আমার কবিতা - ৬
মাঝে মাঝে জেদ চেপে ধরে –
মনের ভেতরে।
কদমের গন্ধখানা মনে হয় আমারই সব।
পড়ে থাকা ঝুরো বকুল –
কেন অন্য কেউ ছোঁবে !
কেনই বা ভেসে আসা কামিনীসুবাস
গন্ধ বিলোবে সব্বাইকে !
এ সব যেন আমারই একান্ত।
সব আমার সব আমার সব আমার।
বুঝি, বুড়ো মনে জং ধরে...
রঙ্ ছড়িয়ে দিতে দিতে -
গন্ধ বিলিয়ে দিতে দিতেই তো ভালোবাসার
প্রথম সকাল লাউ’ডগার লক্লকে আঁকশি’র মত
সেই মনে কেন জাগে
রূপ—বর্ণ—গন্ধ—ভালোবাসার -
কেন মনে হয় ? উন্মাদ আড়তদারী’দের ভিড়ে
আমার কদম আমার বকুল আমার কামিনী !
©গৌতমদত্ত
২০শে অগাস্ট, ২০১৭
কলকাতা
(সোমাদ্রি সাহা’কে সাহিত্যের জাগরণ পত্রিকার জন্য )
#
সারা রাত ধরে প্রহরে প্রহরে
গড়াগড়ি দিই মনের ভেতরে
চোরাবালি টানে সতেজ সমূলে
উঁচু থেকে নামি খাদের অতলে।
চারিপাশ বুনো আগাছায় ভরা
শ্যাওলা সুবাসে মন মাতোয়ারা
কচিৎ কখনো ঠোকাঠুকি মনে
চক্মকি জ্বলে গোপনে গোপনে
ঈষৎ আঁধারে রাত বেড়ে চলে
মনের হাতুড়ি পেটানোর ছলে
শব্দের বোঝা মাঝে মাঝে থামে
মাধুকরী মন দিক ভুলে নামে।
আবছা ঈশারা কথা সব শেষ
অচিন জগতে সোনাঝুরি রেশ।
খেলা শেষ হয় মনে তবু বয়
শান্তি শান্তি ওম্ সুধাময়।
©গৌতমদত্ত
১৯ই অগাস্ট, ২০১৭
কলকাতা
#
শুধু একবার -
যদি পারো –
ডাক দিলে ছুটে এসো একবার,
বুকখানা উজানে উঁচিয়ে।
পাগলা-ঝোরার থেকে জল দেবো এনে –
আর দেবো একমুঠো কুয়াশা’রমেঘ-মালা।
আর ডান পকেটে ঝরা বকুল, কামিনী।
আর কিছু নেই পকেটে আমার !
ভেবে দেখো – জল-মেঘ-ফুলে’র আদরে –
‘মনে রবে কিনা রবে আমারে’ !
আমি তো এমন’ই।
রূপ-রসহীন এক অজানা ক্যাকটাস্ ও বলতে পারো।
ফনীমনসা’য় ফুল এনে দিতে পারো তুমি –
ভালবাসাময় দশ আঙুলে একবার যদি খুঁড়ে দাও
আমার নিরস মাটি।
©গৌতমদত্ত
১৭ই অগাস্ট, ২০১৭
কলকাতা
#
চতুর্দিকে সবুজের ষাঁড়াষাঁড়ি বান।
ভালোপাহাড় এর বুকে মাটির জলছোপ। আর
হৃদয়ে হৃদয়ে হৃৎ-কমল।
তার ছোঁয়ায় গাছে পাতা ফোটে।
করমচা ফুলের হাওয়ায় ভাসে
কামরাঙার নিপুন শরীর।
নিষিদ্ধ ইস্তেহার ছড়ায় পায়ে পায়-
সবুজ সবু আর সবুজের
জয় বৃক্ষনাথে।
টাঁড় মাটি ভরে ওঠে ক্ষেতে
অরণ্যে।
বিশার নিস্তার আর কাঠের আগুনে
প্রাচীন ভারতবর্ষ আর ওম কন্ঠের
সান্ধ্য আদিবাসী পাড়া জাগে, ওঠে, নাচে।
সেই নাচ, সেই গান শিলালিপি হয়ে যায়
আকণ্ঠ প্রাণে। সোনাঝুরি ফুল ঝরে
অগনন, হাওয়ার ছন্দে।
রাতে নামে ঘুম নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে।
টুকরো আরণ্যক জেগে ওঠে
আম জাম লিচু সবেদায়।
আর জাগে গান –
কমল—নিষভে ধৈবতে গান্ধারে।
আমার তোমার আর –
অজস্র স্বপ্নের।
©গৌতমদত্ত
১৪ই অগাস্ট, ২০১৭
ভালোপাহাড়, পুরুলিয়া।
#
কাছে এলে দূরে যাওয়া যায়–
কাছে এলে দূরে যাওয়া যায় –
দূরে গেলে কাছে।
সব রঙ মিশে গেলে নেই- রঙ আর !
সাদা বালিয়াড়ি বড় মিহি।
পরাগ ফোটে ছড়ায় ওড়ে
সব রাগ ও-
কতো রূপ কতো বর্ণ কত গন্ধ।
সময়ের সীমানায় সব যায় মিলেমিশে।
পড়ে থাকে শুধু মন।
একান্ত আপন শুধু-
ফুলে ফুলে জমা করা মধু’র মতন
একরাশ আশা—আর
প্রজাপতি আসে সকালবেলায়।
ফুল-মন নিয়ে উড়ে যায়
নতুন আশায়।
©গৌতমদত্ত
১২ই অগাস্ট, ২০১৭
কলকাতা
#
বড় রুক্ষ হ’য়ে গেছে চারিপাশ।
বড় রুক্ষ হ’য়ে গেছে চারিপাশ।
সারাটা শহর। তাও ছিল ভালো,
ভাদ্রে’র রাতে যদি ফুল দেখা যেত !
অগষ্ট্ ছ’য় কিম্বা আট-এর মতো ?
মন- স্বপ্ন- আশা- আলো।
এখন যে ভাইরাল জ্বরে সব পুড়ে যায়।
হে মহান,
হে অনির্বান শক্তি,
সব কিছু নিয়ে নাও তুমি-।
শুধু একটুকু ভালোবাসা রেখে দিও প্লিজ্
বুভুক্ষু হৃদয়ে আমার !
একটুকু। এ্যাটমের মতো !
আবার গড়ে দেবো এক পৃথিবী আকাশ, নদী, পাহাড় আর
নতুন মানুষ-
যারা শুধু ভালোবাসা ছাড়া আর কিছু
বুঝবেই না।
©গৌতমদত্ত
১২ই অগাস্ট, ২০১৭
কলকাতা
#
হাতে থাকে যদি,
কিছুটা সময় –
এসো তবে কাছাকাছি।
কিছুটা জীবন নিয়ে বাঁচি।
খেলাঘর বাঁধা হ’ল কতো –
নিত্যদিন নিয়মের মতো।
বে-লাগাম হই তবে, চলো
একটা নদীর কাছাকাছি –
একটা সাগর-ঢেউএকসারি তালগাছ ;
যদি পারো – একটা পাহাড় এঁকে দিও
তারপরে যাবো চলে –
নিরুপায় নিরুদ্দেশে,
স্রোতহীন এ জীবন ফেলে রেখে, অক্লেশে
হাত ধরে কারো !
শুরু করি পায়ে চলা পথ, না হয়, আবারো।
তারপরে রাগ-অনুরাগ –
জীবনের যতো কিছু ভাগ
মিলবেই জেনো শেষে,পরিপূর্ণতার–।
©গৌতমদত্ত
৮ই অগাস্ট, ২০১৭
কলকাতা।
#
গ্রহন –
চাইলেই সব দিতে পারো।
তাইতো চাই না কিছু –
শুধু একমুঠো দখিনা বাতাস ছাড়া।
সময় চলতে থাকে, ঢেউ ও ।
কতোকিছু ওঠাপড়া- ভাঙাগড়া-
সব কিছু ফিকে হয়ে যায়,
তোমার ঠোঁটের ভাঁজে।
আশ্রয় প্রশ্রয় যতো কিছু দিতে থাকো
সব অনাবিল। একখানা ডাক দিলে
সবকিছু ফেলেছিঁড়ে চলে যাওয়া যায় –
হাতে থাকে অনন্ত সময়।
আর যদি দুহাত বাড়াও—
এলোমেলো ঝরে পড়া শ্রাবণদুপুরে
বৃষ্টি ঝরুক না ঝরুক,
ঝরে যাবো আমি নিশ্চই—
তোমার বুকের ওপর সাবলীল জোয়ার ভাটায়।
একফালি সরু চাঁদ
দেখা দেবে নৈঋত আকাশে।
শুয়ে বসে কেটে যাবে অনন্ত বিকেল।
©গৌতমদত্ত
১লা অগাস্ট, ২০১৭
মেট্রো, কলকাতা।
#
আপনজন—
আর কতোদিন লাগবে রে মন বুঝে নিতে –
শাল-মহুয়ার অনেক গাছই হারিয়ে গেছে
করাত দাঁতে।
শূন্য আকাশ অনেক আলো ঘাস পুড়েছে চড়া তাপে –
এর চেয়ে তো পাতার ফাঁকই অবাক চাওয়ায় ছিল ভালো
মনের সাথে।
মনকে নিয়ে জড়াজড়ি কাঁথাস্টিচের মোটা সেলাই
অবলীলায় ফুল এঁকে দেয়, ঘরও আঁকে
সোহাগ নিয়ে বুকের তাপে –
ক্যালপলে-রি রিয়্যাক্শনে সব তাপ কি
নামতে পারে – !
যতই থাকুক ভাঙাগড়া ছন্দমিলে –
দু-চোখ জুড়ে বৃষ্টিনামায় কতো দুপুর উধাও হলো
শ্রাবণমেঘে-, কত দুপুর ভিজলো আবার
মরণবাঁচন ভালোবাসায়। সে সব কথা মনই জানে
মনই জানে ভিজে ছোলায়
প্রাণটা ফোটে হঠাৎ করেই।
হঠাৎ করেই মনকে বুঝে মনকে চিনে সাতটা সাগর
উথালপাথাল দামাল ঝড়ে।
বৃষ্টি পড়ে বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর গাঙের জলে
ঠিক তখনি মনই বোঝে মনের কথা মনে মনে।
ঠিক চিনে নেয় আপন করে—
আপনজনে।
©গৌতমদত্ত
২৯শে জুলাই, ২০১৭
কলকাতা
#
ভুলে যাওয়া ভাল -
আরো ভাল দূর ছুঁয়ে থাকা।
দারুচিনি দ্বীপ থেকে সুগন্ধ ঘ্রাণ ভেসে আসবেই।
জেনো মন ঘরে যে পোকাটি উজ্জ্বল ছিল কাল -
আজ অল্প হলেও সে জ্বলবেই-।
দিনেও জোনাকিরা মিশে থাকে
আমাদের চারদিকে।
বাকি শুধু চিনে নেওয়া।
খুঁজেনিও সেই দূর বনানীর ফাঁক
খুঁজেনিও স্বপ্ন মাখা নক্ষত্র বিকেল
ক্রিমরঙা চাঁদ আর
বুনো গন্ধ মাখা সেই বনফুল।
রেললাইনের ধারে ধারে অগুন্তি অজস্র
সাদা হলুদ কমলায়।
সাধছিল ভালোবেসে যাবো
দপদপে তারার মতো।
একঝাঁক রঙিন মাছের মতো।
নদী পারে উড়ে বসা জলফড়িং এর মতো।
এলোমেলো হয়ে যাবো ভালোবাসা মেখে নিয়ে -
মেখে নিয়ে সারাটা শরীর।
যদি পারো -
দিও কিছু বাড়তি সময় -
আর কিছু প্রজাপতি রঙ।
ভেসে যাবো ঘুমমাখা অপলক চোখে।
©গৌতমদত্ত
২৭/০৭/২০১৭
ব্যাংকক। থাইল্যান্ড।
(যুগ সাগ্নিক এ প্রেরিত – ২০-০৩-২০১৮)
#
কথা-
মনে মনে কত কিছু ভেবে নিতে পারি
চাঁদ ধরে হাতে নিয়ে বলতেই পারি -
রূপকথা যেওনা শোনো -।
ধূপছায়া শাড়িখানা বড় ভাল লাগে
বড়ো নরম, চাঁদের আলোর মতো
প্রান্তর-জোৎস্নায় ধলভূমগড়।
সবকিছু গুণাবলী আবছা হলেই
লক্ষ্মণরেখা অথবা দু-পলা গোমেদে
টান কমে নাকি পৃথিবীর !
তবু ভালবাসা পেয়ে গেলে -
টান বাড়ে। হয়তো তাই -
রাত-গভীরে কথারাই রংমশাল হয়ে
আলো ছড়ায় মনে মনে।
©গৌতমদত্ত
২৪শে জুলাই, ২০১৭
#
মুর্খ—
কিছুই শিখিনি আমি।
জানি না অভিমানভাষা—
কেমন করে চোখজল জমে মরচে ধরে,
তাও তো অনুভবসীমার বাইরে !
এক ঝাঁক মাছ খেলা করে কাঁচের ওপারে—
নিজের মতোই শুধু।
শুধুই কি বেঁচে থাকা যায়।
কিছুই না বুঝে— জেনে—শুধুই শরীর ?
এটুকুও কি
বোঝা উচিৎ ছিল না ? তবুও বুঝিনি।
বুঝিনি এখনো, কেন পাগলা মেহের আলী
মাঝে মাঝে চিৎকার করে ওঠে আর কেনই বা
আরেক পাগল সাপলুডো খেলে পৃথিবীর সাথে !
বড় ভুল হয়ে গেছে—‘ঘুম ঘুম চাঁদ ঝিকিমিকি তারা’
ডেকে নিও কাছে, শিখিয়ে দিও সরগম আর
ভালোবাসা—
একটু অপেক্ষা করো—
দশ মাস মাত্র। আসছি নিশ্চই...
©গৌতমদত্ত
২৩শে জুলাই, ২০১৭
কলকাতা।
#
এক জানলা বৃষ্টি মেখে মেঘলা দুপুর
আমি তখন মগ্ন হয়েইবইটা খুলে
চোখটা বোলাই তখন তোমার দৃষ্টিপাতে
কঠিন আগুন বাইরে তখন ঝরো ঝরো
মুষলধারে প্রেমের ফোঁটা হঠাৎ আমার
চোখ চলে যায় তোমার চোখে ছলছলিয়ে
জল-ফোঁটাটায় হীরের দ্যুতি উদাস মনে
হাঁটুর ওপর থুতনি রেখে গাল ফোলানো
রুপের মায়ায় জড়িয়ে গেলাম অবশেষে
মান ভাঙাতে বইটা রেখে দুহাত বাড়াই
আড়চোখেতে আমায় দেখে ঠোঁটের কাঁপন
আড়বাঁশিতে ফুঁ-টা দিয়েই শুদ্ধ সারঙ্
উঠল বেজে বাইরে নিঝুম অন্ধকারে
বকুল পাতায় জল টুপটুপ মনকাড়া
ওই আড়বাঁশিটা সরিয়ে রেখে তুমি আমি
একলা দুপুর দোকলা দুপুর ছবি আঁকা।
©গৌতমদত্ত
৭ই জুলাই, ২০১৭
কলকাতা।
#
ভাইরাল—
শ্মশানের কালো ধোঁয়া
ইদানীং অনেকটা কম।
বাক্সবন্দী হয়ে পুড়ে যায় শব -
খোঁচা-মারা আত্মীয় উল্লাস
মোতিয়া-কা-বুন্দ আজ।
সেই ছোট্টোবেলায় শোনা
হেমন্তের দরাজ গলায় –
‘কবর দাও বা চিতায় পোড়াও...’
বড় বেশি জ্যান্ত লাশ পোড়ে আজকাল।
মোবাইলে ছবি ওঠে –
বিষাক্ত হয়ে যায় তা সাথে সাথেই।
©গৌতমদত্ত
৫ই জুলাই, ২০১৭
কলকাতা।
#
(এক)
বৃষ্টি অঝোর – তোমার শরীর ছুঁয়ে
মোম রঙটার সবুজ নীলে হাত
তোমার কাছে অষ্টপ্রহর ঋণ।
বেড়েই চলে তালের সারি’রছবি
আমার তালু পদ্মপাতায় খোঁজে
ভোরের শিশির–সেইটুকু সম্বল।
(দুই)
সকাল সকাল ডাক দিলে এম. জি. রোডের মোড়ে –
ছাতার তলায় খুঁজতে থাকি মুখ।
সবুজ সবুজ কাঁচা ডাবের
থোকায় থোকায় ভীড়
সবুজ রঙা ছাতার নীচে ডাবপানা সেই আলো
মনের কোনে বৃষ্টি-ভেজা
আখতারীবাঈ মীড়।
(তিন)
এক হাঁটু জল ঠনঠনিয়া’য় তুমি আমি
হাঁটছি যখনট্রামলাইনে তখন তুমি
হোঁচট খেয়েই লাগামছাড়া খামচে ধরো
আমার কোমর ঠিক তখনই একখানা
বাস জল কাটিয়ে ঢেঊ ছড়িয়ে এলোমেলো
করেই তোমায় আমার কাছে পৌঁছে দিয়েই
চলতে থাকে আমি তখন তোমায় নিয়েই
প্রথম আলো বুকের ভেতর বৃষ্টি নামে
অনুভবে সে যেন এক নতুন জীবন
আষাঢ় ঘ্রাণে।
(চার)
বৃষ্টিকে কখনো কি উড়তে দেখেছো ?
আমি দেখেছি –
দানায় দানায় টালমাটাল পা’য়ে
এখনো সে উড়ে যাচ্ছে, যাচ্ছে আর যাচ্ছে—
একটুকরো মেঘ ধরে
মিশে যাবে বলে।
তারপর, আবার উড়ে উড়ে
আবার বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে আমাদের চারপাশে।
দেখি, যদি একবার—
ধরতে পারি।
(পাঁচ)
পাতা’রা সবুজ হয় আরো
বৃষ্টি পড়তেই থাকে।
ঘাসে হাত বোলালেই জল লাগে
হাতের তালুতে –
জিভ দিই, নাক ঠেকাই
অদ্ভূত নাড়াচাড়া মনের ভেতরে।
পরম তৃপ্তিতে –
শুয়ে পড়ি ঘাসের ওপর,
সারা শরীর ভিজে যায়।
কিছু কি ক্ষরন হয়
আনন্দে ?
©গৌতমদত্ত
৪ঠা জুলাই, ২০১৭
কলকাতা।
**সৃজন ব্লগ এর জন্যে---
#
বৃষ্টি এখন—
বৃষ্টি এখন আমার জানলা জুড়ে
বৃষ্টি এখন আমার বারান্দায়
বৃষ্টি এখন বকুল পাতায় ভিজে
বৃষ্টি এখন কদম কুঁড়ির গা’য়।
বৃষ্টি এখন আমার মনের কোনে
বৃষ্টি এখন সবুজ ধানী মাঠ
বৃষ্টি এখন সলাজ কনের মুখ
বৃষ্টি এখন জল থইথই ঘাট।
বৃষ্টি মানেই তোমার নরম হাত
বৃষ্টি মানেই তোমার চুলের ঘ্রাণ
বৃষ্টি মানেই তোমার গোপন মনে
ঝরঝরিয়ে শ্রাবণ ফোঁটার স্নান।
বৃষ্টি মানেই আবছা আলো’য়তুমি
বৃষ্টি মানেই মেঘের স্বপ্ন চুরি
বৃষ্টি মানেই তোমার কাছে যাওয়া।
©গৌতমদত্ত
২৭শে জুন, ২০১৭
কলকাতা
#
বধু’টি জন্ম দিলো তৃতীয় কন্যা সন্তানের –
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার পথে,
সাইকেল ভ্যানেই।
হাসপাতাল তখনো কিছু দূর !
ভোরে’র আলো তখনো ছোঁয়নি পাশের আলপথ।
সাথে চলা পশুগুলো চরম হতাশায়,
নাড়ি ছিঁড়লো হাতের টানেই।
নতুন মেয়ের কান্না ছড়াল পাশের ঝোপে...
বধু গেল হাসপাতাল !
ঊনসত্তর বছরের স্বাধীনতা –কি পেল তবে ?
কন্যাশ্রী আজ রাস্ট্রপুঞ্জে –
প্লেনে চেপে আসছে পুরষ্কার !
কলকাতা এখনো ধরে রাখতে পেরেছে –
হাতে টানা রিক্সা !
জয় ! ভারতমাতার জয় !!
©গৌতমদত্ত
২৪শে জুন, ২০১৭
কলকাতা
#
অব্যয়—
কতোদিন হয়ে গেল খেলিনি তোমার সাথে –
ভুলে গেছি এক্কা-দোক্কা’র ঘর,
ভুলে গেছি চেনা ফ্রক –সহজ বিনুনি,
কতো না সহজ ছিল স্কুল থেকে ফেরা।
গোল্লাছুট – ক্রিংক্রিং –শরৎ আকাশ।
আকাশটা ছোট হ’য়ে গেল ইঁট—কাঠ—কংক্রিটে !
বিজ্ঞাপন কতো উঁচু আজ।
দোয়েল হৃদয় জিরাফের গলা ছুঁতে গিয়ে –
পিঁপড়ের সারি দেখে। যদিও বিমান
এখনো রানওয়ে ছোঁয়নি।
অব্যয় বাদ হয়ে যেতে আর বেশী দেরী নেই !
©গৌতমদত্ত
২২শে জুন, ২০১৭
কলকাতা।
#
গোলাপ—
যদি দূরে যেতে চাও, বোলো –
বালিয়ারি দিগন্ত মেখেছে এখানে।
একা একা কত দূর যেতে পারো বলো –
ভাঁটাজল খেলা করে যায় এলোমেলো !
আকাশটা ঝুঁকে আছে সাগরের জলে -
পোয়াতি বুকের মতো, ভারী নরম স্বাদু
এ এক আশ্চর্য্য যাদু–
মাটি ফুঁড়ে ওঠা গোল গোল আলুপাতা।
বিস্ময়, শিহরণ– এমন কি হিংসের ও
তৃপ্তি’তে অতৃপ্তির যোগ সমাবেশ।
তার পর সাইনাস -
উপসংহারে বিক্ষিপ্ত অঙ্কুর –
ছুরিকাঁচি কাজ করে চলে অক্লেশে।
একা একা পারো নাকি হারা-তে !
নির্বোধ বালিকা আমার ! তার চেয়ে –
ভরে দিও শ্মশান কবরস্থান নতুন গোলাপে !
মানুষ দেখুক –শরীরের মাঝখানে
গোলাপের কুঁড়ি হয়ে ভরে দিতে পারে দেশ –
অবলীলাভরে।
©গৌতমদত্ত
১৮ই জুন, ২০১৭
কলকাতা।
#
মাথার মধ্যে অবিরাম ঘুরপাক খায় –
একখানা রিংটোন।
যা আমি নির্দিষ্ট করে রেখেছি, শুধু
তোমারই জন্যে।
বিজ্ঞান কতোখানি ভালবাসা কাছে এনে দিল।
‘বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কিন্তু কেড়ে নিয়েছে আবেগ।’
আজ আর এ কথা মানতে কি মন চায় !
কে বলে – অপেক্ষার রিংটোন আবেগহীন।
এ পোড়া দেশে এইটুকুই তো বাঁচিয়ে রেখেছি।
পোড়া রুটিতেও ভালবাসা
সাদা কালো চার্লি
অথবা ঘটকবাবু।
ফ্রেম থেকে ফ্রেমে শিউলির গন্ধ মাখা ভোর !
সবকিছু তোলপাড় করে দিয়ে
রাম তেরী গঙ্গা মৈলি-
আর রাজ !
দে কর্তার গান, ভেসে বাড়ায় সিমলে পাড়ায় –
“যদি কাগজে লেখো নাম, সে নাম...”
একবার গান লেখা সারা হ’লে –
“চোখের আড়ালে মাটির নীচে ঐ
যতই মোছো না কেন -
অপেক্ষার রিংটোন !
©গৌতমদত্ত
১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ২০২৪
১লা জুন, ২০১৭
#
বিভাবরী-
আসমানি রঙে ভরে যায় যদি
সাগর কিনারে একটি দুপুর।
আর যদি থাকে ক্যাজুরিনা ঘেরা
সাদা বালিয়াড়ি – ফেনা’র নূপুর !
তখন কি তুমি মেখে নিতে পারো -
ঝাউ মাখা বনে, ভালবাসা আরো !
পুরুষালি ঠোঁটে আবেদন দেখে
বাড়াতে কি পারো দুঠোঁট আবারো !
দুহাতে সরিয়ে সরু ঝাউপাতা
নীচে সাদা বালি পায়ে পায়ে আঁকা।
ছায়া ঘেরা জমি, দূরে ঢেউ ভাঙে
অপলক তুমি মুগ্ধতা মাখা।
যুগ হতে যুগে এমন করেই –
প্রেম বোধি পায় আলোয় ছায়ায়
দেহ বিভঙ্গে ঢেউ ছুটে এলে,
কামনার ধূপ হৃদয়ে হারায়।
তখন হৃদয়ে শুধু আশাবরী
শরীরি ছন্দে জাগে মাধুকরী
আসমানি রঙ শরীরে জড়িয়ে
কোষে কোষে নাচে কলা বিভাবরী।
©গৌতমদত্ত
৩১শে মে, ২০১৭
#
ফুল-মালা -
দিতে পারো যদি একখানা চাঁপা
স্বপ্নে সাজাবো পায়ে চলা পথ।
আর যদি দাও দু-হাত ভরিয়ে
ফেরাবো না মুখ, করছি শপথ।
খুব বেশী নয়, দশটা পলাশ
বুকের ওপরে ছুঁড়ে দাও যদি –
মনের সে-তার জেনো বাজবেই
জোয়ারে ভাসবে সেই মরা নদী।
ঝরা বকুলের একখানি মালা
দু-হাত বাড়িয়ে যদি এনে দাও
মাথা হবে নীচু তোমার বুকেতে
ছলছল চোখে- যদি তা পরাও।
কৃষ্ণচূড়ার আগুন আবীরে
দোলপূর্ণিমা যদি যায় ভেসে,
সন্ধ্যার চাঁদ নীল রঙ মেখে
ফাগুন আকাশে উঠবেই হেসে।
গোটা দশ কুড়ি কদমের ফুলে
একখানি গোছা সবুজে জড়ানো -
হলুদ সাদায় মন ভরে যাবে
বাকিটুকু থাক ; আবেশে ভরানো।
শিউলির থোকা দুহাত ভরিয়ে
শরৎ বাতাস এনে দিতে পারো !
গাঢ় ঘ্রাণে আমি তোমার শরীর -
ছুঁয়ে যেতে চাই ; তখন আবারো।
যুঁই বেল আর গন্ধরাজটা
গন্ধে ভরাবে এই ছোটো ঘর।
রজনীগন্ধা হাওয়ায় দুলবে
তুমি আর আমি অবিনশ্বর !
অবিনশ্বর সাদা কাশ ফুল
যুগ হতে যুগে দোলা দিয়ে যায়।
মিলিত মনের গোপন মাধুরী
জেনো ফুটবেই, কোনো সন্ধ্যায়।
©গৌতমদত্ত
৩০/০৫/২০১৭
#
খুব ইচ্ছে করতো নারকেল গাছে চড়ার -
উঠতেই পারি নি কোনোদিন।
ভাবতাম, ওই মগডালে উঠে
দুহাত দিয়ে নারকেল পাতাগুলো সরিয়ে সরিয়ে
একবার হাতটা বাড়িয়ে দেখব -
আকাশটা কতো দূরে আরো!
সবুজ পেলব কচি ডাবগুলোর গায়ে হাত বোলাবো
নারকেল ছায়ায়।
যদি ইচ্ছে হয় জল খাবো সবুজ ডাবের -
নারকেল গাছে চড়ে।
কিছুই হ'ল না এ জীবনে।
আমাদের সময়ে সব নারকেল গাছই খুব লম্বা ছিল।
এখন দেখি
কি সুন্দর নীচু নীচু নারকেল গাছে
সবুজ ডাবগুলো সোনালী হয়ে গেছে।
লোভ হয়, লোভ হয় খুব।
মই দিয়ে ডাব পেড়ে নিতে পারি -
কিন্তু
মই এ চড়তেই - পা কাঁপে এখন।
সোনালী সবুজ ডাব এ জীবনে অধরাই রয়ে গেল -
জীবন বহমান।
©গৌতমদত্ত
২৭শে মে, ২০১৭
#
পুরোনো কথাই -
ভালবাসা গাঢ় হয়ে এলে পরে
পদ্মের পাপড়ি আকাশের মেঘ মাখে -
সারা গায়ে তার।
জলের গন্ধ মুছে গিয়ে
কাশফুল গন্ধে ভরে যায় সবকিছু।
ভোরের মহিষাষুরমর্দ্দিনী'র অপরুপ গানে
জেগে ওঠে মন।
তার আনাচকানাচে রামধনু ছটা -
চোখের নিবিড় দৃষ্টিতে ভিজে কদমের রেনু,
সারা দেহে নাচে জলের ঢেউ শরত বাতাসে।
এমন একটা সময়ের জন্যে
ভালবাসা অপেক্ষা করে
জন্ম জন্মান্তর।
©গৌতমদত্ত
২৩শে মে,২০১৭
দুর্গাপুর
#
দৃষ্টি -
(১)
চোখের তারায় ফুটে ওঠে ঠিক
কতখানি চাওয়া চাইতে পারো !
বুঝে নিতে হয় এক লহমায়-
ভালবাসা কতো কাছাকাছি আরো।
(২)
মুখ ফেরালেই
আমি বুঝি ঠিক
দৃষ্টি কুয়াশা
নোনতা জলেই-
তবুও তোমার
উজাড় চাহনি
গলে গলে পড়ে
আমার গালেই !
(৩)
একমুঠো ভালবাসা ছুঁড়ে দিয়ে তুমি
পালাবে কোথায় আমি তো জানি
সাগরের ঢেউ ঠিক ফিরে আসে
ফেরাবেই জানি সে চাওয়াখানি।
(৪)
চোখের পাতায় বৃষ্টি দেখেছি
কদমফুলের মতো ভিজে –
হাল্কা সুবাসে’র গন্ধ লেখে থাকা সেই দৃষ্টি
আর সেই চোখে যদি কাজলের টান লেগে থাকে –
তাহলে তো ঈশ্বর দু-দুবার ভাববেন
বাংলার পুকুরপাড়ে দুপুরের ছায়া
ঠিক কোনখানে ফেলবেন !
(৫)
বিগত কবি’রা মুঠো মুঠো পংক্তি কালি দিয়ে মেখেছেন
তোমাদের দৃষ্টিগুলো – ছেনি আর হাতুড়ি’র ঘায়ে
খাজুরাহে, কোনার্কে।
ফতেপুরসিক্রির লাল চাতাল অপেক্ষা করে আছে
তুমি তাকাবে বলে।
একটু আড়চোখো দৃষ্টি’র জন্য কতোকাল আমি
তোমায় পাশ থেকে একবার দেখবো বলে
সারা রেড রোড ধরে আমি হেঁটে যাবো বারংবার।
গঙ্গা’র দিকে যেন বেশী তাকিও না তুমি –
কলকাতা ভেসে যেতে পারে গঙ্গার জলে।
©গৌতমদত্ত
১৫ই মে, ২০১৭
কলকাতা।
(“সৃজন” ব্লগাজিন এর অনুরোধে - )
#
এমন করেও চলে যাওয়া যায় ! জানতে ?
কেন চলে গেলে পারিজাত ফুল আনতে ?
অনেক কথাই বাকি রয়ে গেল বলতে –
এতো তাড়া ছিল ? পারো নি তো সব শুনতে !
কথা দিয়েছিলে কাল রাতে ফোন করবে
আজ ফোন করে ধরে ধরে সব শুনবে।
বহু অভিযোগ কাল রাত থেকে জমছে
বলবো কখন – মন শুধু জাল বুনছে।
শুনবো আজকে ওই ফুলটার রঙটা !
আজকে আকাশ তোমার তাপেতে জ্বলছে
আমাদেরো মন তোমাকেই খুঁজে চলছে।
আজকে আবারো ফুল-সজ্জায় সাজবে –
আকাশ-প্রদীপ আজ তারা’রাই জ্বালবে।
৫ই মে, ২০১৭
কলকাতা।
##
Comments
Post a Comment