশে দেয় পরিয়ে একটা পুরো
লালচে জামা। তেমন করে ?
যেমন করে বুকের ভেতর ধুকুন-পুকুন
তোমায় দেখে।
কালচে চোখে জল ভরা ওই পাড়া’র পুকুর
জল থইথই হাল্কা ঢেউয়ে খেলে বেড়ায় সারা দুপুর
তেমন করে ?
যেমন করে—
জাপ্টে ধ’রে দূরের আকাশ, আসমানি রঙ
কিম্বা সাত্রাগাছির ঝিলে অচিন পাখী
সারাটা দিন উঁকিঝুকি খাবার তরে !
তেমন করে ?
তেমন করে খুঁজতে পারো ? আমার বুকের
ভেতর খুঁড়ে গিলে’র মত টানাপোড়েন !
হয়ত তখন অবাক হয়ে দৃষ্টি মেলে ভাবখানা এই –
আবার কেন এত কথা আমিই তো সেই,
কৃষ্ণকলি ! তাইতো বলি
তেমন করে আমায় নিয়ে যেতে পারো ?
দূর সে গাঁয়ে – তমাল তলে – !
দেখবো চেয়ে কেমন করে দিচ্ছ ভ’রে
আমার আকাশ দুহাত ভরে। যেমন করে
ভোরের দোয়েল শিস্ দিয়ে যায় লেবু গাছের পাতার
ফাঁকে— যায় না দেখা তখন তাকে।
তেমন করে না হয় দিও তোমার মনের ভেতর থেকে।
সারা জীবন সেই আশাতেই বেঁচে থাকা যেমন করে
একখানা গান গাইবে বাউল একটা তারে—
তেমন করে !
১৩ই জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা
#
আমি প্রেমিক হতে চাই
তোমার
একটু সময় হবে ?
খুব বেশী নয়
একটুখানি
সময় দিও তবে।
দখিন হাওয়া বইতে এখন
অনেক খানি দেরী
শীতের হাওয়ায় এসোই না হয়
একটু আলাপ সারি।
লাগলে ভাল আমার আলাপ
বসবে জানি পাশে
আর কটা দিন বাঁচব বলো
দিন ফুরিয়ে আসে।
তোমার খোলা চুলের থেকে
একটু নেব হাওয়া
সেইতো হবে অনেক দিনের
না পাওয়াটা'র চাওয়া।
বেশী কথা বলব নাকো
ক্ষুন্ন হতে পারো
ভাল যদি লাগে না হয়
সময় দিও আরো।
পারো যদি একটুখানি
ছুঁয়েও দিতে পারো
বুকের মধ্যে রাখব নিয়ে
গন্ধ তোমার আরো।
সাহস যদি একটু বাড়ে
তোমার পাশে থেকে
স্পর্শে নেব একটা আঙুল
লোকজন’কে ঢেকে।
তখন না হয় শুনিয়ে দিও
আকাশ ভরা গান
বাকি জীবন বইব নিয়ে
সেইটুকু সম্মান।
১২ই জানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা
#
শীত পড়লেই বিষণ্ণতা
চামড়া কঠিন ঠোঁটও ফাটা
এই তো সুযোগ আলসেমি রোদ
পিঠের ওপর সরলরেখায়
একটুখানি উষ্ণতা দেয়।
তখন তোমায় ভাবতে পারি
মনে মনে ডাকতে পারি
শক্ত বাদাম ভাঙতে পারি
দাঁতের চাপে !
একটু পরেই রোদ চলে যায়
শহর বাড়ির ছাদের মাথায়
অনেক দূরে।
আবার শীতে কাঁপতে থাকি
তোমায় তখন ডাকতে থাকি
এক কাপ চা চাইতে থাকি
শব্দ করে।
এমন করেই দিন চলে যায়
গাজর গাছের পাতায় পাতায়
মাঠের ধারে।
আনমনা মন আমি তখন
রোদের খোঁজে একটু যখন
এপাশ ওপাশ চাইতে থাকি -
তখন তোমার গলার সুরে
শীতের কাঁপন মাঝ দুপুরে
কোথায় যে যায় !
আমায় ভাবায় শুধুই ভাবায়
একখানা গান চাইতে পারি ?
তোমার কাছে।
পলাশ গাছের
আধখানা ফুল ফোটা বাকি
এখন দুপুর।
তোমার জন্য একটা আকাশ
ভরতে পারি পলাশ ফুলে।
এই দুপুরে।
১০ই জানুয়ারি। ২০১৭
কলকাতা।
#
তোমার বোঁটায় জড়িয়ে থাকা সেই ঘ্রাণে
আমার গাল স্পর্শ করবো।
শুষে নেব পৃথিবীর যত কিছু
গোপন আর ভেজা মুহূর্ত।
আদিম উদ্দাম ঠোঁট আমার
তোমার সে চুঁয়ে পড়া ফোঁটায় ফোঁটায়
মেখে নেবে স্বাদ।
সেই আমার ঠোঁটরাঙানিয়া
সেই আমার প্রাণের হিল্লোল।
পৃথিবীর সব ফুল ঝরে গেলে পরে
অনন্ত সময় আর অক্লান্ত চাহিদা আমার।
৬ই জানুয়ারি, ২০১৬.
কলকাতা।
#
কাল যা ছিল লালচে মাটি
আজকে সবুজ স্বর্গঘেরা
পরশু রাঙা পাথর বাটি
আমরা শুধুই ভাঙাচোড়া।
জনের হাতেই চাবি-কাঠি
ফর্দ দেদার তোষা খানার।
নিয়মকানুন পরিপাটি
দরকার কি, বেশী জানার।
জলছবি তো কবেই শেখা
জলের ছাপে ছবিই ফোটে—
বেগনে পারের আলো মাখা
একটুখানি রঙ তো মোটে !
সেই রঙেতেই কুর্শি হাসে
লক্ষ হাজার ওয়াট জ্বলে—
ফর্দ তখন মনের পাশে
কিল্বিলিয়ে তুফান তোলে।
হাজার হাজার শিলালিপি
উড়বে কত হাওয়ার মত
চারি দিকেই ফুটবে পাপী
অজানা ঝড় আসবে কতো।
দিনবদলের পাল্লাভারী
সবাই বলে “আমি”ই ভাল
আমরা যেন ইস্কাবনের
সাহেব বিবি গোলাম কালো।
যেমন করে হাঁকবে তারা
তেমন করেই প্রতি দানে—
মিলবে জীবন ছন্নছাড়া
সেই তাকানো— আকাশপানে।
এমন করেই বেঁচে থাকা
দিন কাটানোর ধারাপাতে।
স্বপ্ন শুধু আওয়াজ, ফাঁকা
নিয়ম ভাঙা নিয়মমতে।
মানুষজনে ঘর বেঁধেছে
কোন সে কালে আলোর খোঁজে
সেই মানুষই ঘর ভেঙেছে
নিজের ভালো নিজেই বোঝে।
দিনরাত্তির যুদ্ধ চালায়
অশান্তি তার নিত্য পাওয়া।
শান্তি এখন দৌড়ে পালায়
বইছে বেগে উল্টো হাওয়া।
সবুজ কিম্বা লালচে মাটি
একই ফসল ষোলোআনা।
মনমুখে যে পাথরবাটি
তাইত এ দেশ হচ্ছে কানা।
দেশের মাটি সবই বোঝে
যতই কেন মিথ্যে সাজাও
ডোবা মানুষ ডাঙাই খোঁজে
যতই কেন জাহাজ নামাও।
সূর্য ওঠা পূবে’র আকাশ
বেলা হলেই সূর্য তাড়ায়
সত্যিও তাই মুক্ত প্রকাশ
সাগর তলে মুক্ত জমায়।
৫ই ডিসেম্বর, ২০১৭
কলকাতা।
#
নদী-ও তো সরে যায় অনেক সময়
এ কথা জেনেছি বই পড়ে।
মন সরে যেতে পারে এ কথা ভাবিনি,
তবুও দেখেছি মন সরে।
ঝড় এলে সবকিছু উড়ে তছনছ
গাছের পাতারা আগে ওড়ে।
ভারী যদি কিছু থাকে, গড়িয়েই চলে
ঢালু পথে পাথরেরা নড়ে।
জীবন তবে কি গাছ হাজারো পাতায় ?
মন তবে কতগুলো থাকে ?
সময় এসেছে আজ হিসেব নেবার
নিশ্চিত বুঝে নেব তাকে।
যতই ফেরাবে মন দূর নিরাশায়
শাল বন বাতাসেই কাঁপে
অস্থির জাগবেই নতুন ভাষায়
প্রাণ গলবেই উত্তাপে।
১লা জানুয়ারি, ২০১৭।
কলকাতা।
#
কতদিন বলব ভেবেও বলতে পারিনি
দ্বিধা এসে ঝাঁপিয়েছে ঠোঁটে
কত কথা জমা হয়ে ছিল বুঝতে পারিনি
ছাইপাশ বাকি কথা জোটে।
কি এমন কথা ছিল বাকি রয়ে গেছে বলা
সেই কথা আজো খুঁজে চলা
আকাশ তো আজো নীল মেঘ ভাসে সেই সাদা
তবে কেন থামে কথা বলা।
কত কিছু ভাবনার এলোমেলো যত কিছু
সব তছনছ কেন আজ
পিছে ফিরে চেয়ে দেখি অগুন্তি স্বপ্নের
ঝরে পড়া যত ফুলসাজ।
#
আমি দাঁড়িয়ে আছি
অনেক শো বছর পেরিয়েও
আমি দাঁড়িয়ে আছি তোমার অপেক্ষায়
হাসান থেকে ইলোরা পেরিয়ে
হাতী-গুহা দ্বীপে।
তোমার দিকে চেয়ে শুধু।
তুমি বার বার কাছে এসে
দেখে
অবাক বিস্ময় নিয়ে চলে গেছ বারংবার।
আমি বলতে চেয়েছি কিন্তু বলার
আগেই
দেখি আমি দাঁড়িয়ে রয়েছি তোমার পেছনে
আর তুমি চলে যাচ্ছ দূরে
দ্রুত ঝালার ঝংকারে।
আমার ও তো সময় লাগে
জড় থেকে চঞ্চলতায়
পাশ ফিরে শুতে। সেটুকু সময়
দিও এবার পরম আশ্লেষে।
বড় ইচ্ছে করে তোমাকে জড়াতে
সবুজ আঁকশি ছেয়ে।
একবার না হয় কিছুক্ষন বেশী
থেকে যেও তাকিয়ে আমায়।
৩১শে ডিসেম্বর, ২০১৬
কলকাতা।
#
কবিতা কি শুধুই ক্ষণিকের পরমায়ু ?
কবিতা কি শুধুই প্রান্তরের গান কিম্বা—
যুগের খণ্ডাংশ মাত্র ?
কবিতা কি তার চেয়েও বেশী কিছু নয় !
তবে কেন ?
তবে কেন ?
এখনো উদাত্ত কণ্ঠে আবৃত্তি করলে শুদ্ধ হই—
“কশ্চিৎকান্তা বিরহগুরুণা স্বাধিকার প্রমত্তাঃ…”
কিম্বা
“ধরা যাক দুএকটা ইঁদুর এবার।”
যখন
“ সব সংগীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া”।
আর তাই—
“তোমার অভাব বুঝি ; কে জানে হয়তো অবশেষে
বিগলিত হতে পারো ; আশ্চর্য দর্শন বহু আছে”।
এই তো আমার কবিতা ! আমার প্রাণের উল্লাস,
আমার শিশির ধোওয়া পাতা, আমার হাসি-কান্না।
আমার অভিমান, আমার ঠোঁটের চুম্বন।
আমার হৃদয়ের রঙবাহারি রংমশাল।
তবে কেন মর্গের বাইরে অপেক্ষায় ?
২৮শে ডিসেম্বর, ২০১৬
কলকাতা।
(কালকথা পত্রিকার জন্য লেখা)
#
মেঘে মেঘে বেলা হল বেশ—
এখনো অনেক কাজ বাকি।
কত চেনা বাকি রয়ে গেল
কত কিছু দিয়ে গেল ফাঁকি।
কত সুখে কাটিয়েছি বেলা
কত রাত দুঃখেতে ভিজে।
স্বপ্ন’রা আলো নিয়ে আসে –
কত কিছু ভাবি নিজে নিজে।
ধান ক্ষেতে চাঁদ আলো দেয়
মনের গভীরে আজো খেলা—
শরীরে শরীর মিশে গেলে
অপরূপ বেহুলার ভেলা !
ঢেউ ওঠে জল ছলকায়
রাতের তারা’রা জেগে দেখে
কোনার্ক বা খাজুরাহো স্থির
প্রাণে প্রাণ নিঃশ্বাস মাখে।
সময় স্রোতের মত বয়—
পল অনুপলে দিন—রাত।
প্রেম শুধু একা জেগে থাকে
মেঘে মেঘে আসবে প্রভাত।
২৬শে ডিসেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
এখনো কি তেমন আছো
সেই
প্রথম দেখার মত !
শীত এলেই সব কিছু জড়িয়ে যায় আমার।
পুরোনো কথাগুলো নোড়ার মত ঘা মারে
মনের হামানদিস্তায়।
লুকোনো সব কিছুর একটা স্বাদ আছে।
যে প্রেম লুকিয়ে থাকে মনের ভাঁড়ারে—
থাকুক না তা
জলসাঘরের আঙিনাতে।
সব কথা বলা হয়ে গেলে পৃথিবী’র স্বাদ
পাওয়াযায় নাকি আর !
গ্রহণের অন্ধকারে তুমি ফুল ফোটা আলো—
সেই আলো অপরূপ, মায়াঘেরা –
জলফড়িং এর উড়ে যাওয়া দ্রুততর গতি।
২৩শে ডিসেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
তুমি কি ভাবতে পারো আমায়
শুধুই এমন করে ?
হরে রাম হরে রামরাম রাম হরে হরে
আঃ,
আবার কেন রামকে ডাকাপৌষালি এই ভোরে ?
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
তোমার জন্যে অপেক্ষাতেই
সারা সকাল ধরে।
আউল বাউল পীর ফকিরের মনের মাঝে বাস
চিরটা কাল তোমার চোখেই আমার সব্বোনাশ—
রবি বাউল লিখে গেছেন কতোকাল সে আগে
যুগে যুগে তোমার চোখেই আমার স্বর্গ জাগে।
তুমি আমি আমি তুমি তুমি আমি তুমি
এমন করেও ভোর ডাকা যায় পূবের আকাশ চুমি।
আমার আমার আমার আমার আমার আমার করে
সবাই যেন আগলাতে চায় ভোর’কে নিজের করে।
ভোরের আমি ভোরের তুমি ভোর কি কারো কেনা !
একটু না হয় সময় রেখো নিজের সাথে চেনার।
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে
আজকে না হয় পালাই এসো খঞ্জনীটা ধরে।
২২শেডিসেম্বর, ২০১৬
কলকাতা।
#
মনে হয়
পৃথিবীর সব মেয়েদের গায়ের গন্ধ আলাদা।
সে গন্ধ বুকে নিয়ে
সারাটা জীবন কাটিয়ে দেওয়া যায়—
আঁকাবাকা উঁচুনীচু পথে। অথবা
দূর কোনো নিরুদ্দেশ যাত্রায়।
নগরজীবনে শুধুই সস্তা সেন্টের গন্ধ –
আড়ালেতে রেখে দেয় অনুভূতি।
সুরঞ্জনারা খবর পায় না তার।
রাগ—দুঃখ—ঈর্ষা—ভালবাসা ইত্যাদি সব গন্ধের
খোঁজ কি রেখেছে কেউ !
এত কিছু ভাললাগা, সব কিছু মুছে দেয়
আঙুল আর রেটিনার ছবি।
মায়ের গায়ের গন্ধে ঘুম এসে যায়
আর
তোমার
গায়ের
গন্ধে
পারিজাত এনে দিতে পারি।
২১শে ডিসেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
যদি পারো, একবার ছুঁয়ে যেও মুখ
বসন্ত আসার আগে।
বোরোলীন সুরভিত ঠোঁট
এখনো স্পর্শ খোঁজে শীতের সকালে।
ভেজা শিশিরের ভারে নিঃঝুম পায়রা’রা বসে থাকে
সোনালী রোদের অপেক্ষায়।
তেমনি আমিও বসে আছি এক বুক
রোমাঞ্চ নিয়ে শরীর ছোঁয়াব বলে।
পারো যদি একবার – ছুঁয়ে যেও মুখ।
পাতা ঝরা গাছের মতন আমিও একলা।
সকাল বিকেল আর সারাটাবেলা
তোমাতেই ডুবে থাকা কল্পিত রমনে।
মাঝে মাঝে তন্দ্রা আসে পর্ণমোচী ঘ্রাণে।
সে খুব সুখের ক্ষণ। সাময়িক কিন্তু
অঘ্রাণের ধানের হাওয়ার মত বুক ভরা শ্বাস।
তাই বলি, যদি পারো
তাহলে আবারো ছুঁয়ে দিও মুখ।
নিশ্চিন্ত অলীক অসুখ।
২০শে ডিসেম্বর, ২০১৬
কলকাতা।
#
শীত এলেই খুব ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে খুব
সারাদিন কেটে যাক রোদে’র আদরে –
ন্যাসপাতি ফলের মত,
খোসা শাঁস সবকিছু খাব পরম আদরে পিঠে নিয়ে
শীতের রোদ্দুর।
একটা একটা করে ছাড়িয়ে নেব
কমলার কোয়াগুলো।
খোসা জমা হবে একধারে
কলতলা’য় স্তুপীকৃত কাপড়ের মত
তারপরে স্বাদ নেবো দানায় দানায়।
চটচটে হাতে মুছে নেব মুখে লেগে থাকা সব রস।
তারপরে তৃপ্তি নিয়ে ঢলে যাওয়া ঘুম।
উত্তরের হাওয়া।
২০শে ডিসেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
লুণ্ঠনে সাহস নয় –
ভালবাসা ঐকান্তিক।
আশনাই অভিরতি চায়
কলুষতা সর্বজনগ্রাহ্য।
কে কবে চেখেছে হৃদয় ?
কমলা খোসায় রস কই আর ?
শুকনো ডাঙায়
লাঙল গোঙায় তাই !
মাটি ভিজে এলে কর্ষণ সহজ হয়।
সর্ষে’র ফুল বোঝে
মাটি’তে কতখানি সার।
লাঙলের জাত কে খোঁজে আর ?
অথচ মাটি লুণ্ঠিত হয়
লাঙলেই।
১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৬
কলকাতা।
#
অঝোর ধারায় বৃষ্টি ঝরে জলথইথই
তখন আমিতোমায় খুঁজি চইচইচই।
শন্শন্শন্ বাদল হাওয়া এলোমেলো
ঝমঝমঝম আমার বুকেই বৃষ্টি এলো।
তখন তুমি উদাস হ’য়ে গুনগুনগুন
বর্ষা ভেজা কদম পাতায় চাইছ ফাগুন।
জানলা দিয়ে বৃষ্টি ফোঁটা’র ঝর্ঝর্ঝর্
তোমার গালে উপছে পড়ে অনেক আদর।
আমি তখন পাগল প্রেমে লাব্ডুগডুগ
কোথায় তুমি খুঁজছি আমি তোমার চিবুক।
কচু’র পাতায় জল বাহারি চিক্চিক্চিক—
সবুজ ঘাসে তুমিই যেন ঝিলিক্মিলিক্।
আমার মনে তোমার ছবি উলুকসুলুক
পানবাহারি মশলা স্বাদে ভরিয়ে তুলুক।
বাকি জীবন এমন করেই ঝমঝমানি –
তোমার চোখে’র তারায় চেয়ে বাঁচব জানি।
৯ইডিসেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
মধুকূপী —
অনেক খুঁজেছি আমি মধুকূপী ঘাস—
রূপসার দুই পার ধরে
হেঁটেছি অনেক।
ধলেশ্বরী নদী—ধারে পিসী’দের বাড়ি –
সেখানেও খুঁজে গেছি কতো –,
নরম রোদের ভোরে কিম্বা কমলা সূর্যাস্তে।
নেই আর মধুকূপী ; নেই আর সে সবুজ
নদী’দের ঢেঊ—এ ভেজা বাঙলার এইসব ধুসর ডাঙায়।
দুই পার রাঙা হ’তে রোজ দেখি আমি।
দেখি আমি সোনালী সকাল কালো মেঘে ভরে থাকে রোজ।
থমকায় বকুলে’র ঝরে পড়া অদৃশ্য বাতাসে।
বাতাসে কিসের ঘ্রাণে বাঘেরা’ও পায় নাকো হরিণের স্বাদ ?
দুই পা’য়ে মুছে যায় ভাঁটফুল ঝোপঝাড় হোগলার বন।
মুছে যায় দূর থেকে চেখে নেওয়া কনে দেখা আলো।
ঋদ্ধি’র চনমনে আলো গিলে খায় সব কিছু নতুন প্রয়াসে।
এমন কি কথা ছিল !
ছিল কি এমন কথা আমাদের মধুকূপী ঘাসেদের সাথে ?
বারুণী’র সাদা জল ছুঁড়ে ফেলে বিষপান পলিবন্দী জলে ?
অথবা ধানের ক্ষেত খুঁড়ে ফেলে বাতাসিটিউব চেপে দাহিত নিঃশ্বাস ?
এখনো সময় আছে সবুজের ডাকে —
দশটা আঙুল দিয়ে শুষে নেওয়া কামরাঙা গন্ধ –
মৌটুসী পাখির ডাক, ঘুওভাঙা চাঁদনি আঁধার।
সব কিছু ফিরে পাওয়া আণবিক ঠেলে ফেলে।
বাঁশ বাগানে ভূতের নাচ।
৫ই ডিসেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
চারদিকে তবে শকুন জমেছে বেশ
রেটিনা যদিও ছিঁড়েছে নিরুত্তাপে,
পক্ষী শকুন উধাও অনেক আগে –
শকুনি মাতুল দিশাহীন পথে পথে।
এই তো নামছে শীতের সোনালি রোদ
গঙ্গার ধারে পাবকে’র ধিকিধিকি,
দলে উপদলে চার্চ—এর মাঠে ভীড়
স্ফুর্তি’র প্রাণে পাষাণে’র চকমকি।
বেচাকেনাসব কড়ি বিনিময়ে শুরু
গঙ্গার জল উদাসী স্ফটিকস্রোতে
পাখ—পাখালি’তে সকাল সন্ধ্যে ডাক
যুদ্ধ হলেও, থামত নিয়ম মতে।
তারপরেও তো, কেটেছে অনেক কাল
শুদ্ধে’র ছেলে গৃহ ছেড়ে নেমে পথে,
চেয়েছিল যত হিংসা থামুক প্রেমে –
সুজাতা অন্নপ্রলেপিতভাঙা ক্ষতে।
যেখানে নিমাই মিলিয়েছে সব জাত,
বিশ্ব পেয়েছে অহিংসা মতবাদ
সেখানেই আজ হিংসার হানাহানি,
স্বার্থের দাবী ভেঙেছে শক্ত কাঁধ।
পথে পড়ে থাকে অচেতন ইনসান
দগ্ধ প্রহরে রোদ্দুর মাখা দিনে।
তাকে লঙ্ঘায় কোন সে মানুষ বটে ?
বাঙলা জাগছে চাপা পড়ে থাকা তৃণে।
৪ঠা ডিসেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
একদিন মাঝরাতে উঠে আকাশটা দেখো -
যদি চাঁদ থাকে,
তাহলে মুঠো ভরে তুলে নিও জোৎস্না।
আর বিনা চাঁদে অন্ধকারে
কাছে ডেকো শুকতারা, সপ্তর্ষিমণ্ডল কিংবা
লক্ষ তারার অল্প আলো।
দেখো তুমি, কেমন করে হাল্কা হয়ে যাবে -
অপার্থিব মায়ায় ছায়ায়।
জেদ তুলে রেখে
মনে মনে বোলো --
আজ হতে নিষ্পাপ হতে চাই।
দেখবে হাজার তারার মালা কেমন করে
নেমে আসে তোমার বুকে।
৪ঠা ডিসেম্বর, ২০১৬.
কলকাতা।
#
যাব আজ তোমার কাছে—
শেষ এক অবগাহন করে চলে যাব আজ।
সঙ্গম থেকে পূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে
যাত্রা করবো তোমার সৃষ্টির পথে।
এতকাল ধরে অনন্ত যাত্রাপথে
তোমার যে বহতা ধারা-
তাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে শুদ্ধ হবো আজ।
তোমার সারা দেহে অযুত নিযুত
ধর্ষণ চিহ্ন’কে -- আমার আঙুলের কোমল স্পর্শে
লালায়িত করে,
আশ্লেষে চুমো দিয়ে দিয়ে পেরিয়ে যাব
চড়াই—উৎরাই, জোয়ার—ভাঁটা, আর
তোমার দু-পারের বনপথ।
আকন্দ গন্ধ শুষে নেব আমি যতখানি পারি।
আমাদের—ই জন্যে আজ নষ্ট তোমার শরীর।
তোমার স্বাভাবিক উলঙ্গতা আজ যেন—
পথ-কুকুরের মিথুন চিত্র। আড়চোখে দেখে নিই আমি।
তাই এসো আজ—
হে প্রিয় আমার।
তোমার শিহরনে স্পন্দিত করো আমায়।
ভেসে যাই তোমার আলিঙ্গনের উন্মত্ত তাণ্ডবে,
তোমার সারা দেহে—মনে।
তোমার সারা শরীরময় নেচে উঠুক সেই আদিম ছন্দের সরগম্ -
যার ছন্দে নেচে উঠুক নতুন সৃষ্টি।
জন্ম-নিরোধক যা কিছু আছে—
তোমার দেহের খাঁজে খাঁজে ;
সবকিছু তোলপাড় ক’রে ভাসিয়ে দাও উগ্র রাগ মোচনে।
আমি শুদ্ধ হই—
তোমার সেই বিন্দু বিন্দু গড়িয়ে পড়া রাগে’র শীতল লাভাস্রোতে।
পান করি আবার স্বচ্ছ সেই আদিম নিরবিন্দু,
আঁজলা ভ’রে।
২২শে নভেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
দেখি আজকাল—
দেখে বেশ বোঝা যায়,
মন আর মুখ, কারো কারো এক হয়ে গেছে।
মন আর মুখ যদি এক হয়ে যায়
গেঁয়ো এক যোগী যেন বলেছিল কবে—
অমানুষ দূর হয়ে দেশ বাঁচে হায় !
তাই যেন দেখি আজ হইচই রবে।
কোনো এক গেঁয়ো যোগী বলেছিল যেন,
মন আর মুখ এক হলে তবেই তো মানুষ।
অমানুষ নেই তা’লে আর।
কখন যে টাকা ভ’রে এটিএমে ! কেউ তো জানেনা।
সবই তাঁর ইচ্ছে। জয়ত্তারা !
এটিএমের পাশে’র দোকানে দেখি কেউ কেউ গপ্প করে—
অযথা—সারাদিন প্রায়, যাদের
কোনোকালেই চোখে পড়েনি আমার।
জয়ত্তারা !
টাকা’র বন্যায়—
ভারতের প্রায় সব রঙ এক হয়ে যায়।
শব্দদুটোকে উল্টে দিয়ে দেখুন তো চিনতে পারেন কিনা ?
বন্যার টাকায় ! আরও আছে—
খরা, ভূমিকম্প, মহামারী, অনাহার এমন কি
শীত, বর্ষা, শরৎ।
সব জাত সব ধর্ম এক হয়ে যায়—
টাকার বন্যায়।
এভাবেই বেঁচে থাকা। এভাবেই আমাদের সংগ্রাম।
মহাফেজখানায় পাতা জড় হয় শুধু।
বন্দেমাতরম্—ইনকিলাব—ভারতমাতাকি জয়।
শনিবারে—পাড়া’র পুজোয় ; ঠিক ভীড় হয়।
১৮ই নভেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
শালুকডাঁটা—গাজলডোবার জলে শালুকের ডাঁটা আমি অনেক দেখেছি—,
অবিকল তোমার আঙুল।
হাজারে হাজারে ফুল ফুটে আছে তোমার আঙুলে।
নরম, পেলব, লাবণ্য এমন কতকিছু বিশেষণ আমি
ব্যবহার করতেই পারি। এমন হাল্কা যে উত্তুরে হাওয়ায় হাওয়ায়
কেঁপে কেঁপে ওঠে, তিরতিরে জলের ওপর।
এমন আঙুলগুলো কপালে বুলোলে সব ব্যথা সেরে যায়,
সব দুঃখ, সব যন্ত্রণা চলে যায় উড়ে।
ওই আঙুলেই ধরা আছে ত্রিশূল তোমার।
কখনো বা মুণ্ডমালা !
কখনো সেই ‘চাল ধোওয়া স্নিগ্ধ হাত’,
বাসন মাজা, ঘর মোছা অথবা খুন্তি নাড়া।
আমার কপাল আমি সবুজ করেই রেখে দেব।
সময় পেলে—
একটু আঙুল বুলিয়ে দিয়ে যেও।
১৭ই নভেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
যদি ভোরে, যদি খুব ভোরে—
দেখা হ’ত যদি এক অজানা আদরে,
একলা নদীর পারে।তবে জেনো,
তবে জেনে রেখে দিও
বিকেলের জারুলের ধুসর ছায়া
থেমে যেত—
থেমে যেত এসে, তোমার রূপের পাশে
অনায়াসে, অক্লেশে।
আমিও বেবাক ভূলে
সেই নদীকূলেসব কিছু ভূলে
একটি ধানের শীষ হেমন্তের ঝরাপাতা
দিনে—,
হাঁটুমুড়ে বসে, অবশেষে—
ধরিয়ে দিতাম তোমার সে উজ্জ্বলক্যানভাসে।
হাত শেষ হয়ে গেছে চাঁপার কলিতে
এসে,
সোনালী রঙিন রঙ যেন দ্রবীভূত হয়ে
আমারে তৃপ্তি দিয়ে ছুঁয়ে গেছে
বিকেলবেলায়।
শাল, নিম, বট আর আমের সে কচিপাতা
উঁকি দিয়ে যায় যেন
গোল গোল ডুমুর পাতায়। সেই ছবি
অপলক।
কুয়াশার মত ধীরে ছুঁয়ে দিয়ে যাও
আমার শরীর, সবখানি নিয়ে—
ভোরেরকুয়াশা মেখে
সামনে দাঁড়াও। তখন তোমার
উদ্ধত গর্বিত বুক, চোখের তারায়
অমানিশা স্থির হ’য়ে থেমে আছে।
ইচ্ছে করে—
কাঁধ বেয়ে নেমে আসা এক ঢাল
চুল নিয়ে, চামর দুলিয়ে
ব্যজনেতে ডেকে আনি, সেই দেবতারে—
যার পায়ে সব কুঁড়ি ফুল হয়ে ওঠে।
সেই ক্ষণে আবাহনে
ধুয়ে দিই সব কালো, মিছে যতকিছু
সব যেন জল হয়ে যায়—
চোখের তারায়। মিশে যায়
যত কালো রঙ, হলুদ রঙের ভীড়ে।
পরম আদরে।
** রিমিল একটি সাওতালি শব্দ, এর অর্থ মেঘ। এই নামটা বা বলা যায় শব্দটা আমায় এক্কেবারে ছেয়ে নিল।
১৪ই নভেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
১৪ই নভেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
সেদিন ছোট্ট একটা আদুরে মিষ্টি মেয়েকে দেখে জিজ্ঞেস করলাম – ”তোমার নাম কি ?”
মেয়েটি বলল – ”রিমিল মন্দ্রিতা কর” l
আমি শুনে অবাক হয়ে ওর মাকে বললাম – ”এরঅর্থকি ? ”
মেয়েটির মা বলল – ”তুমি চেষ্টা করে দেখোতো ?”
আমি বললাম – রিমিল কথারই অর্থ জানিনাl
ওর মা বলল – তুমি কেন ? অনেক বাংলা শব্দবিশারদই এই রিমিল কথার অর্থ জানেনা l কারণ, রিমিল কোন বাংলা শব্দই না l
আমি বললাম – “ওহ, তাহলে এই নামের অর্থ কি ?”
মেয়েটির মা বলল – ”রিমিল একটি সাওতালি শব্দ, এর অর্থ মেঘ l আর মন্দ্রিতা এসেছে মন্দ্রন বা গুড়ুগুড়ু আওয়াজ থেকে l অর্থাৎ রিমিল মন্দ্রিতা কর, নামের অর্থ হলো মেঘের গুড়ুগুড়ু আওয়াজ কর l ”
আমি শুনে অবাক হয়ে গেলাম l
https://dhimantamaldas.wordpress.com/page/11/
#
নদীর পারে
তোমার শাড়ি।
উড়ছে মুখে
মারকাটারি—
চোখটা বুঁজে
স্পর্শেরসুখ ;
মনের খাঁজে
পাগলা নদী।
উথাল মনে
পাতাল ছোটে -
স্বর্গ কোথায় ?
চোখের কোনে-।
একটু ঘেঁষে
যেইনা বসি,
রক্তে তুফান
পিঁয়াজকলি।
মাথায় নিয়ে
গুচ্ছ ফুলে
সতেজ ডাঁটা
আনারকলি।
তুমি তখন
উদাস চোখে
নিচ্ছ বুঝে
আমার সাঁকো।
আড় চোখেতে
একটু বেঁকে
বলছ যেন
‘আমার থাকো’।
আমি তখন
পাগল ছেলে,
তোমায় পেতে
সবটা দিয়ে
ফতুর হব।
এমন জ্বালা !
পেরেক ফোটা
সারা শরীর—
বিলিয়ে দিয়ে,
তোমায় নিয়ে।
হাস্নুহানা—
ফুলের থোকা
সবুজ সাদা—
গন্ধ ছড়ায়
দিক্বিদিকে।
তারপরেতে
তোমার ওড়া—
আঁচল নিয়ে
ছেলেখেলায়
মাতব আমি।
তোমার ঠোঁটে
ঠোঁটটা দিয়ে—
চকাস করে
একটা চুমু।
নদীর পারে
সন্ধ্যে আকাশ
শীতের বেলা
আঁধার নামে।
সেই আলোতে
তোমায় আমি
জড়িয়ে ধরে
আনব কাছে।
আনব কাছে—
বুকের কাছে,
এদিক দেখে
ওদিক দেখে
নাহয় দেবে
অপর চুমো
আমার গালে।
পোড়াকপাল !
ঠিক তখনি
একটা পাখি
আসবে উড়ে
গাইবে ডেকে
মুখটা তুলে
বৌ কথা কও,
বৌ কথা কও।
১৩ই নভেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
#
তোমার দুচোখ দিয়েছিল বেঁচে থাকা
শুকনো নদী’তে বইল প্রবল ঢেউ
হঠাৎ কেন যে স্রোতপথ বালি ঢাকা
এমন করেই চলে গিয়েছিল কেউ।
কত সুখস্মৃতি ভীড় করে মনে আসে
সেদিন তোমার চোখেতে কাজল কালো
আমি পথহারা মন তোমাতেই ভাসে
দিন, না কি রাত ? সর্বদা ছিল আলো।
তোমার স্বরেতে আবছায়া ফাল্গুন
মধুযামিনীর পরশ বারোটা মাস –
তোমার গলায় যত শুনি গুন্গুন্
আমার হৃদয়ে পদ্ম ফুলের চাষ।
লাঙল আমার তোমার হৃদয় খুঁড়ে
ফুটিয়েছিল কি সতেজ রঙিন ফুল ?
তবে কেন আজ চলে যাও পাশ ফিরে
একটা জীবন, তাও হয়েছিল ভুল ?
বেশ তাই হোক, জেগে থাকা সারারাত
উদাসী মনেতে টিমিটিমে তারা জ্বলে।
দূরে ভেসে যাবে দুচোখের নদীখাত
অসহায় পলি জমবেই প্রতি পলে।
সবুজের আলো নিভে গিয়ে অবশেষে
ফিরবে আবার কাঁটাগাছ, ঝোপ-ঝাড়
তাহোক তবুও তোমার সোহাগে মিশে
ফোটে যদি ফুল তবে তা চমৎকার।
১২/১১/২০১৬
কলকাতা।
#
শব্দেরা আজ হাওয়াও উড়ছে দূরে—
ধরি ধরি করে ধরতেই পারছি না
কবিতা যে তাই মনের অন্তঃপুরে
গুনগুন ক’রে শুধু করে আনাগোনা।
হঠাৎ করেই তুমি ভুলে গেলে আজ -
যদিও আকাশ নীল ছিল বহুক্ষণ।
সাদা মেঘগুলো ফেলে দিয়ে সব কাজ
ক্রমশঃ ক্রমশঃ চরছিল সারাক্ষণ।
শীতের আগেই কেন ঝরা পাতা হয়ে
আমার চোখের জলের দিলে না দাম
এবার ফাগুনে কি করে নিজেকে নিয়ে
একা একা কতো ভাববো, কি হারালাম !
সেদিনের কথা এখনো স্বপ্নে ভাসে
কত গানে গানে মুখরিত চারপাশ
এখন শুধুই সব কিছু অবশেষে
বেলা পড়ে আসা করুন দীর্ঘশ্বাস।
তবু জেনো তুমি, রাতেও তারারা জ্বলে
আকাশ তখন হয়তো বা কালো পট
তা হোক তবুও ঝিকিমিকি আলো এলে
উপোসী মনেতে ভায়োলিনে চেনা গৎ।
হয়তো তখন আনমনা উদাসীন
জানালার গ্রীলে অবাক চাঁদের মায়া
তোমার ঠোঁটে’তে ভিজে ছায়া সীমাহীন
দূরে ভেসে যাবে আর সব কিছু পাওয়া।
আবার কখনো উঠবে ভোরের আলো
যে আলো’তে আমি শুনবো পাখীর গান
ঝরাপাতা সব বাসবেই জেনো ভাল
ফিরবেই তুমি ছেড়ে দিয়ে পিছুটান।
১২/১১/২০১৬
কলকাতা।
#
কতকাল অপেক্ষায় আছি—
তোমার স্পর্শ যদি পাই কোনোদিন।
অথবা তোমার সাথে যে কোনো যোগসূত্র।
কিন্তু এখনো তো তার কোনো চিহ্নই দেখছি না !
বয়স বেড়েছে ঢের।
প্রাচীন বটগাছের অসংখ্য ঝুরি যেমন মাটি ছোঁয়,
তেমনি এবার আমার তো মাটি ছোঁবার পালা।
আমি তো ভীষ্ম কিম্বা যুধিষ্টির নই যে—
শরশয্যা বা স্বর্গারোহনে যাবো ! আমার জন্যে
রয়েছে স্ট্রোক বা কর্কটের অথবা অন্য কিছুর সাজানো উপাচার।
যাকিছু এগিয়ে দেবে আমার নির্বানপথ।
তাই খুব চিন্তায় আছি।
যাবার আগে যদি একবার স্পর্শ পাই।
তাহলে সুদ-আসলে তুলে নেব আমার সঞ্চিত ইচ্ছে-কামনা।
এবার তুমি ঠিক করে নাও কি রূপে আসবে তুমি—
আমার কাছে। আমার দুহাতের নাগালে।
তবে একটাই অনুরোধ,
একবার অন্ততঃ জানিয়ে দিও তোমার আসার পরিচিতি।
১০ই নভেম্বর, ২০১৬
কলকাতা।
#
কার্তিক দ্বিতীয়া এলেই ভয় করে আমার !
ভয় করে খুব।
তিলে তিলে গড়ে তোলা সহজ স্বপ্নেরা—
নষ্ট হয়ে যাবে এই আশংকায় !
একটা অনামিকাছোঁওয়া— কত কিছু পাল্টায়।
‘এই তো জীবন কালী’দা—’ দিনমানে ক্ষয়।
পরিযায়ী হাঁসেদের মত দেশে দেশে উড়ে উড়ে
ভুলে যাই জাতপাত যদি—
যদি ভুলে যাই ধম্মোটা আমার !
রয়ে যাবে, তুমি আমি, অজান্তে সবার।
কোমল হাতের স্পর্শ ছাড়া কিছু আছে নাকি, আর ?
জাত-ধম্মো সেদিনের-, তুমি ছিলে প্রথম সবার।
তাইত এ অকারণ ভয় !
ভেঙে যাবে কত কিছু, কতো সঞ্চয়।
কত রঙ জমে থাকা পরতে পরতে—।
মাঝে মাঝে কত ভুল-
ভেঙে ফেলে আমাদের মন-মাস্তুল !
কবে যেন এসেছিলে সাগর বেলায় –
মাঝে গোনা কটা দিন, স্মৃতি হাত্রায়।
এইভাবে বুড়ি ছুঁয়ে চলে গেলে পরে
শরীরে অনেক জ্বালা চুঁয়ে চুঁয়ে পড়ে—।
স্মৃতিজ্বর কুরে কুরে খায়
হেমন্ত বেলায়।
৪ঠা নভেম্বর, ২০১৬।
কলকাতা।
**
হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলির পার্শ্ববর্তী অঙ্গুলি।
কনিষ্ঠ বা কড়ে আঙুলের পাশের আঙুলটার নাম হলো অনামিকা। আর অনামিকা শব্দটির অর্থ—যার নাম নেই।
ইংরেজিতে অনামিকা আঙুলটিকে বলা হয় রিং ফিংগার বা আংটি পরার আঙুল। এ আঙুলটি রোমান্টিক এবং এই আঙুলে আংটি পরার ব্যাপারটি বেশ আন্তর্জাতিকতামণ্ডিত। বাঙালি বধূর হাতে যখন আংটি পরানো হয়, তখন সেটি তার বাম হাতের অনামিকাতেই পরানো হয়। বাঙালি বরের বেলাতেও তাই।
যে আঙুলে বিশেষ আংটি পরা হয়—সে আঙুলের বিশেষ একটা নাম থাকা উচিত ছিল বাংলায়—যেমন ইংরেজদের রয়েছে। অথচ বাংলায় তেমনভাবে নেই।
অনামিকা আঙুলের অনামিকা শব্দটি এসেছে সংস্কৃত থেকে। এই আঙুলের নামহীন হওয়ার পেছনে রয়েছে এক পৌরাণিক ঘটনা। মহাদেব শিব একবার ভীষণ ক্রুদ্ধ হয়ে চতুর্মুণ্ডু ব্রহ্মার একটি মুণ্ডু ঘাড় থেকে খসিয়ে ফেলেছিলেন। এই কাজটির জন্য তিনি কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেননি—শুধু অনামিকা ছুঁইয়েই তিনি কাজটি সম্পন্ন করেন।
এরপর নিজের মাথা যখন ঠাণ্ডা হলো, তখন প্রবল অনুতাপে মহাদেব অতিশয় অস্থির হয়ে উঠলেন, শাপ দিলেন নিজের আঙুলকে—বললেন, আজ থেকে তুই নাম গ্রহণের যোগ্যতা হারালি। আর এরপর থেকেই লোকমুখে এই আঙুলের নাম হলো অনামিকা।
সূত্র :বাংলা শব্দের উত্স অভিধান/ফরহাদ খান
#
শ্যামা কি শুধুই রবীন্দ্রনাথের – !
রামপ্রসাদের সুরে শ্রীরামকৃষ্ণ যখন
খোলা গলায় গেয়ে উঠতেন—
‘শ্যামা মা উড়াচ্ছ ঘুড়ি (ভবসংসারবাজারমাঝে)।’
তখন রবিঠাকুর, রামপ্রসাদ, রামকৃষ্ণ সব যেন—
তুবড়ি’র আলোর ঝর্ণায় এক হয়ে যান।
আমারও তো শ্যামা ছিল—
ছিল খঞ্জনা, চিল, নীলকন্ঠ, মুনিয়ারা।
শহরের উত্তাপে হারিয়ে গিয়েছে তারা।
এখন তারা শুধু রিও’র টেবিলে আলোচনায় !
আমার জ্যান্ত শ্যামা আজ
দুধের সরের বদলে রঙ ফর্সাকারি ক্রিমে
কেমন যেন পাংশুটে, রক্তশূন্য।
—পোকারা কিন্তু ঠিক সময়ে আলো দেখতে আসে
এখনো।
৩০শে অক্টোবর, দীপাবলি, ২০১৬।
কলকাতা।
#
Comments
Post a Comment