আমার কবিতা - ১

 

#

লোডশেডিং

রাত ছিল পূর্ণিমারজ্যোৎস্নার অনির্বার
প্রয়াস ; স্বচ্ছন্দ ; সাবলীল
সীমাহীন কালো প্রেক্ষাপটে ছিল কিছু তারা,
গভীর প্রত্যয় বুকে নিয়ে  মোটামুটি
এই ছিল আমার আকাশ ভরা ভাদ্রের
দুকুল ছাপানো জলের মতো
 
নীচে, মহানগরীর অমাবস্যা
বিজ্ঞানের সমস্ত প্রয়াস যেন আজ হতবাক
কাগজে কাগজে রঙবেরঙের সুফলা আত্মপ্রচার
হ্যালোজেন, মার্কারীর ঘনীভূত সুষমা আমাদেরই
দিকে বুমেরাং জ্বলন্ত উল্কাপিন্ডের মতো  জল, আলো, পাখা
আলেয়ার দিকে ছুটে থাকা
একদলবুবুক্ষু  কড়িবরগার চতুবর্গ যা কিছু সুখ-স্বর্গ
সব কিছু নিস্তব্ধ নিস্প্রাণ

ছাদে প্রাচীরের ঘেরা ফাঁদে
ধরা দেয় চাঁদ  অশালীন হাওয়া করে আসা যাওয়া
রঙীন বিজ্ঞাপনের ক্রোড়পত্র হাতে নিয়ে
পূর্ণিমার চাঁদ এখনো টানে
মিটমিটে তারা এখনো ভালো লাগে  এছাড়া আরো কিছু
স্বপ্ন যা মহানগরীতে দুর্লভ স্বপ্ন মনে হয়  শুধু দেখি
উচুঁউচুঁ প্রাণহীন বাড়ীগুলো
দাঁড়িয়ে রয়েছে -   বিংশ শতকের অগ্রগতির জয়রথ
চারিকোনা দিগন্তের কালো বর্ণচ্ছটা সভ্যতার
নবতর ঘনঘটা অলীক, অস্ফুট, অবাক
যেন একঝাঁক
জালে পড়া মাছ অবিরত মুক্তির উন্মাদনায় ছটফট করে
স্থির হয়ে গ্যাছে  পলক-না-পড়া দুটি ব্যাথাতুর চোখ ;
কানে কানে বলে
চারিবর্গে তারাগুলি অবিরাম জ্বলে  অবশেষে
উত্তীর্ণ প্রহরে, - দিগন্তের ঘেরা বৃত্ত ছেড়ে
চলে যায় অন্ধকারে আলোর ওপারে
যে পারের হাওয়া বয়ে আনে মুক্তির সাধ
মধুর আস্বাদ

নীচে এখনো অমা রাত্রির ভয়াল ভ্রুকুটি
সভ্যতার আলোর ঝলকানি এখনো মেগাওয়াটের খপ্পরে
বাঁধা পড়ে আছে  ইউনিট বিকলাঙ্গ ;
ক্লান্তিতে অবসাঙ্গ বিংশ শতাব্দীর অগ্রদূত আমরা অদ্ভুত
হিসাবের তুল্যমূল্য কথা কাটাকাটি এড়ানোর সযত্ন প্রয়াসে ;
আমরাও অনায়াসে সয়ে গেছি
শুধু বেঁচে আছি এইটাই অমরত্ব  কে জানে
কোন ক্ষণে করেছি অমৃত-পান
 
বড় ভয় ছিলো প্রকৃতির ধারালো যাদুগুলো
একে একে গিয়েছিল চলে
নগর ও সভ্যতার অকৃপণ বিস্তারে
সভ্যতার গর্বভারে চোখ ছিল অন্ধ ; মন ছিল বন্ধ
খড়খড়ির অন্তরালে  যান্ত্রিকতার নিগুঢ় আড়ালে
নেশা লেগেছিল মনে ; সবুজের ছোপধরা বনে
পড়তনা চোখ আর প্রকৃতির পানে
গল্পে গানে শুধুই ইঁট, কাঠ, বালি অথবা
নোংরা ডাস্টবিনের অকৃপন উদ্ধৃতি
 
আর নাই ভয় দিতেছে অভয় এই শহরের প্রাণ
দম বন্ধ করা গুমোট আস্তানা ছেড়ে
চলো যাই মুক্তাকাশের নীচে, যেথা এখনো ঝরে জ্যোৎস্নার
শিউলি গলিত হৃদয়গুলি এখনো দেখতে পায়
সন্ধ্যার আকাশে কত তারার উদয়
মনে হয় প্রকৃতির নেই কোন লয়
আকাশের তারায়, পূর্ণিমার চাঁদে এখনো মন জাগে
 
যদি কিছুকাল আর এইভাবে থাকে
আবার লাগবে গ্রহণ সূর্যে ও চাঁদে  আশার আশ্বাস ;
প্রকৃতির দিকে চেয়ে ফেলব নিশ্বাস।।

#

মনের ছন্দ-

মন তো তখন ফর্সাই থাকে
জন্মের সেই ক্ষণে
তবে কেন, পরে এত চলকায়
জীবনের মাঝখানে
যেমন শুরুতে সবুজের দ্বীপ
সবকিছু বুঝে নেয়
সেই মন কেন, অজানা আভাসে
দূরে দূরে যেতে চায়
মনেরও কি তালে বয়স বাড়েই
প্রতি বছরের শেষে
তবে কেন বলে, মনের বয়স
শিশুর মতই হাসে
মনের রূপের কত না বাহার
সারাটা জীবন ধরে
কখনো মনের জ্বালা চমকায়
আগাছার মত করে
সেই সাদা মন, হঠাত কেন যে
কালোকেই বাসে ভালো
পশ্চিম মেঘে সন্ধ্যা ঘনালে
কই কনে-দেখা-আলো?
মন তো স্বচ্ছ জলের ধারায়,
স্নান করে দিন মান-
সেই জল যদি লোনা হয়ে পড়ে
কি করে শোনাবে গান
মনতো মিলবে সব খানেতেই,
উজ্জ্বল সব কিছু
তার মাঝে মাঝে, হেসে খেলে চলে
নোংরাও পিছু পিছু
দুধ আর জল মিলেমিশে যায়
কাটেনা তাদের সুর-
মন আর বোধ মেলানো কঠিন
রাস্তা যে বহুদূর
পলকে পলকে মন করে তাই
উদ্দাম নাচানাচি
কত যে ছন্দে, কত না বর্ণে
গ্রহণে পুড়ছে মাছি
সোনার রথেই মন পড়ে থাকে
মননের মধু ধরে
কাদাভরা পথে মনকে বাঁচানো
যায় নাকি বারে বারে?
তবে কেন মনে, এত আসে জ্বালা
নিত্য নতুন পথে
নীল আকাশেতে মন যেতে চায়
শুধুই স্বর্ণ রথে
মনটা তোমার, মনটা আমার
কেউ দেবেনা যে ধার
যেমন চালাবে তেমনি চলবে
বৃথা কেন হাহাকার?
 
৮ইজুলাই,২০১৫

 

#

রূপালী নায়িকা -

বিগতা লাবনি নৃধর্ম বঞ্চিত
চিত্রজগতে অদৃশ্য ওই মুখ,
নিজের স্বাদরে প্রতিজ্ঞ,নিশ্চল
অনুরাগীজনে অদ্ভুত নিশ্চুপ।
 
গণমাধ্যমে,শোণিতের চিত্রন
হৃদয়ে নটীর আবীত সংস্মৃতি,   
নৃত্যের ছায়া এখনো অবিগত
মর্মে মর্মে উড্ডীন সেই গতি।
 
কালের প্রহরে ভ্রান্ত বিলাসিতা,
স্বাধীনতা আজ প্রজ্ঞায় নিন্দিত,
রাজনীতি আনে মুক্তির আস্বাদ -
তারি ঘেরে বাঁধা জীবন সমর্পিত।
 
মূর্খ জনতা লেজুড়বৃত্তি শ্বাসে,
অনন্ততলে স্থিরত্বে নিমজিত
বাঙ্ময়তা বহুরূপে বহুগামী
স্থবির যুক্তি বহুধায় মুখরিত।
 
চিকন পাতাটি সুক্রিয়,কৌশলে
তাই রূপালী নায়িকা ছোটে
আত্মপ্রচারে ব্যতিব্যস্তময়,     
পড়ন্ত পাতা,মৃত্যুর দিকে হাঁটে।
 
বিবেক আজিকে জিরাফদৃষ্টি সম
নিম্নে উদাস রাতকানা দুই আঁখি
আপন জগতে সর্বদা পারাপার
তোমার সৃষ্টি তবে কি শুধুই ফাঁকি ?
 
 
৪ঠা জুলাই,২০১৫
 

#

বাছবিচার

অনেক কথাই বাকি রয়ে গেল বলা
সুযোগ পাব কি
বাকিটা জীবনে
নাকি, শেষ হয়ে যাবে এই চলা
মাঝে মাঝে খুব একাকী মনে হয়
মনে হয় যা চেয়েছিলাম বলতে
সেকি পারলাম
কেউ কি শুনলো আমার কথা
কেনই বা শুনবে ?
আমার মত এক সাধারন মানুষের কথা,
শোনার কি দরকার আছে কোনো
 
লেখা হয় প্রকৃতির বনে
নতুন করে প্রতিদিন
এক একটা দিন যেন নতুন করে
এঁকে দেয়,
নতুন আকাশ, নতুন আলো
ছড়িয়ে দেয়,
নতুন রঙ, নতুন গন্ধ
সবাই কি অনুভব করে ?
দেখে প্রতিদিন ?
প্রাত্যহিকতার এই রঙবদল
কিন্তু প্রকৃতির বিরুপতা
তার যদি কোনো সৌন্দর্য থেকে থাকে
সেটাতো আমাদের চোখ এড়ায়না
তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখা চলে
 
ফুলের গন্ধের কি কোনো জাত থাকে ?
অথবা নতুন চিকন সবুজ পাতার ?
কিংবা এই বর্ষায়
ফুটে ওঠা কদমফুলের অজস্র সাদা রোঁয়ায় ?
তাইতো ফুলের সাজে
নেই সাধারন আর অসাধারনের বিস্তৃতি
সব ফুলই সুন্দর তার নিজের জায়গায়
 
তবে কেন শুধু শুধু এত জ্বালা
এত ভাগাভাগির বিপন্নতা
এত উঁচুনীচু ভেদ
এত সাজানো মুখের বিজ্ঞাপনের বাহার
বেছে বেছে শুধুই রূপোলী ইলিশ কেন তবে ?
মৌরলা আর সরপুঁটিরা তাই
অমন করে মিলিয়ে যাচ্ছে -
আমাদের ভালবাসার কাঁচপোকাদের মত
 
 
২রাজুলাই, ২০১৫

 

#

বৃষ্টিকে -

বৃষ্টি তোমার আধেক আকাশ জুড়ে
চপলমতি মেঘের আনাগোনা-
বৃষ্টি তোমার মনপবনের নাও
খুঁজছে নোঙর, খুঁজছে ঠিকানা
 
বৃষ্টি তুমি আমার মাতাল হাওয়া
হঠাত করেই করলে বেসামাল
বৃষ্টি তোমার মিষ্টি সলাজ হাসি
উপড়ে নিল আমার দিনকাল
 
বৃষ্টি তোমার অপাপবিদ্ধ মুখে
দেখেছি যে আমি অপার স্নিগ্ধতা
বৃষ্টি তোমার চোখের ঈশারাতে
গুনগুন করে অনেক না বলা কথা
 
বৃষ্টি তোমার বাঙ্ময় চাউনিতে
আমি উন্মন, উদ্দাম, দিশেহারা
বৃষ্টি তোমার গভীর কালো চুলে
সহজ সরল বৃষ্টির জলধারা
 
বৃষ্টি আমার মন কেমনের নাও
বৃষ্টি তুমি শ্রাবণ মেঘের ধারা
বৃষ্টি তোমার অবাক করা হাসি
বুকের মাঝে গহনরাতের তারা
 
বৃষ্টি তুমি আকাশেতে সোনা রোদ
বৃষ্টি তোমার হাসিতে ঝর্ণাধারা
বৃষ্টি তুমি যতই ঠেলো দূরে
তবুও আমি হব পাগলপারা
 
উপেক্ষাতে যতই দেবে জ্বালা
ততই আমি তোমার পাশে পাশে
বৃষ্টি তোমার মন কেমনের দিনে
আমায় খুঁজো সেদিন অনায়াসে
 
বৃষ্টি আমার অবাক তারার আলো
জলভরা মেঘে উদ্দাম ওড়াউড়ি
বৃষ্টি তোমার উদাসী দুপুর জুড়ে
হাওয়ার মাতনে পাতাদের জড়াজড়ি
 
বৃষ্টি তোমার মনের খেয়াল খুশী
ছন্দ ভরিয়ে রেখে দিও সারাদিন
সে সুখের দিনে দূরেই থাকব আমি
স্বপ্নেই ভেসো, মন রেখো অমলিন
 
কখনো যদিবা মনের বীণার তারে
কেউ যদি দেয় আঘাত কখনো বা-
তখন আমায় মনেই করতে পারো
আমি আছি, জেনো থাকবোই সর্বদা
 
তখন তোমার মেঘের শান্ত ছায়া
নেমে আসবেই তোমার বুকের 'পরে
সব কিছু যদি চলে যায় দূরে দূরে
মেঘ থাকবেই তোমার জানলা ধরে
 
২৩-০৬-২০১৫

# 

এল যে বরষা -

বর্ষার জলে ভিজে সারা হলে
পাব কি তোমার ঠোঁটের ছোঁয়া
চোখের ভাষায় বুঝিয়ে দেবে কি
পূর্ণ হবেই, আকুল সে চাওয়া
 
মনে মনে আমি দুবেলা ভেবেছি
বর্ষা কখন আনবে সে জল,
যে জলে ভিজেই ডেকে নেব কাছে
তোমার হাতের স্পর্শ সজল
 
চোখে চোখ রেখে হবে নাতো কথা
প্রাণেতে বাজবে শুধু আকুলতা
হৃদয়ে মিলবে এক অনুভবে
কানে কানে শুধু ছড়াবে, গড়াবে -
সেই একই প্রেম গাথা
 
ঢালু পথমাঝে দেখেছি তোমারে
বাদল দিনের আবছা আঁধারে
যুগ থেকে যুগে মিলেছি আমরা
প্রতিটি জন্মান্তরে
 
আরো আনো জল, আনো ভিজে হাওয়া
ভিজে ভিজে রাতে শুধু হবে চাওয়া -
তোমার শরীরে শরীর মিশিয়ে,
দুজনেই পাবো সে পরম পাওয়া
 
মাটিতে ফুটবে কত ভুঁইচাঁপা
শরীরে গড়াবে বরষা বারতা
কামিনী গন্ধে মাতাল দুজন,
আধো স্বরে কথা কবো
 
পাঁচটা ঋতুর যত শিহরণ-
বুকের গভীরে রয়েছে যখন,
সব কিছু স্বাদ নেব প্রাণ-ভরে
তোমার ধারায় আজ স্নান করে
 
তারপরে, যত ভিজে ভিজে স্বাদে
জড়াবো দুজনে তোমার ধারাতে
আগামী দিনের স্বপ্ন সাজিয়ে
বাকি দিনে কথা কবে।।
 
২২-০৬-২০১৫ 

#

প্রথম আলো -

 
ভোরের আলোয় রাঙা হল পৃথিবী
পাহাড়ের চূড়ো স্বর্ণীল হয়ে মেলল তার শোভা
সমুদ্রের ঢেউ পালটালো তার বর্ণ
গাছ-গাছালির মগডালের সবুজ পাতায় পাতায়,
সোনালী আলোর আভা
প্রজাপতি নতুন করে
চিনল আকাশ
পাখীরা শুরু করল সূর্যোদয়ের প্রার্থনা গান
চোখ মেলল মানুষ-জন যেখানে সাঙ্গ-রাত
 
এবার শুরু হল দেয়ানেয়ার খেলা
আকাশ দিল নীলের বর্ণালী
বাতাস দিল জীবনের শ্বাস
প্রকৃতি দিল রঙ, রূপ, গন্ধ
উদিত সূর্যের ছটায় ভিজল প্রকৃতির দান
 
রঙ বেরঙের সারেগামা
ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলের পালায়,
পাহাড়-চূড়োরা স্থিরতায় মৌন
সমুদ্রে লাগল উচ্ছাসের কল্লোল
সবুজ পাতারা দুলে দুলে বরনে চঞ্চল
যেটুকু পাওয়ার ছিল-
সেই সবটুকু নিয়ে
প্রকৃতিরানী তন্দ্রিত হল আনন্দে
 
আর
সেই বুড়ো প্যাঁচা রইল ঘুমিয়ে,
কালোর অপেক্ষায়
মেধা আর মননের আত্মশ্লাঘা
দুপায়ে জড়িয়ে
থ্যাবড়ানো অশান্তির সূত্রে সুত্রে নিজেকে
গাঁথবে বলে
 
আঁধারের গায়ে গায়ে পরশ তব
যতটুকু সুর খুলবে গলায় সেই সুরেতেই মাতাল হব
 
১৯-০৬-২০১৫

 

#

একলা আষাঢ় -

তোমার চোখের জলের ধারায়
আষাঢ় আজি মেললো পাখা
নোনতা জলের সেই গভীরে
তোমার আমায় প্রথম দেখা
 
প্রথম দেখাই, জলের ফোঁটায় -
ঝাপসা চোখে বৃষ্টি-মেদুর
চোখের কোণের টলটলে জল
হঠাত করেই পাগল-বিধুর
 
আঙুল দিয়েই সে জল ছোঁয়া
নখের মুখে আলগা কাঁপা
তোমার আঙুল হঠাত করেই
সন্ধ্যেবেলার কনক-চাঁপা
 
সেই আঙুলেই আষাঢ় ফোটায়
নতুন আশার আলোর ছটা
তোমার চোখের জলের ধারায়
আষাঢ় মেশায় প্রথম ফোঁটা।।
 
১৫-০৬-২০১৫

#

চাওয়া-পাওয়া

তুমি চেয়েছিলে -
নীলচে আকাশ,
মাথার ওপর ছাদ
একখানা বুক
ভরসা যোগাবে
আনবে নতুন স্বাদ
 
থাকবেনা কোনো
হতাশ বেদনা,
দ্বিধা দুরুদুরু ক্ষণ
সান্ধ্য-আকাশে
আলো জ্বালবেই
একটা সবুজ মন
তুমি চেয়েছিলে -
.
চেয়েছিলে তুমি
হয়তো কখনো
চওড়া বুকের ছোঁয়া
যার স্পর্শেই
কাটবে জীবন
গুনগুন গান গাওয়া
 
সকাল বেলায়
স্নানের শেষেতে
মেলে দিয়ে খোলাচুল
হাতটা বাড়িয়ে
টানবে তোমার
আধো ঘুমন্ত ফুল
 
চেয়েছিলে তুমি
সারাটা জীবন
ছন্দেই যাবে কেটে,
দুজনের মনে
দুজনের ছায়া
রোজ যেন ওঠে ফুটে
 
চেয়েছ কি তুমি
কখনো, চকিতে
কষ্টের জাল বুনতে ?
কিংবা ধরো না
প্রতি দিনকার
যন্ত্রনাটুকু গুনতে ?
 
চাওনি তুমিও -
অকাল বোধনে
বর্ষার মেঘে ছাওয়া -
সজল আকাশ,
ভিজে ভিজে সুর
শরতের ঝোড়ো হাওয়া
 
চেয়েছিলে তুমি -
একমুঠো রোদ
সকালবেলার সোনা
তোমার কপালে
তোমার মুখেতে
আঁকবেই আলপনা
 
দখিন হাওয়া
সন্ধ্যে বেলায়
আনবে নতুন ডাক
শহর ছাড়িয়ে
অনেক দূরেতে
মনটাই চলে যাক
 
চেয়েছিলে তুমি
নামবে রাত্রি
আকাশ তারায় ভরে
চারিদিক শুধু
রবে সুনসান
মিলন রাতের তরে
 
কখনো ভাবোনি
জীবনটা শুধু
ওঠাপড়াতেই বাঁধা
পড়ার দিকটা
সর্বদা বেশী
হঠাত গোলোক ধাঁধা
 
জীবন চলছে
জীবন চলবে
নিজের রাস্তা খুঁজে
হয়তো লাগবে
কিছুটা সময়
মনটাকে নিতে বুঝে
 
তার পরে কত
ছোট ছোট সুখ
আনবে নতুন আশা
ভরে উঠবেই
জীবন তোমার
ভরবেই ভালোবাসা
 
১০-০৬-২০১৫

#

কখনো যদি বা -

হয়তো কখনো তোমার কান্না ঘিরে
গলবেই জেনো, হয়তো কারোর মন
তখনো কি তুমি ভাসবে চোখের জলে
কান্নার জলে শুরু হবে আলাপন ?
 
বিষাদে মাখানো তোমার সে দুটি চোখ
যেন আনমনে, অপলক চেয়ে থাকা
তারার গভীরে অনেক স্মৃতির ভীড়ে
পারবে কি তুমি  চলতে সে পথে একা ?
 
ধুপছায়া রঙে তোমার বসনখানি
মায়াবী স্বপ্নে তাহারে যে পিছু ডাকে
চোখের জলের দাম যদি কেউ দেয়
পারবে কি তুমি মন দিয়ে ছুঁতে তাকে ?
 
অথবা যদি সে নীরবে তাকিয়ে থেকে
তোমার দু'গালে হঠাত করেই রাখে-
পুরুষালি দুটি ঠোঁটের সে আলপনা
তখন তুমি কি পারবে ছাড়াতে তাকে ?
 
হয়তো জীবনে একবারই আসে প্রেম
কখন, কিভাবে, কি'করে, যায়না বলা
তবুও স্বপ্নে প্রেম ঘুরে ফিরে আসে -
জীবনের পথে শুরু হয় পথ চলা
 
প্রেম যেন এক নতুন দিনের ভোর
ব্যস্ত জীবনে কনে দেখা আলো ভরা
কমলা রঙের উজ্জ্বল সেই তাপে
তুমি হয়ে ওঠো সন্ধ্যের রাধাচূড়া
 
তার পরে যদি রাতের তারার আলো
দ্বিধাহীন ভাবে ঝিকমিক করে ফোটে
তোমরা দু'জন মনে মনে মিলে গিয়ে
গুনবে প্রহর, কখন সূর্য্য ওঠে
 
 
৩০/০৫/২০১৫

# 

কতরূপে -
 
বয়স বাড়ছে ক্রমে
পৃথিবীর রঙ উজ্জ্বল থেকে ধূসর হচ্ছে
আমাদেরই চোখে
স্বপ্ন, প্রেম, আবেগ, দুঃখ, আনন্দ
এসবও কি মলিন হতে হতে -
অজানা সেই দ্বীপের দিকে ধাবমান ?
এও কি বয়সের পায়ে পায়ে চলা এক
ছানি পড়া মানুষের দৃষ্টির মত
ঘোলাটে থেকে আরো ঘোলাটে হয়ে
অন্ধকারে কেড়ে নেবে -
জীবনের সব রঙ
 
বটের ছায়ায় বাড়ে সুশীতল স্নিগ্ধতা
যতই প্রাচীন হয়
পৃথিবীর সব রূপ ফিরে ফিরে আসে
কচি অশ্বত্থের পাতা মেলে
নীল আকাশের গায়,
এখনো পাখীরা ওড়ে -
দিগন্ত আলোকিত হলে পরে
পৌনঃপুনিক বৃত্তের চার ধারে পাখা মেলে উড়ে -
সন্ধ্যেয় ঠিক ফিরে আসে ঘরে
 
তবে কেন নরম নরম মনে
জন্ম নেয় বহুরূপী
বয়স বাড়লে পরে
চাঁদ বুড়িটির মত
সাদা সাদা পেঁজা মনে
কেন লাগে কালচে রঙের দাগ ?
নিজেদের হৃদয় কি খুনে ভরা রক্তের মতন
ফোঁটায় ফোঁটায় ঝেড়ে ফেলে
সব কোমল সারগম গুলো
আর তারপর নিজের প্রয়োজনে, নিতান্ত নিজের প্রয়োজনে
পান্ডুলিপি ভেসে যায় কবিরসে বেনোজলে ?
 
২৮/০৫/২০১৫

#

আমি তোমার

আমি তোমার মন খারাপের মেঘলা দুপুর
আমি তোমার মন ভরানোর দমকা হাওয়া
আমি তোমার মন ভাবনার সবুজ জোনাক
আমি তোমার মন কাঁপানো দামাল চাওয়া।

আমি তোমার শীতের রাতের লেপমুড়ি ওম
আমি তোমার দুপুর বেলার বইয়ের পাতা
আমি তোমার ঘোর বরষার দামাল পাগল।
আমি তোমার গরম কালের রঙিন ছাতা।

আমি তোমার বুকের ভেতর গুমোট গরম
আমি তোমার চোখের কোনের একটি ফোঁটা
আমি তোমার কপাল টিপের লালচে বরন
আমি তোমার ঠোঁট রাঙানোর ফুলের বোঁটা।

আমি তোমার ঘর জ্বালানোর টুকরো আগুন
আমি তোমার চলার পথের পাগল মাতাল
আমি তোমার হঠাৎ পাওয়া জীবন মরণ
আমি তোমার রোজের পূজোর বোধন অকাল।

আমি তোমার মন কাঁপানোর দরাজ খেয়াল
আমি তোমার মন খারাপের রাতের আকাশ
আমি তোমার মন ভরানোর আসমানি রঙ
আমি তোমার মন হারানোর দখিন বাতাস।

আমি তোমার একগুছি চুল হাওয়ায় কাঁপা
আমি তোমার হাতের চুড়ীর রিনরিনে সুর
আমি তোমার অবাক মনের গভীর পাতাল
আমিই তোমার সারা জীবন শান্ত পুকুর।

২৬/০৫/২০১৫

#

যদি তুমি -

মন যদি চায় হঠাত তোমায়
সুরে সুর দিয়ে এই সন্ধ্যায়
তখন কি তুমি ছুঁয়ে দিতে পারো
আমার গভীরে দুহাত, আবারো ?
 
সন্ধ্যে নামবে নয়নতারায়
হাস্নুহানা ফুটবে হাওয়ায়
তোমার আঁচল কি গভীর সুখে
উড়ে পড়বেই, আমার এমুখে
 
উদাস পা'দুটি শ্লথ হয়ে এসে
দাঁড়াবে আমার মনের আকাশে
ছমছম সুরে মলে'র সে ধ্বনি
আমায় আকুল করবেই জানি
 
তারপরে রাত নিজের খেয়ালে
তারাদের নিয়ে ফুটবেই জ্বলে
ঘন সে আঁধারে, তোমার সে রূপে
ভেসে যাব আমি অজানা সে দ্বীপে
 
আমায় জড়াবে তোমার সে তার
অনেক খুঁজেই আনব জোয়ার
তোমার চোখের জলের ধারায়
ভিজে যাব আমি রূপোলী মায়ায়
 
তোমার বলা সে কথাগুলো সব
গান হয়ে ভেসে ক'রে কলরব
মিলবে মেলাবে নতুন সে সুরে
নীলচে আকাশ দূর হতে দূরে
 
 
২৪/০৫/২০১৫
* (রেওয়া - বিপন্ন শৈশব সংখ্যা - তৃতীয় বর্ষ - সপ্তম সংখ্যা - অগাস্ট ২০১৭ য় প্রকাশিত)

# 

শব্দের খোঁজে --
 
কি আর দিতে পারি তোমায় ?
যত রকম শব্দ হতে পারে
প্রেম কিংবা ভালবাসার,
সবই তো বলা হয়ে গেছে
তবে
আমি কি তৈরী করবো নতুন শব্দ ?
সেই শব্দ কি বলতে পারবে
আমার মনের কথা
তার চেয়ে ভাল -
আদিম মানুষের চিৎকৃত ধ্বনি
সেখানে শব্দেরা এত ভীড় করেনি তখনো
কয়েকটা ডাকেই বোঝা যেত সব ভঙ্গিমার
উন্মুক্ত আবাহন
 
মানুষ বেড়েছে ঢের
শব্দও ততোধিক
তাতে কি বেড়েছে প্রেম ?
কিংবা ভালবাসার নতুন অধ্যায় ?
 
তার চেয়ে এসো
সুরে সুরে বলি তোমায়
পাখীর শীষের মত;
সমুদ্রের ঢেউভাঙা গানের মত;
অথবা চুপিচুপি
ঘাসের ডগায় ভোরের শিশির পড়ার মত
এসো, পূর্ণ হও প্রেমে
স্নানিত হও আমার ভালবাসায়
শব্দেরা দেখুক
তাদের ছাড়াও ভালোবাসা যায়
প্রকৃতির সুরে ঝলসে উঠুক
আমাদের নতুন ধ্বনি-শব্দেরা-
দিক বিদিক চিৎকৃত করে
 
২২/০৫/২০১৫

#

অবেলায়
 
এত অবেলায় কেন দেখা দিলে,
যখন কনে দেখা আলোও আর নেই
পশ্চিমের ঢালু দিগন্তে
পাখিরাতো সব কোলাহল থামিয়ে ফিরে গেছে
যে যার ঘরে
এখন তাদের ছোট্ট ঘরগুলোও
রাতের তোড়জোড়ে খুব ব্যস্ত
অস্থির আকাশে কোন রঙ দিয়ে
মুড়বে,
তারি চিন্তায় ব্যাকুল মহাকাশের কান্ডারি
এই সময়টুকু কি রঙে রাঙাই তোমায় ?
হলুদ, লালচে কমলা নাকি গেরুয়ায়
কিন্তুমন যে সবুজ চায়
বনানী ঘেরা যে সবুজ
ছেয়ে আছে সেই লবটুলিয়ায়
বা ক্ষীরপা নদীর দুপারে
 
 
১৯/০৫/২০১৫
 
#
 
প্রথম টান --
 
হঠাৎ্ কখনো শ্রাবণের ভরা রাতে
তোমার স্মৃতিতে মন মশগুল হয়
তখন কি তুমি ঈথারের সুরে টানে
জ্বলে উঠবে কি চেয়ে মোর পরিচয় ।
 
সেই যে কখন তোমার আবছা ছায়া
উঁকি মেরেছিল মনের সে জানলায়
তারপর কত রাত দিন কেটে গেছে
মনের দেয়ালে এখনো কাটেনি ভয়।
 
এখনো হয়নি আমার সে কথা বলা
যে কথার মালা কত ভাবে গেঁথে গেছি
শংকায় ছিল আমার দুখানি ঠোঁট
তাই ভুল করে জীবন হারিয়েছি।
 
বুঝিনা কেন যে বয়স বেড়েই চলে
বাজারের দরে চলকায় ওঠাপড়া
মনের বয়স ফতেপুরসিক্রি
বুলন্দ দরজা, স্থিরতায় আছে খাড়া।
 
এখনো কি জানি ? তোমার সামনে এলে
ফুটবে কি আজ আমার মুখের ভাষা
পারবো কি আমি তোমার চোখের দিকে
পলক না ফেলে চাইবার, সেই আশা।
 
তোমার খোঁপায় এখনো জড়ালে মালা
বিগত সেদিন সুরে সুরে ঝলকায়
তোমার কপালে সিঁদূরের গোল টীপ
এখনো পারেনি কাটাতে লজ্জাভয় ।
 
সলাজ মুখের সেই কিশোরীর মুখ
এখনো আমায় মন ভাল করা গান
সব ছবি আজ হৃদয়েই আছে গাঁথা
আমার শিরায় বয়ে আনে কলতান।
 
মনে যেন ভাসে, এই তো সেদিন তুমি
ফ্রক দূরে ফেলে শাড়ীতে হঠাত রাধা
একঢাল চুলে কত না বদল হোলো
কখনো বিনুনি কখনো খোঁপায় বাঁধা।
 
লাল পাড় শাড়ী, স্কুলেতে যাবার পথে
কপালের চুলে বিলি কেটে দেয় হাওয়া
কখনো আলতা ঘিরেছে পায়ের সীমা-
আবার কখনো ইতিউতি চোখে চাওয়া।
 
তারপরে এলো স্কুল জীবনের ইতি
তোমার তখন হয়তো নবম শ্রেণী
দুজনের পথ দুইদিকে গেল ঘুরে
আমার মনেতে তোমার সে স্মৃতিখানি।
 
তারপর কতো ঘটনাবহুল ভীড়ে
তোমার ছবিটা মন থেকে মুছে গেল
কারণ হয়তো, জীবনের সংগ্রামে-
ভালো-লাগাটাই কত পথ পালটালো।
 
কিন্তু সে স্মৃতি কেন আজ তাড়া করে
এতকাল পরে কেন যে উঠলে ভেসে -
হয়তো প্রথম সে দেখায় আলো ছিল
তাইতো এখন ফিরে এল ভালবেসে।
 
অথবা কি জানি মনের সে আয়নায়
প্রথম সে দেখার অনুভূতি চিরকাল -
নেগেটিভ হয়ে পিছনেই থেকে যায়
সিন্দুকে তাই নেচে ওঠে ঝাঁপতাল।
 
তুমি যে কোথায়, আছ আজ এই ক্ষণে
হয়তো পাশেই, কিংবা অনেক দূরে-
যেখানেই থাকো ভাল রেখো চারিদিক
আমায় হয়তো ভুলেছ পথের ধারে।
 
তবু যদি কোনো নিরালা শ্রাবণ রাতে
চকিতে কখনো সেই দিন মনে পড়ে -
আসবে কি মনে অনেক বছর ধ'রে
চোখে চোখ পড়া, নির্জন সেই মোড়ে।
 
 
১৬-০৫-২০১৫
 
#
 
বিপন্নতা
 
আমরা সবাই খুব চালাক হয়ে গেছি
হঠাত বুঝতে শিখেছি
আর সবাই আমার চেয়ে বোকা
 
ছোট হতে ছোট
আরো ছোট হতে হতে
মাথা তুলতেই ভুলে গেছি
আজকাল
 
প্রাত্যাহিকতার বাইরে আর কিছুতেই যেন
মন নেই আর
সেই খাওয়ার পর শোওয়া
আর
শোওয়ার পর খাওয়া
আর যদি একটু বাড়তি সময় থাকে
তাহলে সেই বাড়ীতেই
রঙিন এল-ডি স্ক্রীনের সব কিছু
বোকার মত গিলে যাওয়া
 
পাড়া গেল হারিয়ে
সব কিছু ছড়িয়ে
ছিটিয়ে, শুধু নিজের কাছে নিজেকেই বাঁধা দেওয়া
এ কি সময় এল কাছে ?
 
ভয়াবহ ভূমিকম্পে যখন হাজার হাজার মানুষ মৃত
আরো কত শত গৃহহারা-
চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে আজকাল আর
কোনো অভিব্যক্তিই ফোটে না
কাগজের প্রথম পাতায় লাশের রঙীন ছবি
যেন কত খবর পৌঁছে দিয়ে ধন্য করছে আমাদের !
সিরিয়ালে আত্মহত্যার সূত্র
কিংবা খুন-জখমের দৃশ্যকাব্য
সারাটা দিন ধরে চলছে...চলছে...চলছেই,
একবার, দুবার, কখনো বা বহুবারও
বিরামহীন
পাব্লিকের খাবার
 
এড়িয়ে যাবার কতনা নিত্যনতুন কৌশল, ছলাকলা
বাসে, ট্রামে, ট্রেনে, মেট্রোয় মহিলা কিংবা বয়স্কদের সিটে বসে
জেগে জেগে ঘুমকি কষ্টকর !
বুকের গেঞ্জি কিংবা রুমালে বড় বড় প্রিন্ট
ইউনিয়ন জ্যাক কিংবা স্টাচু অফ লিবার্টির
ভুলে যাওয়া না কি
অজ্ঞানতার অন্ধকারে চালাকি করে উচ্চকিত আস্ফালন
দিবে আর নিবে মিলাবে মিলিবে, যাবে না ফিরে...
 
রাজনীতি আর সভ্য মানুষ
যেন বিপরীত দুই মেরু
অথচ আমরা
গনতান্ত্রিক অধিকারের বোতাম টেপার জন্য
কত না উৎসুক !
বিপন্ন আমরা আমাদেরই কাছে
তাই পাড়ায় পাড়ায় বহিরাগতের দাপুটে পদধ্বনি
রাজনীতি আজ পণ্য।  নেতা-নেত্রীরা বিক্রেতা
আমাদের মত গনতান্ত্রিক ক্রেতাদের কাছে
আর কত শত দোকানদার ছেয়ে ফেলেছে
বিভিন্ন সাইনবোর্ডে
কখনো হার্মাদ, কখনো বহিরাগত
কখনো বা এন্টি-সোশ্যাল
গন্ধ বিলোবেই ওরা... অগুরুর
 
বেলো হেরি হারিবোল
কি প্রচন্ড উল্লাসে আমাদের মহাপ্রস্থান !
বিপন্নতা মেখে, বিপন্নতা জড়িয়ে
আমাদের পলায়ন
কোনো এক ধূসর পেঁচার কাছে
অবাক পৃথিবী, অবাক করলে তুমি জন্মেই দেখি...
বিপন্ন মরুভূমি
 
 
২৭-০৫-২০১৪
 
#
 
অনুরাগ
 
হৃদয়ের সুর যায় কি পুরোটা শোনা
নদী যদি বয় সোজাসুজি এক খাতে
নানান বর্ণে বাগানের ফোটা ফুলে
কত না ভোমর উড়ে উড়ে ছবি আঁকে।
 
পরাগের রেনু বাতাসে ছড়িয়ে দিয়ে -
পাপড়ি পাঠায় হাজারো রঙীন চিঠি
মধুলোভী যত মধুপিয়াসীর দল
ঠিক খুঁজে পায় ছন্দের পোড়ামাটি ।
 
অগুন্তি এই মধুপিয়াসীর ভীড়ে
ফুল কি কখনো হয়ে যায় দিশেহারা ?
তবে কেন শুধু আমাদের পথে বেড়ি ?
কত না দ্বিধায় স্বাভাবিক বোঝাপড়া !
 
কত যুগ আগে ছিল সে অমরাবতী
ছিল না তো কোনো সংশয়, ভীরু দাগ
আধুনিক হয়ে জীবনে এসেছে ভয়-
কখনো যদি বা পিছু ফেরে অনুরাগ।
 
দোলাচলে আজ ঘিরেছে মনের শব
সহজ সরল হারিয়েছে তার ভাষা
চাতুর্য আজ অকৃপণ পাখা মেলে
মনের শিরায় শিকড় গেড়েছে খাসা !
 
ভালোবাসা আনে মুক্তির খোলা হাওয়া
এ ভাষা বুঝতে আরো কতো দিন বাকি ?
পরিণয়নের আনন্দে কি শুধু রাত ?
দেহে আর মনে থাকবে এতই ফাঁকি ?
 
সে দুটি মনের আলো যদি ঠিক জ্বলে
তবে কেন শুধু মিছিমিছি আলোছায়া
যদি ভেবে নাও অনেক মনের ভিড়ে
হারিয়েই যাবে,নিজস্ব চাওয়া পাওয়া।
 
এতই পলকা ! আমাদের পোড়া মন ?
বিশ্বাস তবে ঠুনকো কি,সাত পাকে ?
তবে কেন শুধু প্রাণহীন পথ চলা ?
শুকোবেই নদী যদি না প্রবাহ থাকে।
 
ভরা মন যদি শরীরের ভাষা খোঁজে
যেমন খুঁজেছে কোনার্ক বা খাজুরাহো
সেটাই কি শুধু জীবনের মাপকাঠি ?
তবে কেন ভয় মনেতেই অহরহ।
 
সুরাহার পথ তবে কি শুকনো পাতা -
খুশীর আবেগে শুধু যাবে উড়ে উড়ে
মুগ্ধ আবেশে দুজনার দুটি চাওয়া
হারিয়েই যাবে ! সে কোন অচিনপুরে ?
 
পলাতকা পথ মিলবেই জেনো শেষে
হয়তো তখন মাঝরাতে ভোর হবে
পঞ্চমী রাতে জ্যোৎস্নায় ভরা বিধু
আনবেই আলো মধু-ঋতু-উৎসবে।
 
 
২৩/০৪/২০১৫

#

নন্দিন -
 
নন্দিন তুমি
আবার এসো গো ফিরে।
খুব প্রয়োজন
আজকে তোমার
তুলতেই হবে
সেই ঝংকার
মহা ভারতের তীরে।
আবার এসো গো ফিরে।
 
উদ্ধত আজ
জাফরানী ফুল
প্রেমহীন দেশ
আবেশ আকুল
বাণিজ্য শুধু
করে চুলবুল
ফেলে তার গাঢ় ছায়া -
 
যক্ষের দলে
অগুন্তি মুখ
মানুষ নাম্নী
যত বুজরুক
সংখ্যাই শুধু:
হচ্ছে তুরুপ
উড্ডীন চাওয়া পাওয়া।
 
নন্দিন তুমি আর কত দূরে
তোমার স্বরের
সুর-ঝংকারে
বাজাও শঙ্খ
যত জোরে পারো
নন্দিন তুমি এসো দ্রুত আরো।
 
 
না-মানুষ আজ
সব জায়গায়
বিজ্ঞাপনের
আলোয় ছায়ায়-
চতুরতা আজ
বর্ণ ছড়ায়
সকলের আশে পাশে।
 
এসো নন্দিন
দু-বাহু ছড়ায়ে
অমোঘ তোমার
সঙ্গ জড়ায়ে
ছুঁড়ে দাও সব দূরে।
আনো আরো আলো
আনো আরো প্রাণ
তাড়াও তাড়াও
যত ব্যবধান
সব রঙ আনো আবার ফিরায়ে
আমাদের চার পাশে।
দুর্বল হাতে
আমরা ছড়াব সাদা খই উল্লাসে।।
 
 
১০-০৪-২০১৫
 
#
 
প্রথম প্রণয়
 
কবে যেন ফুটেছিল মনের কুসুম
মনে মনে কথা বলা, স্বপ্নেতে তুমি-
আকাশ সবুজ ছিল, মাঠ ঘাট নীল
চারদিকে রামধনু, দূরে বনভূমি।
 
ঈশারায় কত কথা ছিল মনে মনে
ছটফটে চোখে ছিল ফাগুনের আলো
হৃদয় ভর্তি ছিল আকন্ঠ প্রেমে
ভাবতাম কবে তুমি এ আগুন জ্বালো।
 
কচি পাতা ভরে যেত আমলকী ডালে
অথবা শিউলি ফুলে উঠোনের মেঝে
আবেশ ছড়িয়ে দিয়ে মাধবীলতা
গোধূলিতে লাল হয়ে উঠতোই সেজে।
 
প্রাণের সে আকুলতা জ্বালা হয়ে ফুটে
হতাশার আশ্লেষে উড়ে যেত রাতে
তোমার সে পথ চলা ফুল হয়ে ফুটে
ঘন মেঘে ডাক দিয়ে যেত যেন সাথে।
 
ঝলমলে চোখে মুখে প্রোজ্জ্বল দ্যুতি
পথে যেতে অগোচরে লজ্জিত চাওয়া
বাঁকা চোখ খেলা করে অযুত দ্বিধায়
ঠোঁট-কোনে আচমকা ফাল্গুনী হাওয়া।
 
তারপর সারাদিন মনে ওড়া-উড়ি
অকারণ দেয়ালায় কাঙ্খিত সুর
বুকের সে কোনখানে কাঙ্খিত ঢেউ
স্বপ্নের আঙিনায় উদাস দুপুর।
 
 
১৫-০৪-২০১৫
 
#
 
গাংনানি -
 
শুনেছি তোমরা ঈশ্বর সন্ততি
নির্মল করো আমাদের অন্যায়
পথ হারা দের তোমরাই শেষ গতি
স্থবিরতা আজ নির্দয়ে বাঙ্ময়।

কূপমন্ডুক চেতনার গাড় ছায়া
কল্পবৃক্ষে অশালীন মহামারি
রাজার দন্ডে দুর্যোধনের কায়া
মর্ত্যজগত,রক্তের কারবারী।

পৌরুষ আজ উজ্জ্বল  শিলালিপি
কষ্ঠিপাষানে দ্রবীভূত ভাস্কর
অন্ধতামসে চর্চিত দিনলিপি
মননের বোধে নিশ্চুপ স্বাক্ষর।

তিমির কূর্চ উড্ডীন নিরাকারে
নীরজ পাপড়ি,মসীকৃষ্ণ সম
কোন্দল বৃথা যাপিত জীবন তরে
পশ্চাদগামী সুন্দর,অনুপম।

পদশৃঙ্খল দাদনের ভারে বেঁধে
কত বর্ণেই শোভে,সুরত দল
রাজনীতি আজ উপমায় মরে কেঁদে
নির্বাক মন,পদলেহী সম্বল।
 
তবুও তো তুমি স্ত্রীরজ কালের দূরে
পাঞ্চালী যেন বৃদ্ধা প্রপিতামহী
রূপের আধার নিশ্চয় সাত সুরে
উচ্ছল আজ,পরার্থে আগ্রহী।

জারজতা আজ হিন্দোলে আশ্রিত
দিকদিগন্তে প্রভাবিত বিস্তার
মানব জনম কুহেলিকা মিশ্রিত
বঙ্গ অম্বা বর্গীতে ছারখার।।
 
 
১৮-০৩-২০১৫
 
#
 
আবার বসন্ত --
 
চোখ ছলছল, মনটা উতল
প্রেম শুধু ঘুরে মরে
হৃদয়ের আঁচে জল কি ফুটবে
মনের রান্নাঘরে ?
 
চেতনা যখন পথ খুঁজে ফেরে
হৃদয়ের জানালায়
সব কথা যেন বলা হয় যায়
ক্ষণিকের লহমায়।
 
কচি কলাপাতা কেঁপে কেঁপে ওঠে
বাতাসের হইচই
আমের বনেতে ফুটেছে মুকুল
বসন্ত এল ওই।
 
দখিনা হাওয়ায় প্রেম এল ঐ
সাথে নিয়ে সব গান
যুঁই চামেলির সৌরভে শুধু
মুখরিত মন প্রাণ।
 
গাজনের সুরে যদি মন ডাকে
এসো না, পলাশ বনে
দুটি মন আজ এক হয়ে যাক
কঠিন আলিঙ্গনে।
 
১৪/০৩/২০১৫
 
#
 
দোল
 
আজ ফাগুয়ায় এসো না,খেলব হোলি
গাছে গাছে আজ পলাশ দিয়েছে ডাক
নীলচে আকাশে সাদা মেঘ বলে,চলি
দুনিয়াটা আজ মাতালেই ভেসে যাক।
 
তোমার আমার মিলিত চোখের ভাষা
আনে ফালগুন,আনে দক্ষিনে হাওয়া
তোমার আঁচলে,আমার গোপন আশা
হলুদ রোদেতে ভরে দিক সব পাওয়া।
 
পিচকিরি হাতে হয়ে ওঠো তুমি রাধা
গত জনমের না ফোটা সে ফুল কুঁড়ি
এ জন্মে আজ পড়েছ যে তুমি বাঁধা
এস না,আমরা নতুন বাসর গড়ি।
 
নতুন করেই সাজাবো জীবন আজ
সাত রঙা রঙে খেলব আজকে হোলি
সিঁথির গভীরে পরাবো লালচে সাজ
সারা মুখে দোবো প্রণয়ের ফুল কলি।
 
আর যদি আজ,একান্তে ঠেলো দূরে
আগামী জীবনে কাঙ্খিত সাত পাক
এবার না হয় মেঠো বাউলের সুরে
কাটাব সময়,ভালবাসা,মনে থাক।
 
৫ই মার্চ,২০১৫
দোলপূর্ণিমা

#

অপর
 
কিছু কিছু কথা,
হোক নীরবতা।
 
কিছু কিছু মায়া,
ধরে শুধু ছায়া।
 
চুপি চুপি প্রেম,
বুঝি হারালেম।
 
মনে মনে আশা,
হারালো যে ভাষা।
 
শুধু কথা বলা,
মিছে পথ চলা।
 
যদি চোখে চোখ,
ভুলে ভরা হোক।
 
মনে শুধু ভাব,
নয় অনুরাগ।
 
গানে গানে সুর,
যাকনা সুদূর।
 
আকাশের নীল,
নয় ঝিলমিল।
 
আজকের আশা,
দিল না'কো ভাষা।
 
সব কিছু ছন্দ,
হয়তো বা অন্ধ।
 
বাকি সব কিছু,
যাক পিছু পিছু।
 
 
৪/৩/২০১৫
 
#
 
বাংলা আমার
 
বাংলা আমার মায়ের আদর
বাংলা আমার প্রাণ
বাংলা আমার বুকের ভেতর
ধলেশ্বরীর গান।
 
বাংলা মানের অবন ঠাকুর
ভাটিয়ালীর সুর
বাংলা মানের পায়ের তলায়
নীলচে সমুদ্দুর।
 
বাংলা আমার জীবন যাপন
বাংলা আমার বুক
বাংলা আমার মেঘলা আকাশ
বাংলা আমার সুখ।
 
বাংলা মানেই সবুজ ধানের
আকাশ ছোঁওয়া মাঠ
বাংলা মানেই মনের কোনায়
বইছে সহজ পাঠ।
 
বাংলা আমার হাতের লেখায়
বাংলা আমার নেশা
বাংলা আমার কবির খাতায়
বাংলা আমার পেশা।
 
বাংলা মানেই ভোরের আজান
দুপুর রোদের তাপ
বাংলা মানেই তুলসী তলায়
মায়ের হাতের ছাপ।
 
বাংলা আমার বাউল ফকির
বাংলা আমার মাটি
বাংলা আমার লালনের সুরে
উদ্দাম পরিপাটি।
 
বাংলা আমার মায়ের বুকের
হাসি কান্নার পালা
বাংলা আমার বাবার ভিটের
প্রাচীন শব্দমালা।
 
বাংলা মানেই শরত বাবুর
খাঁড়িতে জাল পাতা
বাংলা মানেই অন্নদাদি
প্রেমের ইতি কথা।
 
বাংলা মানেই পাল্কির গান
কোন এক গাঁয়ের বধূ
বাংলা মানেই চাঁ সদাগর
সাগরদাঁড়ির মধু।
 
বাংলা আমার রাষ্ট্রসঙ্ঘে,বাংলা ভুবন ভরা
বাংলা আমার বাংলা তোমার বাংলা হৃদয় হরা।
 
২৪শে ফেব্রুয়ারী, ২০১৫
 
#
 
আবার বসন্ত
 
পলাশ রঙে মাতলে তুমি
সুর ছড়ালে সংগোপনে
অবুঝ হিয়া চলকে দিয়ে
মন ভরালে আপনমনে।
 
ফাগুন যদি আগুন জ্বালে
দিনের আলোয় থরে থরে
রাতের বেলা নীল আকাশে
সে তাপ কি আজ ঘুরে মরে ?
 
গাছের পাতা উঠল ভরে
লাল-কমলায় মিলেমিশে,
চোখের নেশা মাতাল হয়ে
ছড়িয়ে পড়ুক এক নিমেষে।
 
পাপড়ি ঝরা রঙিন মাটি
স্বপ্ন ছড়ায় দিক্ বিদিকে,
অলস মনেই ঝর্ণা ফোটে
ওড়না ওড়ায় সে যেন কে ?
 
গাছে ডালে তুফান তুলে 
রক্ত ছোটাও রকেট তালে,
কোন নেশাতে ডুবিয়ে তোলো
মরণ বাঁচন তোমার জালে।
 
 
২০-০২-২০১৫
 
#
 
মধুমাধবী
 
বসন্ত আসে
এই বর্তমান শহরে।
সবুজ গাছের বদলে
ঋজু ল্যাম্পপোস্টে ভর দিয়ে
এখনো দখিনা বাতাস বয়।
বসন্ত আসে।
 
চড়া পড়া গঙ্গার বুকে
ছোট ছোট ঢেউ,
ঝিলমিল করে রোদ।
কখনো দেখা যায়
ঊদ্ধত লাল কৃষ্ণচূড়ার ইঙ্গিত।
প্যাগোডার নীচে প্রেমিকার বুকে মুখ রেখে-
বসন্ত আসে।
স্কাইস্ক্রাপারের মাথা ছুঁয়ে বেলা পড়ে
ঘাম আর সস্তা সেন্টের গন্ধে
ভরে ওঠে নগরীর বিষাক্ত বাতাস।
হু হু করে ওঠে মন !
আর্ত চাহনীতে খুঁজে ফিরি কাকে।
তবে কি, এ হৃদয়ে
এখনো দোলা লাগে
দখিনা হাওয়ায় ?
 
দোতলা বাসের ধারে বসে দেখি
বাসন্তিকে।।
 
#
 
নতুন পঞ্চমী
 
চুম্বনে বিকশিত
সব ঠোঁট-ফুল
বসন্ত নিয়ে এল
পলাশের দুল।
 
গুনগুন গুঞ্জনে
মুখরিত সব
পৃথিবীতে এল ঐ
চুমু উৎসব।
 
খাজুরাহো কোনার্কে
শিল্পীর গান -
লজ্জায় মিশে যায়,
চোখে অভিমান।
 
ব্যাবসার পারদে -
মাপা আজকাল,
সৃষ্টির আকাশেতে
ওড়ে জঞ্জাল।
 
কৃষ্ণের চোখে মুখে
উদাসীন হাসি -
রাধা চায় শুনতে
সেই পোড়া বাঁশী।
 
চাঁদ ওঠে এখনো -
আকাশের গায়,
জোনাকির ছন্দেতে
মন ভেসে যায়।
তাজ আজো দাঁড়িয়ে -
প্রেম খুঁজে ফেরে,
আগ্রার বাতাসেতে
দিনগুলি ঘোরে।
 
তবে কেন, আজকে
নতুন এ ছল!
প্রেম ছিল মগ্নতা
হৃদয়ের বল।
গোপন সে ভঙ্গিমা,
গোপনেই থাক
দুজনের মুগ্ধতা
ভাষা ফিরে পাক।
 
১৪/০২/২০১৫
 
#
জড়িয়ে ধরার দিন --
 
আলিঙ্গন আর কোলাকুলির তফাত আছে নাকি
এই দুনিয়ায় সবই এখন কেমন যেন ফাঁকি
চুমো খাওয়ার আগে যখন জড়িয়ে ধরে কেউ
মনের কোনের ভেলায় ভাসে সাত সাগরের ঢেউ।
সেই জন্যেই কিস এর আগে হাগে ব্যবহার
ব্যবসাদারে অনেক জানে করতে পকেট-মার।
সাত দিনেতে হপ্তা সাজে,সাতটা বারের নামে
এখন দেখি দিন কেনা যায় নতুন নতুন খামে।
কত যে সব নামের বাহার নিত্য নতুন দিন
মেঘলা আকাশ তেমনি আছে,ফুলগুলো রঙিন।
জগত জুড়ে ব্যবসার জাল,ফন্দি-ফিকির কতো !
রোজ সকালে ঘুম ভাঙ্গলেই চলো যে যার মত।
বিজ্ঞাপনের হরেক আলোয় রোজই মধুমাস
কষ্টেরা সব চলেই গেল দিয়ে গলায় ফাঁস!
আপনি বাঁচো আপনি জিও আপনি পিও র কাল
কাল কি হবে সেই ভাবনা আজ যেন জঞ্জাল।
চলছি ছুটে আমরা সবাই কোথায় সে কোন দিক
কেউ জানি না আমরা সবাই কোন পথটাই ঠিক।
 
ঠোঁটে ঠোঁট রেখে ব্যারিকেড করা অতই সহজ নয়-
অনেক কষ্ট অনেক সুখের ইতিহাস কথা কয়।
ওরা তো বলে না,এসো আজকেই আনি মুক্তির দিন-
পৃথিবীটা হোক কলরবে ভরা,চিন্তায় স্বাধীন।।
 
 
১২/০২/২০১৫
 
#
 
যদি --
 
রাত যদি হয়
ফোটার সময়
দিন কি তবে,
পরাগ-রেণু ?
 
ভোরের আকাশ
পাখীর কূজন
দিন আনে কি
রাতের বেণু ?
 
মন যদি হয়
হঠাৎ সানাই-
বিস্মিল্লার
মন কি ভরে ?
 
অবাক চাওয়া
হঠাৎ যখন
বেসুরোতেই
সুরটি ধরে।
 
গহন মনের
শিরায় শিরায়
প্রলয় নাচন
তাল কি ধরে ?
 
রাতের কালোয়
ফুল যদি হয়
উতল নদী
নৌকা বাওয়া !
 
কলসী ভরেই
জল উপচোয়
সেই কি সবার
পরম পাওয়া ?
 
০২-০২-২০১৫
 
#
 
বুকেতে পাথর চাপিয়ে রেখো না শুধু

 
বুকেতে পাথর চাপিয়ে রেখো না শুধু
চিচিং ফাঁকের আগল এবার খোলো
আর কত বলো ভেজাবে তোমার চোখ
হৃদয়ে এবার কঠিন আগুন জ্বালো।
 
মুখেতে এখনো কিশোরী বেলার ছবি
চোখের তারায় ঝিকমিক করে আলো
স্বপ্নে এখনো সেই সোনা ঝরা দিন
এবার না হয় কঠোর পথেই চলো।
 
রামধনু রঙ রামধনুতেই ভাল
আকাশ যেমন নীল রঙেতেই মাখা
সবুজেতে ছাওয়া বনানীর প্রান্তর
জীবনের পট সাদা কালোতেই আঁকা।
 
দু:খের স্বাদ সারাটা জীবন ধরে
জড়িয়ে জড়িয়ে লতার মতন বাঁচে
সুখের সময় যদি বা কখনো আসে
প্রাণ ভরে নিও হালকা গরম আঁচে।
 
জীবন এখন জীবনের চেয়ে দামী
পুরোনো স্মৃতির ছবিগুলো রাখো তুলে
কৃপণতা হোক জীবনের প্রয়োজনে
পথ হারিও না শেষের সে পথ ভুলে।
 
তোমার মনের নীরব না বলা কথা
গুণগুণ সুরে বাতাসে ছড়িয়ে যায়
ফুলের রেনুতে মৌমাছি খুঁজে ফেরে
মধু শুধু মধু সব পাপড়ির গায়।
 
তাই বলি আজ আমার কথাটা শোনো
প্রেমের আকাশে মনটাকে ছেড়ে দাও
মন খারাপের ভাবনা চিন্তা ছাড়ো
গলা ছেড়ে আজ জীবনের গান গাও।।  
 
#
 
মিলিত মিতালী - 
 
কোথায় পালাবে কবিকে এড়িয়ে তুমি
ফাগে আবীরেতে শুধু কি আগুন জ্বালো ?
দূরে দূরে থেকে যতই এড়িয়ে যাবে,
তোমার সে ছবি আরো হবে জমকালো।
 
হঠাত চকিতে তোমায় দেখে,এ কবি
দুই হাত মেলে তোমায় জড়াতে চায় ;
বলেছিলে তুমি আগত দিনের কথা,
আরো বলেছিলে সে দিনের সন্ধ্যায়।
 
বলেছিলে তুমি বসন্ত দিতে পারো,
দিতে পার তুমি ফাগুন দখিন হাওয়া
স্বপ্নে স্বপ্নে আকাশ ভরিয়ে দিয়ে
ভালোবাসা এঁকো হৃদয়ের সীমানায়।
 
হৃদয়-জানলা না হয় দিলাম খুলে
দমকা হাওয়ায় না হয় ভেসেই যাবো,
স্বপ্নের ভীড়ে স্বপ্ন দেখাও যদি ;
চোখের তারায় তবু তো তোমাকে পাবো।
 
বেলা যদি যায়, ভাবো কেন তবে এত
পূবের আকাশে আবার ফুটবে আলো,
হৃদয়ের ভাষা হৃদয় দিয়েই বোলো,
হোক না সন্ধ্যা, হোক না আকাশ কালো।
 
নতুন বাঁশীতে ডেকে নিও মোরে কাছে
বুকে এঁকে দিও প্রেমের সে আলপনা,
চুমোয় চুমোয় ভরে দিও দুটো গাল,
অলস আবেশে শুরু হবে দিন গোনা।
 
কি মায়ায় আজ বেধেঁছ ফুলের রঙে
চারদিকে শুধু দেখি যে তোমার ছবি,
আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে রোদ
তারি ফাঁকে ফাঁকে অনুভবে আছে কবি।
 
তোমার শরীরে পাকা সে ধানের ঘ্রাণ-
চোখের পাতায় সাত সুর করে খেলা,
কবির হৃদয় হলুদের রঙে মাখা
মনের আবেগে না হয় ভাসালে ভেলা।
 
ঝিকমিক করে নদীর সবুজ জল
তারি মাঝে ভাসে দুজনের ছোট তরী-
অজানার পথে হবে সে নতুন ভোর,
তারপরে দোবো প্রেমের সাগর পাড়ি।
 
২২-১২-২০১৪

# 

তোমাদের জন্য আমাদের জিজ্ঞাসা -
 
কি করেছি আমরা তোমাদের ?
হে মহান পৃথিবীর সকল সভ্য মানুষ !
এখনো তো জানি না আমরা
রাজনীতি বলে কাকে ?
এও জানি না
কারা তৈরী করেছিল এই সভ্য বর্বর গুলোকে
যাদের নিদারুণ বুলেট বর্ষনে,
আমাদের চোখের সামনে থেকে হারিয়ে গেল সব।
মা-বাবা-ভাই-বোন-দাদু-দিদার আদর
আর তো পাবো না কোনোদিন।
আর কেইবা হামি দেবে আমাদের গালে ?
তোমরাই তো বলতে আমরা নাকি ফুটফুটে সব
আমরাই নাকি মানুষ জাতের মেরুদন্ড !
এত মিথ্যে কথা কোথা থেকে পাও তোমরা ?
তোমাদের চোখে আমরা আজ জারজ বোধহয়,
না হলে কেন সরালে আমাদের আজ ?
কি হোলো ?উত্তর দেবে না ?
কেন ?সব উত্তর কি ফুরিয়ে গেছে আজ ?
কত বড় বড় কথা বলো তোমরা
শান্তির বাণী,অহিংসার বাণী,
বুদ্ধদেব,শ্রীচৈতন্য,যীশু,হজরত
মাথার মধ্যে কত করে ঢুকিয়ে দিতে আমাদের ক্লাসে।
এখন কি করবো আমরা ?
যা বলতে তা তো অমান্য করিনি কখনো ?
মাঝে মাঝে দুস্টুমি করে চাইতাম হয়তো
লজেন্স,রঙ পেন্সিল কিংবা একটুকরো চাঁদ।
তাতেই এত রাগ তোমাদের ?
 
কচি কাঁচাদের ভীড় ঠেলে আজ,ছুটলো বুলেট কত
পিচ রাস্তায় আমরা সবাই রইলাম অক্ষত ।
শরীরে শরীরে বুলেটচিহ্ন অগুন্তি এঁকে দিলে
কি করেছি দোষ ?সে জানো তোমরা,সব একসাথে মিলে।
কেন এনেছিলে ?আমাদের এই যন্ত্রনা দেবে বলে ?
সারা পৃথিবীটা ভরিয়ে তুলেছ বারুদের জঞ্জালে।
বই আর রঙে ভরিয়ে তোলো না পৃথিবীর চারপাশ
সবুজের কোলে হাসি আর গানে ভরে তোলো অবকাশ।
আর কত টাকা চাই তোমাদের সত্যি বলো তো আজ !
কত দিন আর দেখবে পৃথিবী তোমাদের এই কাজ।
পৃথিবীর যত মহান কীর্তি ভেঙ্গে গুঁড়িয়েছ শুধু
আমাদের চোখে কাজল পরিয়ে খাওয়াচ্ছ বিষ-মধু।
অনেক তো হোলো আজকের দিনে,মিটলো কি সব আশা ?
নাকি এই শুরু নতুন দিনের,আরো বাকি দুর্দশা ?
তোমরা কি তবে সারা জীবনই এমনি করেই যাবে ?
আরো কত প্রাণ চাও গো তোমরা এই পৃথিবীর মাঝে ?? 
 
১৫-১২-২০১৪

#

কিশোরীবেলায়
 
তুমি আর আমি,শুধু কথা বলা,সে এক নদীর পাড়ে
সবুজে সবুজ দুই পাড় শুধু যতদূর চোখ পড়ে।
আম কাঁঠালের ছায়ায় ছায়ায় মাটির সে পথে যাওয়া
দূর হতে আসে রাখালিয়া সুর,মনে মনে গান গাওয়া।
সকাল বিকেল রোদে ঝিকমিক নদীর জলের ধারা
পাড়ে ধানক্ষেত,ভরা ফসলেতে দুলে দুলে হল সারা।
তোমার সে চোখে দেখেছি আমি যে নিত্য নতুন সুর-
আমার হৃদয় ভরিয়ে দিয়েছ,আমি আজ ভরপুর।
কিশোরী বেলার ছন্দে দুলেছে তোমার সে বেণীখানি-
চোখে কৌতুক,মুখে লাজভয়,হাতে তে কাঁকনখানি -
রুনুঝুনু বাজে তোমারি ছন্দে,গলায় পুঁতির মালা-
কচি মুখখানি দেখে ভাল লাগে,মনেতে ধরায় জ্বালা।
কত কথা শুধু বলে যাও তুমি কলকল ছলছল
আমি শুধু শুনি বাঁশীর সে ধ্বনি বাঁধভাঙা উচ্ছল।
কিশোর কিশোরী  হাতে হাত ধরে আসে নদী পারে রোজ-
নদী বয়ে যায় নিজের খেয়ালে,রাখে কি তাহার খোঁজ ?
কত দিন যায়,মাস যায় কত,বছর ও ফুরিয়ে যায়
দুই কূলে ভাঙে ছোট ছোট ঢেউ,মনের সে আঙিনায়।
ছোট ছোট কথা গান হয়ে ফেরে দুজনার সুরে সুরে
কিশোরীর বুকে কিশোর লুকোয় সোনাঝুরি রোদ্দুরে।
বেলা হয়ে আসে,আধাঁর নামবে এখুনি ভুবন জুড়ে,
তোমার সে ব্যাথা বুকেতে জড়িয়ে মেলে দোব রোদ্দুরে।
 
১৬-১২-২০১৪
 

#

প্রেম শুধু

শুধু নাম ধরে কানে কানে ডাকা
নাম ধরে ডাকা শুধু কানে কানে
মনের সে ফুল আপনিই ফোটে
কবিতায় বলে
কেন এ কে জানে !

হৃদয়ের গান কখন যে আসে
ভীরু দুটি চোখ কি যেন কি বলে
সব কথা শুধু গান হয়ে ফেরে -
বন-ফুল ফোটে আপন খেয়ালে।

উন্মনা মন উড়ে যেতে চায়  
নাম হারা পথে মেঘে কুয়াশায়
আসমানী রং আকাশেতে ভাসে
অজানা সুরেতে বাঁশী ছলকায়।

যে সুর উঠেছে মনের কোনায়-
সারা দিন রাত কোথা বয়ে যায়
চাঁদ ঢলে পড়ে আকাশের গায় 
কত কথা শুধু বলা হয়ে যায়।

শুধু মনে আসে তোমার সে ছবি
রঙেতে রেখাতে আবছা আলোতে
মায়ায় জড়ানো কোমল সে মুখ

কতদিন তুমি আস নি এ পথে। 

নীরব নিশীথে তারা দের সাথে
উড়ে যেতে চাই তোমাতে আমাতে
দূরে বহু দূরে অজানার কূলে 
ভেসে চলে যাব নতুন সে স্রোতে।

দিনের আলোতে হব একাকার
মল্লার রাগে বাজাবো সে তার

আকাশে ফুটবে রামধনু রঙ
সন্ধ্যা ফুটবে ছড়িয়ে বাহার।

তারপরে যদি বাকি কিছু থাকে
ছড়িয়ে দেব তা আকাশে বাতাসে,
ফুল হয়ে সে তো গন্ধ বিলোবে

এই পৃথিবীর মাটি আর ঘাসে।।

১৫-১২-২০১৪

#

হৃদয় পুড়লে 


হৃদয় পুড়লে ক্ষতি আছে নাকি কিছু ?
ভালোবাসা শুধু ক্ষণিকের আলাপন ?
তাহলে আমার হৃদয় যাক না পুড়ে,
বুঁদ হয়ে যাবে মনের গোপন কোন।

নেশা কাকে বলে জানি না এখনো আমি
মহুয়ার নেশা শুনেছি জীবনভোর,
কখনো যদি বা হৃদয়ে আগুন জ্বলে
কি দিয়ে নেভাবো আমার হৃদয়-ডোর ?

মাতাল হলে কি ভুলে যাওয়া যায় সব ?
সে কথা যে জানে রোজকার মাতালিয়া-
গভীর নেশায় সে কোন গহন পথে

বাঁশী কি বাজায় এ কালের বাঁশরিয়া ?

#

একা নির্জনে -

শুধুই চোখের ভাষা    
শুধু ক্ষণিকের চাওয়া,
মনেই কেমন জ্বালা
শরীর পুড়লো বলে-

সবুজে সবুজে ভেজা
ফাঁকা মাঠ ধানক্ষেত
একলা নিবিড় মনে
আনমনে হেঁটে চলা।

ভালোবাসা বহু দূর
একটু স্পর্শ খোঁজা

হাত বাড়ালেই আসে
জীবন যে ভরপুর।

তবুও মনের মাঝে,
দ্বন্দের হাতছানি

বেলা শেষ হয়ে এল, 
কখন ফুরিয়ে যাবে।

কখন উঠেছে ভোর
রাতের বুকটি চিরে

কমলায় ভরে যায়,
আমার বাগান শুধু।

তোমার হাসিতে মাখা
পরাগের রেনু ওড়ে

স্বপ্ন মাখানো চোখ
নীরবে কি যেন বলে!

আমিও কি ছাই বুঝি ?
ঈশারার কথকতা

সন্ধ্যে নামল বলে,
শহরের আলো জ্বলে।

০৫-১২-২০১৪

#

বৃষ্টি তোমায়...


কাল সাঁঝে 
যখন তুমি আর আমি একসাথে পাশাপাশি
দেখছিলাম অয়দিপাউস,
তখন কি বিহ্বলতা ছিলোনা আমাদের ?

মন খুঁজে ফেরে শুধু
চোখে চোখে চাওয়া

আঁধারেতে আলো ফোটে
শুধু আসা যাওয়া।
মঞ্চ আলোকিত হলে

মুখ দেখি বৃষ্টি
র। 

লজ্জার ঘোমটায় -
কত কি যে আলপনা
অস্ফুট ঠোঁটে শুধু
আদরের জাল বোনা।

শুরু হোলো পালা
বাজনার উচ্চকিত আওয়াজে;
মঞ্চ ভরপুর।
কুশীলবদের আনাগোনায়

আরো রঙীন হয়ে ওঠে,
গোটা হল।

সময় যে বয়ে যায়
কালকের সন্ধ্যায়,
আবার উদাসী মন
দুই দিকে বয়ে যায়।

২-১২-২০১৪   

#

বৃষ্টিকে আবার আজকে -

সারাদিন মন জুড়ে আবছা আলোয় ঘিরে
বৃষ্টির যত ছাঁট  চারিপাশে ঘোরে ফেরে।
মেঘ শুধু বয়ে যায়  অজানার ঠিকানায়
মাঝে মাঝে ঝলকানি বর্ষার সুরে সুরে।

রিমঝিম রিমঝিম সারাদিন বেজে চলে
হৃদয়ের তালে তালে  ছণ্দ যে ওঠে দুলে।
বর্ষার গুনগুণ কানে কানে ভেসে আসে,
মেঘ তিয়াসায় ডাকে   নয়নে নয়ন ভাসে।

সে কথা কি বলা যায় ?  জীবনের আঙিনায়
কত কিছু অভিমানে   মেঘ শুধু বয়ে যায়।
মনের সে ব্যাকুলতা   খুঁজে ফেরে কত কথা

রাতের আকাশে শুধু  তারাভরা নীরবতা।।
২৫-১১-২০১৪

#

ক্যামেরা

যদি কিছুক্ষন -  উজ্জ্বল আয়নার 
দিকে তাখো চোখ       তবে কি
অনুভব ক
র আপনার অন্তহীন গভীরতা !
সৃষ্টির সৃজনে যা অপরূপ,
মহাকালের যাত্রায় যার পরিক্রমা আদি থেকে
অনাদির চূড়ায় চূড়ায়,   তার কোনো বিরূপতা 
আছে নাকি ?
নাকি, এশুধু দৈনন্দিন জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতে
না পাওয়ার আদিম তিয়াসা।
বহুক্লেশে পাওয়া যায় প্রকৃতির সুধা।
যদি জীবনের ধরাবাঁধা একপাশে ঠেলে রেখে
চেয়ে দেখো চারিদিকে
দেখবে অজস্র রং 
চারপাশে ভীড় করে আছে।
তা
দেরি কাছে জমা পড়ে আছে
আমাদেরি সাদা-কালো; লাল-নীল
জীবনের জটিল মিছিল আজ বাঁধা পড়ে গেছে।
তাই মাঝে মাঝে 
জীবনের প্রয়োজনে -  হয়তো বা আনমনে
ক্যামেরার জান্লায় চোখ রাখি।
অসীমকে দিয়ে ফাঁকি দিই তারে বেড়ী;
যেন জানালার খড়খড়ি ফাঁক করে
দেখে নিই রণক্লান্ত সৈনিকের সন্ধ্যার অবকাশ।
মনে ভাবি, আমার এ ছবি
হৃদয়ের অস্ফুট আকাঙ্খায় কত ভাবে গান গায় !
অবশেষে হয়ে নিরূপায়
বেদনার শিহরণে পারে না চিন্তে আমায়।
দূর থেকে দূরে
আরো দূরে চলে যেতে যেতে
বাঁধা পড়ে যায়।। 

#

মান-কথা

ভালবাসা মানে         মনেতে আরেক মন
ভালোলাগা মানে       নীরবে কতকি বলা;
ভালোদিন মানে        কুয়াশায় মাখা রোদ
ভালোরাত মানে        তারাদের কথা বলা।

ভালবাসা মানে         চুপি চুপি অভিমান -
ভালোলাগা মানে       হৃদয়ে হৃদয় ছোঁয়া;
ভালোকথা মানে        আপন কথার ভীড়
ভালোথাকা মানে       চুপ করে বোঝা বওয়া।

ভালবাসা মানে         রঙিন খামেতে লেখা
ভালোলাগা মানে      শুধু চোখে চোখে কথা;
ভালোবাঁচা মানে       বাজার ভর্তি থলে

ভালোমরা মানে        হঠাৎ ই নীরবতা।

ভালবাসা মানে         নতুন রাতের ভোর -
ভালোলাগা মানে       অল্পেই খুনসুটি,
ভালোকাজ মানে       সবার
ই মন রাখা;
ভালোকিছু মানে        স্বপ্নের ভুটভুটি।

ভালবাসা মানে         ফাগুনের যত হাওয়া -
ভালোলাগা মানে       মেঘ
বৃষ্টির দিন ;
ভালবাসা মানে         বৃষ্টিতে ধোয়া পাতা -
ভালোলাগা মানে       বুকেতেই চিনচিন।

ভালবাসা মানে         আকাশেতে সোনা রোদ
ভালোলাগা মানে       ফুলের গন্ধে ভরা;
ভালবাসা মানে         বিকেলে ভোরের ফুল-
ভালোলাগা মানে       ব্যথায় জীবন ঘেরা।।

২১-১১-২০১৪

#

জানিনা কেন 

হৃদয় কেন ফুঁপিয়ে ওঠে একটু অভিমানে
জানিনা আমি জানিনা।
বুঝতে পারিনা অনেক কিছুই ;
মনের গহনে কি ছেলেখেলা চলে।
তবুও পাল তুলতে ইচ্ছে করে,
অকূল দরিয়া-দিকে।
কেন এমন হয় ...।
জানিনা আমি জানিনা।
একটু ভালোবাসার জন্য

পৃথিবী কে খুব ছোট মনে হয়।
দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে 
লাল রুমাল বাঁধতে হয় কবিকে

তবুও কি পাওয়া যায় সব ?
জানিনা আমি জানিনা।
শহুরে সন্ধ্যায় কালবোশেখীর মেঘ
যখন বৃষ্টি ঝরায়

ভালোলাগার আঁচে কি হৃদয় গলে ?
জানিনা আমি জানিনা।
কবিতা কি ব্যাকরণ মানে ?
গদ্য কি সুর খোঁজে ?
সবুজ ঘাস কি দুলে ওঠে ?
ভালোলাগার ঝড়ে ?
জানিনা আমি জানিনা।
শুধু জানি আমি আছি

মেঘ আছে

বৃষ্টি আছে

আর আছে এক চওড়া মন।
যে মনে মরচে ধরতে পারে না কিছুতেই...
পারে না পারে না পারে না... 

২০-১১-২০১৪

#

জন্মদিনে

এই দিনটায় মন ছুঁতে চায় ছেলেবেলার পথ
মায়ের হাতের মিস্টি পায়েস,বাবার মতামত।
বাবার ডাকে সাড়া দিতে ইচ্ছে করে মনে

কত বছর ঘুরে গেল নতুন এ জীবনে।
ভাই-বোনেদের হইচইতে কাটতো সারা বেলা
 
সকাল বেলার ফুল কুড়োনো,ঠাকুমা
য়ের চেলা।
দিনটা ছিল অনেক সুখের,অনেক আশায় ভরা,
মায়ের হাতে দু-বিনুনী,বন্ধ লেখা পড়া।
সকাল থেকেই ছুটির মেজাজ,আলোয় ভরা দিন
বাবার বাজার,রান্না-ঘরে মা ঘেমে হিমসিম।
প্রথম শাড়ি বাবার দেওয়া,প্রথম কেনা দুল ;
ছোটোবেলা হারিয়ে গেল,এল নতুন কূল।
শাড়ীর ভাঁজে খস্খসানি  হৃদয় ওঠে পড়ে

পৃথিবী টা কেমন যেন রঙীন নেশায় ভ
রে।
সরস্বতী পূজো যেন,হঠাত চলে যায়,
আবার স্কুলের পড়াশোনা,মন মানে না হায় !
জীবন যেন অনেক বড়,অনেক কিছু ভাবে

দিন কেটে যায় দিনের মত,মনটা কেমন কাঁদে।
স্কুল থেকে তাই বিদায় নেওয়া,কত স্মৃতির মাঝে,
কলেজ যাওয়া শুরু হ
লে মনটা ব্যাথায় বাজে।
বাবা মায়ের ফিসফিসানি  কানে এসে লাগে,
নতুন জীবন হাতছানি দেয় অজানা কোন রাগে।
স্কুলের সে সব দিনগুলো আজ কোথায় যেন গেল,
প্রথম ভালবাসার ছোঁওয়া  চোখ দুটি ছলছলো।
আসা যাওয়ার পথের ধারে কত না চোখ চাওয়া

দূর্গাপূজোয় বারে বারে এখান ওখান যাওয়া।
ফুচকা-বাদাম-ঝালমূড়ি তে অনুরাগের ছোঁওয়া,
হঠাত করে কার ডাকে
তে একটু সাড়া দেওয়া।
বুকের মাঝে শিরশিরানি মুখেতে নেই ভাষা

অবাক চোখের তারায় খোঁজা নতুন সে এক আশা।
সবকিছু আজ হারিয়ে গেল সেই নদীটার বাঁকে;
জীবন এখন চলছে শুধু,কে আর হিসেব রাখে !
একই রকম দিন কেটে যায়,একই রকম রাত
ফুলগুলো তো রোজই ফোটে,স্বপ্ন যে চৌপাট !!

১৯-১১-২০১৪

#

আজকের সন্ধ্যায় বৃষ্টি কে...

আজ মন চেয়েছে     আমি হারিয়ে যাবো
হারিয়ে যাবো আমি  তোমার মনে

কিছু স্বপ্ন নিয়ে        কিছু সংগোপনে
রাখবো তোমার কথা হৃদয়-বনে।

কত সুর আসে যায়    কত পাখী গান গায়
ঈশান আকাশকোনে   সে কোন আপনমনে

কত মেঘ ভেসে যায়   দূর কোনা অজানায়
গোপন সে কথাগুলি    শুধু জাল বোনে।

সবুজ সে বন মাঝে    আলোছায়া যেন ডাকে
ধুঁজে ফেরে মন তারে  অজানা সে পথ মাঝে

রামধনু রঙে রাঙা       আকাশের গায়,
নতুন সে সুরে তানে    ভরে দিতে চায়।

উনমনা মনে যত     ছবি আসে কত শত
জীবনের গলি পথ    ভীড় করে ফেরে

নতুন সে স্বপ্নের      আকাশপ্রদীপ বেয়ে,
চলে এসো মন-পারে ছোট ডিঙি বেয়ে।।
        
১৭-১১-২০১৪

#

আবার আমার বৃষ্টি কে - 

এই মেঘলা দিনে একলা 
ঘরে বসে নাতো মন,
কবে পাবো
কবে পাবো ?
বর্ষার আলাপন।
মোবাইলটায় চোখ চলে যায়

অজানা এক ডাকের আশায়,
কত সুর ভাসে মনের দেয়ালে ;
হবে কবে সমাপন।
সে আশায় বাঁধে মন, কারিগর
উতলা খেয়ালে মন চঞ্চল
সেতারের তারে জমে ওঠা ধূলো
থেকে যায় অবিরল।
কবে যে বাজাবে সেতারের তার

মনের ছন্দে হবে একাকার,
মেঘ-বৃষ্টি তে মিশে বারবার

সারা রাত কথা কবে।।

১৪-১১-২০১৮

#

বৃষ্টিকে আবার -


মেঘের দুপুরে মন উচাটন,
বৃষ্টি কখন আসবে -
দখিনা বাতাসে খুঁজে ফেরা শুধু,
জীবন আবেগে ভাসবে।
ছল ছল জলে নদী ভেসে চলে,
দুচোখে সবুজ পার

সাথীহারা মন, কেন যে কখন 
উদ্দাম তোলপাড়।
দিকে দিকে মোর, পড়ুক না ঝরে

উতল ধারায় বৃষ্টি ;
চকিত চমকে উঠি বারে বারে
প্রাণেতে প্রাণের সৃষ্টি।

১৩/১১/২০১৪

#

চাকরী  

একটা গাঁয়ের একটা মেয়ে
দূর বিদেশে চাকরী পেয়ে

মা-বাবা-ভাই-বোন কে ছেড়ে,
চললো নতুন পথে।

উঠল সকাল রাতের পরে
মনটা শুধুই রইল ঘরে;
জীবন জ্বালার সংগ্রামেতে
জমলো কত স্মৃতি।

পায়ে চলা আলের ধারে,
আনমনা মন থরে থরে;
হারায় বুঝি সময় শুধু

কোন সে নতুন বাঁকে।

নতুন জীবন নতুন আশা
নতুন করে ভালোবাসা ;
ভরলো যে মন নতুন করে,
গাঁয়ের মেয়ের ওড়না ওড়ে।

নীল আকাশের মেঘের ফাঁকে,
চোখ চলে যায় আচমকাতে

মেয়ের প্রাণে নতুন সুর,
স্বপ্ন দেখে অনেকদূর।

মনের মাঝে যে জন আসে,
হাল্কা পায়ে সবুজ ঘাসে

উড়িয়ে নিয়ে যায় বুঝি সে,
পথের শেষে নিরুদ্দেশে।।

১২-১১-২০১৪

#

বৃষ্টিকে  

তোমার চোখে চোখ রেখে আজ       
পূর্ণ হোলো আমার মন,
আকাশ জুড়ে মেঘের খেলায়
ভরলো আমার সকল কোন।

তন্দ্রা ভরা মেঘের সাজে
কোথায় দূরে বাজনা বাজে,
আবাহনের সুর ভেসে যায়-
নীলচে চোখের তারায় তারায়;
ছন্দে দোলে সব কিছু যে
তোমার মনের সকল কাজে। 

বৃষ্টি আমার পড়ুক ঝরে
সারা শরীর আপন করে,
কত যে গান ফুটে ওঠে ;
আমার গহন হৃদয় মাঠে।
মুক্ত আমার হৃদয় ভ
রে
বর্ষা আসুক মনটা জুড়ে।
তার ধ্বনিতে উঠব মেতে,
আমার বুকের সর্ষে ক্ষেতে।
পাগল করা ধারার নেশায়-
মনটা আমার কি যেন চায় !
তোমার সুখের পরশ মাঝে,
আমার বীণায় যে গান বাজে;
দিও তাতে, অনেকটা সুর ;
ভরুক আমার  হৃদয়পুর।।

১১/১১/২০১৪

#

যদি রাত সারারাত

যদি রাত   সারারাত বৃষ্টি ঝরে যায়
আর  বাগানে বকুল ঝরে হাওয়ায় হাওয়ায়,
তখনো তোমার প্রেমে মগ্ন হতে পারি ;
রাত আর সারারাতে সে তুমি আমারি। 
                          
ঝড়ের আওয়াজে যদি ঘুম ভেঙ্গে যায়

জানালার ফাঁক দিয়ে আলোর ঝলক,
তোমার মুখের
পর চোখ চলে যায়  
তৃপ্তির ঈশারায় বন্ধ দু-চোখ।

কত স্মৃতি কত ছবি ভীড় করে আসে
বৃষ্টির শব্দেতে ভিজে ওঠে মন,
টুপটাপ শব্দের হিন্দোল ভাসে

আমার দুবাহু
পরে তোমার জীবন।

যদি রাত সারারাত বৃষ্টি ঝরে যায়
আর বাগানে বকুল ঘ্রাণে হাওয়ায় হাওয়ায়,
মিশে যায় সবকিছু  মিশে যায় সব

সারারাত দু-জনের বোধ অনুভব।।

############








Comments