আমার কবিতা - ৫
কিংবা বালি - ?
অবাক হয়ে দেখছি শুধু, আমরা খালি !
এ কোন জগৎ !
বুকের ভেতর মানুষচাপা পাথর ভারে,
অন্ধকারের জীবন শুনি –
থাকেই শুধু অন্ধকারে !
ক্যারাম খেলার ঘুঁটি’র মতো
আমরা শুধুই মরতে পারি - !
রুপো’র দেশের মানুষগুলো
আজ ভিখিরি স্বার্থ বেচে – ?
আমরাও তো সুখ নিয়ে নিই
বিসর্জনে একটু নেচে
কারণ ঘোরে।
দ্রাক্ষারসেদেশমজেছে,
আরোআরোবাড়ছেদোকানশহরজুড়ে !
এ কোন মানুষ ! মানুষ মেরে নিজেই বাঁচি !
‘পিতা স্বর্গ পিতা ধর্ম’ ! এ কোন পিতা !
সারা শহর চুপ করে আজ জ্বলছে চিতা।
পিতৃপুরুষ জল নেবে তো মহালয়া’য় ?
আকাশপ্রদীপ জ্বলবে এবার দিনের বেলায় -
লজ্জাঘোরে –
আমরা বাঁচি নিজের তালেই পকেট ভ’রে !
কলকাতা।
#
কতোকাল আর -
তোমার শরীরে এখনো বাউল গান
অক্লেশে পেতে তোমার নিবিড় ছোঁয়া
গেয়ে যেতে পারি যত আছে কলতান।
একবার যদি মুখ ফুটে তুমি চাও –
ঝরে পড়া যতো পলাশ পাপড়ি এনে
সাজাতেই পারি ময়ুরপঙ্খী নাও।
বুকের ভেতরে নক্সীকাঁথার মতো
বালুচরী যদি নাও এনে দিতে পারি
ফেরাবে কি তবে ভালোবাসা ছিলো যত !
দেখেছি আমি যে কুঁড়ি থেকে ফুল ফোটা
কতো পূর্ণিমা একই আলো দিয়ে গেছে
ভেসে গেছে রাত, ভোরের সে আলো ওঠা।
জানলার পাশে থোকা থোকা চাঁপা ফোটে,
বৈশাখী হাওয়া এলোমেলো করে দিয়ে
তোমার সে মুখে অনুরাগ জেগে ওঠে।
কতকাল হল, কথা বলেছিলে রাতে
নুপুরছন্দে কেঁপেছিল বনফুল
আগুনবরন জোৎস্নাও ছিল সাথে।
জ্বলে উঠেছিল আমার দু-চোখ জুড়ে।
আমি তো দেখেছি থরথর নদীজল
গড়িয়ে পড়েছে তোমার দু-চোখ ভ’রে।
পাহাড় চূড়োয় পাঠিয়ে দিয়েছি লেখা -
তারপরে কত বছর গিয়েছে চলে
উত্তর তার এখনো হয়নি দেখা।
কাটাতে পারোনি সমাজের লাল চোখ
আর কতোকাল বইবে সময় বলো -
এবার এসো না, আমাদের জয় হো’ক।
শুধু একবার হাতে হাত রেখে বলো -
আমি তো ছিলাম, আমি তো এখনো আছি
এবারে যাবই ; যে পথেই নিয়ে চলো।
স্মারকিত করে রাখবেই মহাকাল।
আমরা দু-জনে-, স্বপ্নের বেচাকেনা
কাঙাল হয়েই চেয়ে যাবো চিরকাল।
১লা মে, ২০১৭
কলকাতা।
#
এমন একটা মুখ দেখব বলে
সাতসমুদ্দুর তেরো নদী না পেরিয়েও
হাজার বছর দরজায় খিল দিয়ে
যন্ত্রণা কতো মধুময় হতে পারে !
নীল জল ছুঁয়ে একবার পেরোতে চাই
সুয়েজ ক্যানাল শুধু ভেসে ভেসে।
ভূমধ্যসাগর তীরে, আঙুর প্রান্তর থেকে
চুরি ক’রে এনে দিতে পারি সোনালী আঙুর –
তোমার গালে’র মতো।
সামনাসামনি দেখাও তোমার মুখ।
তোমার চোখের আরশিতে আমি দেখে নেবো –
আমি এখনো প্রেমিক আছি কি না !
২রা মে, ২০১৭
কলকাতা।
#
চৈত্রের গনগনে রোদ জানলা আছড়ে পড়ে।
মুখখানা ভার হ’লে
আটাত্তরের বানভাসি কলকাতা।
আর তুমি হেসে উঠলেই
সুমনের গান –
সূর্যের লজ্জায় আমি স্নাত হই।
বৃষ্টি যে কখন আসবে ?
মুখভার তোমার এখনো।
একটুখানি মুচকি হাসি
কলকাতা ভেজাতে পারে। পারেই...
১৯শে এপ্রিল, ২০১৭
কলকাতা
#
তোমার শরীর ভোরের আকাশ -
একটুখানি গাল ঠেকিয়ে
গন্ধ খুঁজি, উষ্ণ বাতাস।
গন্ধ খুঁজি ভোরবেলাকার-
গন্ধ খুঁজি মাঝদুপুরের।
গহন কালো রাতের আকাশ
জ্বলজ্বলে চাঁদ।
গন্ধে খুঁজি হাজার লাখো তারার আলো।
ছেলেবেলার গন্ধ খুঁজি
গন্ধ খুঁজি বয়স বাড়ার
গন্ধ খুঁজিতো মায় আমার প্রথম পাওয়ার।
গন্ধে ভরা সকালবেলার যুঁই মালতী
গন্ধ খুঁজি বেড়ার পাশের হাসনুহানার
বকুলঝরা গাছের তলায় অবাক করা
লাল দোপাটি।
সেও পেয়েছে মাটির কাছে
গন্ধ ভরা লাল পাপড়ি।
এক ফালি বীজ আগাম জীবন
পোস্তদানায় সারি সারি।
কেউ না ছুঁলে বীজও ফোটে
ফুটেই ঝরে মাটির বুকে
তেমন করেই আমার চাওয়া
তোমায় নিয়ে দুঃখ-সুখে
এমন করেই চরম পাওয়া।
১৯শে এপ্রিল, ২০১৭
কলকাতা
#
পরম্পরা-
একা একা কি পথ চলা যায় ?
জীবনের অনেকটা সময়
কতো কিছু পাশে থাকে।
হয়তো কখনো কেউ চকিতের বাঁকে
পাশে এসে যায় থাকে, কথা বলে।
প্রাণ যদি জেগে ওঠে অকস্মাৎ
কোনো এক ছলে !
পুরুলিয়া পাহাড়েও রডোড্রেনডন --
ফুটে ওঠে নিরালায়।
বয়ে যাওয়া জীবনের অনেকটা সময়
ফিরে দেখা ফিরে
পাওয়া গেলে পরে,
রাগ আসে অনুরাগে।
বয়স বেড়েই চলে পৃথিবীর।
কচিপাতা ফুঁড়ে ওঠা প্রাচীন সে গাছ
বছরে বছরে প্রেমে ফুল এনে দেয়।
নদীরাও ধরে রাখেনাকো জল কোনোদিন।
বোধ শুধু জেগে থাকে পরম্পর।
আর থাকে ভালবাসা নির্মম, অমর।
একা একা কোনো কিছু জন্ম নেয় নাকি -
কঠিন পদার্থ ছাড়া ?
©গৌতমদত্ত
১৪ইমার্চ, ২০১৭
কলকাতা।
#
প্রাণের খেলা-
তুমি এখন খানিক দূরে
কান্না ভেজা
আমার থেকে মন সরিয়ে
নীল'কে খোঁজা।
খুঁজতে গিয়ে মাঠ প্রান্তর দৌড়ে বেড়ায়
জল থইথই পাযে তোমার বালি হারায়
তোমায় পেতেই ছুটে আসে দামাল হাওয়া
আমি তখন মহাস্থবির কুড়িয়ে পাওয়া
তুলসী পাতায় দাঁতের ফাঁকে ঘটিগরম
হাত পা ছুঁড়ে গৌরনিতাই লজ্জাশরম
যম দুয়ারে।
জ্বালায় পোড়া ভালবাসার মাথায় শমন
ডাক পড়েছে
ডাক পড়েছে অন্ধকারে ফাঁসির মাচায়
কৃষ্ণ এসে সংস্কৃতে ছন্দ শোনায়
স্থিত হয়ে সবকিছুতেই মনটা দেওয়া
'পাগল হাওয়া......
কি আমার মতন তুমিও হারিয়ে গেলে'
ওরে মন তখন জাগলি নারে
তখন যে তুই ডুব সাঁতারে
ঝাঁঝি দেখার টানে আকুল
জলের নীচে গৌরনিতাই
আসবে তুমি জানি কি ছাই!
আসছে সেকেন্ড আবার হবে
আগুন খেলা।
খুঁজব ফিরে তোমার চোখেই
কূল হারিয়ে
প্রাণের খেলা !
©গৌতমদত্ত
২৪শেজানুয়ারি, ২০১৭
কলকাতা।
#
খুব কাছে এলে ?
একখানা কবিতা লিখবো বলে।
বর্ষার হাওয়া চাই এই তপ্ত বিকেলে।
একখানা কবিতা লিখবো বলে।
প্রতি স্পর্শের ছোঁয়ায়
একখানা করে লাইন লিখবো আমি।
দু’জনের চারহাতে ধরার মতো
কই আর ?
পুরোনো বট কিম্বা অশ্বত্থের সেই
গোল ছাওয়া
ব্রিগেডের মাঠে !
ধূলো - ধূলো শুধু
মাঠে, রেলিঙে, স্থাপত্যে, মননে, মনে।
তারপরে ভাবা যাবে অনুচ্ছেদ।
হে শহর, হে কঠিন শহর আমার।
ভেবে দেখো -
কবিতা না এলে
ভালবাসা পাখি হয়ে চলে যাবে
সাইবেরিয়ায়... -
১৭ই এপ্রিল, ২০১৭
কলকাতা।
#
তোমায় নিয়ে ভাসবো যখন
উথাল জলে –
ভোরের আলো ফুটিফুটি করবে তখন -।
তোমার মুখে পূর্নিমা চাঁদ
উঠবে জ্বলে।
চাঁপা’র কুঁড়ি ফুটে উঠেই মাখবে আলো
আবছায়াতে –
কত রকম মাছের খেলা দেখব না হয়
সে ভোর রাতে।
নদীর জলে – সবুজ ডানা গঙ্গাফড়িং
মেলবে পাখা।
তোমার চোখে জলের ফোঁটা
স্বপ্নমাখা।
জল-গভীরে দু’জনেতেই শব্দবিহীন -
শিল্পকলা।
তোমায় দেখে জলপরী’রা
নিঝুম ভোরে।
ঠিক তখনি চাঁদের গ্রহণ
লজ্জামাখা ভোরের আলোয়।
আমি তখন জলের নীচে দামাল প্রেমিক
তোমায় নিয়ে।
নীল রঙা জল ভরিয়ে দিয়ে বইবে নদী
সে কোন দূরে, সে এক গাঁ’য়ে
তোমায় নিয়ে
উঠব যখন গাঁ’য়ের ঘাটে–
হাজার পাখি সুর শোনাবে কিচির মিচির
মাথার ওপর সূর্য তখন
লালচে থেকে হলুদবরন।
আমাদের এই প্রণয়যাত্রা
সাঙ্গ তখন।।
১২ই এপ্রিল, ২০১৭
#
অথবা অমলতাস।
ফোটা জামরুল ফুলে যে গন্ধ ছড়ায়—
সেই গন্ধে’র ঘ্রাণে বাতাবী ফুলের গন্ধ মিশলে পরে’
ভালবাসা তর সয় নাকো !
তারপরেও যদি একখানা উড়ো মেঘ
একপশলা বৃষ্টির জল ছড়িয়ে দেয় ঘাসের ডগায়—
তাহলে রয়্যাল-এর বিরিয়ানি মৌতাত
কোথায় যে চলে যায়—, চিৎপুর ম্লান করে !
জোড়া ট্রামলাইন চক্চক্ করে ওঠে বিক্ষোভে।
ছাতিম আর কৃষ্ণচূড়া’য় ভালবাসা আনতে চায়।
উন্মাদ শহর বোঝে না -
জামরুল আর বাতাবী ফুলের গন্ধে
ভালবাসা ঝাঁপিয়ে আসে।
পাখি আসে, প্রজাপতি আসে, মৌচাকে মৌমাছি !
শহর নরম হয়
আম, জাম, কুল, সবেদায়।
ভালবাসা নেমে এসে দু-হাত বাড়ায় !
২৫শে মার্চ, ২০১৭
কলকাতা
#
কেন এঁকে দিলে ধানমাঠ গান
আর সেই ঘরে ফেরা পাখি—।
কতোকিছু রয়ে গেল বাকি।
লাব্ডুব শব্দের আগে ধুতুরা’র ফুলকথা।
কতোকিছু জানা হ’ল, কতো কিছু –
বয়ে চলা ডুব্ ডুব্ সুর
সজনের ফুল আর পলাশনুপূর
সারা গ্রামে পাড়াঘোরা সে এক দুপুর।
কখনো সখনো ?
আকাশ তো উজ্জ্বল
ছিল যে তখনো।
চৈতি আকাশ তার সবটুকু দিয়ে
বসন্ত এনেছিল সব কিছু নিয়ে
পছন্দ হ’ল নাকো তবু ?
সকালের রোদে।
তাই বুঝি একা একা
নির্মম বোধে
খুঁজে নিতে যাওয়া ও-পাড়া’র স্বাদ।
আদর আহ্লাদ—
এ জীবন পারেনি কি দিতে ?
তবু কেন, খুঁজে পেতে
পরম সন্ধান—।
জীবনের গান –, পেতে চেয়েছিলে সবখানি নিয়ে
বুকে জমা সবটুকু শিশিরে ভরিয়ে
বাঙলার কোনা থেকে দূরে ভল্গায়।
শ্যেন্, পারে মিশে যেতে কীর্তনখোলায়
সুরেসুরেভেসেশুধু…।
বেহুলা কি শুনেছিল কোনো সুর -
মৃত স্বামী’টিকে পাশে নিয়ে কলা’র ভেলায় ?
কিম্বা,
ধলেশ্বরী নদীটার পাশে পাশে
কোন সুর খেলা করে যায় ?
কে জানাবে আর – !
কে জানাবে কোন এক অজ গাঁ’য়ে
কোন এক অজানা ফকির গান গেয়ে যায় !
আমাদের ফেলে
কতো দিনে যাবে চলে
পরম যাত্রায় ?
মুখে হাসি মায়াভরা। এমন মায়ায়—
কেন তবে ছুঁয়ে দিলে বুড়ি ?
কেন দিলে এনে ঝুরি ঝুরি
সোনালি রঙিন গান
তালপাতা ছুঁয়ে ছেনে—।
থেকো তুমি রাতে’র শিশিরে।
বকুলে’র গন্ধে থেকো
থেকো তুমি রোদের গভীরে।
মন থেকে মনে থেকো
সুর থেকে সুরে
আজন্ম লালিত স্বপ্ন বয়ে যাক্
যমুনা গভীরে।
১৭-০৩-২০১৭
কলকাতা।
#
ঝরা পলাশের নেশায় মাতাল মনে –
অকারণ সব ছেলেমানুষির ভাষা
বলে ফেলা যায় নীরবেই, অকারণে।
পরিণত মনে ছন্দের দোলা জাগে।
স্পর্শেও যদি পাওয়া যায় এতো সুখ !
সে স্পর্শ তবে বারে বারে যেন লাগে।
তেমনি কারো’র চঞ্চল হাত যদি
সহজেই আনে অবাক চাঁদের আলো
চাঁপার গন্ধে ভরে যাক চার দিক
তোমার মনেতে বালুচরী জমকালো।
রাতের আকাশে স্বাতী, স্বাহা’দের মতো
এমন করেই ভুলে থেকো যতো ক্ষত।
১০ই মার্চ, ২০১৭
কলকাতা।
#
প্রেম যেন ততো বেশী পেয়ে ব’সে।
সমীকরণ : প্রেম = নৈশব্দঃ ?
লাইন দিয়ে সব কুকুর ডাকতে থাকে।
প্রেম পালায়, ঘুমও।
আমি নীলা দেখিনি
তবে নীল দেখেছি
আর দেখেছি নীলু’কে –
সনৎদা’র সাথে...কলকাতায়।
সুধীনবাবুর শাশ্বতী –
পুঁটি ও চলে গেছে ঘাটশিলায় অপুর বাপের হাত ধরে !
কেটি শুধু ঘুরে বেড়ায়, একা...কলকাতায় !
শুধু একবার খুব জানতে ইচ্ছে করে।
বিজয়া কি অপেক্ষা করছে এখনো –
কলকাতা’র
নরেন-এর জন্যে ?
৬ই মার্চ, ২০১৭
কলকাতা।
#
মনগড়া ব্যাথা খুব কুরে কুরে খায়।
জীবনের খানিক সময়।
দেখেছো কি বহতা নদীর স্রোত ?
দুই পারে ভাঙাগড়া ক্লান্তিহীন
ছোটো ছোটো গাছে গাছে ফুলেরা রঙিন
নুয়ে পড়ে ধুয়ে যায় জলে
ভেসে যাওয়া জাহাজের একা মাস্তুলে
বিষন্ন সন্ধ্যার আলো
ছুঁয়ে ছুঁয়ে গিয়ে পথ কি হারায় ?
নিরুপায় একা একা
ভেসে যেতে হয়, এভাবেই বেঁচে থাকা।
জলের অন্তিম স্পর্শ ঢেউ রাত্রির আলো
সবকিছু মুছে দিয়ে বাতাবী'র ঘ্রাণ
অপেক্ষায় জেগে থাকে জলের তলায়। আর
এভাবেই ডুবে যেতে যেতে রিক্ত হ'য়ে যায়।
জীবনের খানিক সময়।
তুমি দিন থেকে রাত্রি হয়ে গেলে পরে
নক্ষত্রের মতো আরো ভেতরে ভেতরে
মহাকাশ মিটিমিটি হাসে।
বাঙলার সন্ধ্যে নামা ঘাসে
উড়ে যায় প্রজাপতি অদ্ভুত উল্লাসে।
দেখেছো কি তার
উড়ে চলিবার
করুণ ডানার রুপ বারংবার ?
যেন বলে --
যতটুকু পারো
নির্মম ডাকাতের মতো
লুঠ কোরো আরো
দিনান্তের আলো।
তারপরে চুপি চুপি চলে যাওয়া ভালো !
©গৌতমদত্ত
৪ঠা মার্চ, ২০১৭
কলকাতা।
একবারে সব কথা বলা হয়ে যায়
নাকি ?
আর থাকে অনন্ত সময়।
তাই, মাঝে মাঝে তুলে নিতে হয়
কাঁটা বেছে ফুল।
নিশানা নির্ভুল।
ছোটো থেকে ভরে যাওয়া শূন্য পূরণ।
প্রতি পলে, প্রতি বাঁকে
অজানা, অচেনা কত কিছু থাকে
দীর্ঘ সময়।
চুপ করে মেনে বয়ে যেতে হয়।
ছেঁড়া ছেঁড়া কত কাঁথা, সেলাই—র দাগ
এক একেকটা ফাটা মাঠ চৌচির চৌপাট,
গোপনেই ক্ষয়ে যাওয়া কাঠের ভিতর কাঠগুঁড়ো অবিশ্রাম
খালি চোখে স্টেজক্র্যাফট, এনকোর এনকোর চিৎকারে—
নাম শুধু নাম... পিরামিড হাতছানি –
হাওয়াতেও সব ফ্ল্যাগ ওড়ে নাতো, জানি
কবি দিতে পারে ডেকে তাকে, একমুঠো সোনালী আবেগ।
সে আবেগ বয়ে যায়, ছুঁয়ে যায় সব
সুর পায়, থেমে যাওয়া সব অনুভব।
৩রা মার্চ, ২০১৭।
কলকাতা।
#
তাই এতো নড়াচড়া, এতোখানি ঝর্ণার জল।
পলাশের রঙ মাখা চোখে সবকিছু অবিরল –
গ্রহণের আগে।
তুমি তো অপার ছিলে... আমি সংরাগে।
নদীটির গর্ভদেশে স্রোতস্বিনী জাগে
খুঁজে নিতে শিলা।
ফেনা নিয়ে ফিরে আসা খেলা
অবিরাম ক্ষিপ্রতায়।
দুকূল ছাপানো জল ঠিক বহে যায়।
আবিল সময়।
ভালবাসা গোপনেই
ফল্গু হয়ে যায়।
১লা মার্চ, ২০১৭
কলকাতা।
#
নানান স্রোতে নানান পথে চুপিসাড়ে।
নীলচে আকাশ ঘন রোদের সামিয়ানায়
খোলা চোখে থই থই জল ঝাঁপ দিয়ে যায়—
সারা বেলাই।
চালুক্য’দের বাড়ি ঘরে রোজ দু’বেলাই
পায়ের ছাপে
ইতিহাসের অন্ধ অতীত খুলতে থাকে
এক এক ক’রে।
মাটির নীচে জমা আছে আরো অতীত যত্ন করে
তুলতে হবে।
তুলতে হবে জীবন-চলার ছন্দগুলো
ফোঁটায় ফোঁটায় সরিয়ে ধূলো
জানতে হবে স্থাপত্য আর শিল্পকলা,
জানতে হবে চলন বলন কথা বলা
স্বপ্ন খুঁড়ে।
তেমন করেই ফিরুক জীবন ভালবেসে -
তেমন করেই বয়ে চলুক নদীর ধারা
ফুলে ফলে দু-পাশে তার শস্য ভরা
সেই আবাদী গানের সুরে।
আমরা আবার স্বপ্ন জুড়ে
মিলিয়ে দেব বিজয়নগর সেই শহরে
সন্ধ্যে সকাল রোজ যেখানে খেলা করে
অবাধগতি।
আমরা দেব সন্ধ্যারতি
বিকেল শেষে।
দূরের থেকে ঘন্টাধ্বনি আসবে ভেসে।
২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
ব্যাঙ্গালোর।
#
ভালবাসি।
মনে কি পড়ে ?
সেই দিনটার কথা ?
সর্ষে ফুলেতে হলুদ সকাল
রোদ গিয়েছিল হারিয়ে -
তুমি হাত দুটো দিলে
বাড়িয়ে
গোটা আকাশটা ছাড়িয়ে...
ফিসফিসে স্বরে
পাগল এ প্রাণে
ঝড় দিয়েছিল দোলা।
মনে হয়েছিল পারিজাতবনে
কি করে এলাম সে কথা কে জানে
কে শোনালো স্বর আমার এ কানে
তুমি ? না বর্ণমালা ?
দুটি কুঁড়ি আর একটি পাতায়
তুমি আমি আর সত্যি...
এবারে বলবো আমার সে স্বরে
ধরে নাও কোনো একলা দুপুরে
কানে কানে সুধা ঢেলে...
পলাশ ফেলবে আগুনে পাপড়ি
শিমূল বলবে, বলো তাড়াতাড়ি -
যা বলবে মন ভরে।
আমরা দু-গাছ সাক্ষী থাকবো
সব বলা কথা ফুলে'তে আঁকবো
আগুন আনবো ধরে।
তারপরে দেব সব কটা ফুল
গন্ধ মাখাবে আমের বকুল
এই ফাঁকা প্রান্তরে।
স্বর্গ নামবে অপর কিনারে
পারিজাত ফুলে ছেয়ে।
ভালবাসি শুধু এই কথাটাই
চলবে জীবন বেয়ে.....
২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
বাদামী। কর্ণাটক।
#
শুধু শব্দ একখানি !
আদরের।
হঠাৎ কখনো
ফুল হয়ে ঝরে পড়ে। জানো ?
ফেনামাখা জল।
কতোখানি সম্বল
এনে দিতে পারে মনে।
মনে হবে পিছনে পিছনে
প্রজাপতি দলে দলে
ওড়ে, নাচে, কথা বলে।
কতো পাখনায়।
এনে দিতে পারে ঝিলমিল
জীবনের ওই এক ডাকে শুধু।
ওই এক শব্দটায়।
উচ্চারণে.....
ফুটে যায় সব ফুল
সকল জীবনে।
১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭.
ইন্ডিগো ৮২৭। হায়দ্রাবাদ থেকে ব্যাঙ্গালোর।
#
যখন তখন বুকের ভেতর আছাড় মারো।
যতই আমি বুকের খাঁচা খুলেই রাখি
ততই যেন আকাশ কুসুম দিচ্ছো ফাঁকি।
ভোর না হতেই তোমার সুরে গাইছে আকাশ
আমিই শুধু তোমার কাছে দমকা বাতাস
কখন ঝড়ি কখন পড়ি বটের ফলে
ডুমুর পাতায় গুটি পোকা লুকিয়ে চলে
বসন্ত আজ রাগ করেছে বৃষ্টি মেঘে
আমার খোলা দরজাখানা আছেই জেগে।
মাঝে মাঝেই অভিমানের পলকা ভারী
সারাদিনেই চারগন্ডা’র ছাড়াছাড়ি।
আকাশ তবু বাধ সেধে যায় পলাশ গাছে
কমলা আগুন থোকা থোকায় হাসছে গাছে
আগুন তাপে হৃদয় যখন যাচ্ছে পুড়ে
তোমার প্রলাপ হাওয়ার মাঝে ঘুরে ফেরে।
কবির গানেই শুনছি সে সুর দুপুরবেলা
'তোমার প্রেমে আঘাত আছে, নাইকো অবহেলা'
©গৌতমদত্ত
১৬ইফেব্রুয়ারি, ২০১৭.
হায়দ্রাবাদ।
#
আদর—
তোমার বুকে মুখ লুকিয়ে আদর খাবো
সারাদিন-ই
জানবো শুধু আমরা দুজন
আর আলাদিন।
তোমার বুকের ওঠাপড়ায়
পাগলপানা মনটা হারায়
জল থইথই শ্রাবণ দুপুর পুকুর পারে
আমি তখন তোমার বুকে চুপিসাড়ে
ফোঁটায় ফোঁটায় চোখের জলের বৃষ্টিধারায়
উথাল পাথাল আজ দুপুরে
মেঘলা আকাশ গানটা শোনায় চোদ্দ সুরে।
সেই সুরেতে চলুক জীবন কাছে পাওয়ার
বাকির কথা পুকুর পাড়ে গাছের ছায়ার
ছাদনা তলা
সেইখানে হোক মন গহনের সপ্তপদী'র
হলুদ চলা।
১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
হায়দ্রাবাদ।
#
একা একা যেতে কার ভালো লাগে !
দূর পথে যদি -
যেতে হয় কিছুটা সময় ?
খুব একা –
—একা মনে হয়।
মনে হয়-
সব কিছু দেওয়া যায় তাকে...
তখন নদীর বাঁকে
গোল কমলায়
একমুঠো সোনা রোদ আদর ছড়ায়
দূর থেকে ভালবাসা কাছে এসে যায়।
১৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
হায়দ্রাবাদ।
#
পুতুল খেলা-
বয়স আমার চুলের রেখায় বুকের হাড়ে
ক্লান্তি আমার শালিক জুড়ি পুকুর ধারে
মনের ঘরে ছোট্ট বেলা থমকে আছে
বাকি জীবন শ্মশানঘাটএ পুতুল বেচে
বসন্ত তো বারে বারেই খুঁজে বেড়ায়
বয়স কিম্বা মনের নাগাল পোষা খাঁচায়
নিজের ঘরে খোলা হাওয়া জানলা বেয়ে
দ্বন্দে দ্বিধায় উঁকি মারে ঢুকতে চেয়ে
নানান ঘরে নানান রকম রঙের খেলা
প্রজাপতি রোজ ঘুরে যায় সন্ধ্যেবেলা
ফুলদানিতে ফুলের মধু কৃত্তিমতায়
শুকিয়ে মরে বদ্ধ হাওয়ার উদ্দামতায়
বৃদ্ধ গাছে মুকুল আসে সবার শেষে
কলম চারায় ফুল এসে যায় অনায়াসে
হয়তো কখন শুকনো শাখার সবুজ পাতায়
মনের ঘরে দরজা নাড়ায় অবুঝ ব্যাথায়
কুন্তী যখন নদীর ধারে অস্ত যাওয়া গর্ভ খুঁজে
দিগবলাকার পানে চেয়ে কথার বুকে কথা গুঁজে
যুক্তি শানায় কথার ভাঁজে নতুন আলোর স্বপ্ন দেখার
হৃদয় কোনে জাল বুনে যায় অক্ষৌহিণী শব্দসেনার
তেমন যেন আভাস আমায় ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে চলে
খুঁজতে থাকি শ্মশানঘাটের পুতুলগুলো খেলবো বলে
পুতুল আমার অভাব বুকে চাঁদের আলো
ওদের নিয়েই কাটুক জীবন মন্দ ভালো।
©গৌতমদত্ত
১৫ইফেব্রুয়ারি, ২০১৭।
বেগমপেট।হায়দ্রাবাদ।
#
বাস স্টপে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে
এই মনে হয়...
ভুলে যাওয়া পা’য়ে—ব্যথা
কত কথা মনে আনে
আগামী সফর...
এক একটা দিন
হয়ে যায় উজ্জ্বল রঙিন
মাছরাঙা ডানা।
নীরেন চক্রবর্তী’র কলকাতার যীশু’র মতন
হাতে ব্যাগ, ফোঁটা ফোঁটা ঘাম গালে
অতঃপর আমায় দেখালে
‘সরি’-র মাইম...
হাপরমার্কা বুক উথালে পাথালে ছায়া খুঁজে পায়...
এক এক্টা মিনিট তখন পলাশের ডালে বসে -
চেয়ে নেয় বাড়তি সময়।
বোঝাপড়া—ভালো লাগা—কথা বলা
কে কবে হারায় ? জীবনের মানে ?
পৃথিবী তো একমুঠো ! আকাশ বাকিখানা জানে,
বোঝে। তবু মাঝে মাঝে চুপ্ করে যায় !
হে অনন্ত মহাকাল ? আর বাকি কতোটা সময় ?
কেন মাঝে মাঝে, তবু—
আমাদেরও
বোবা হয়ে যেতে হয় ??
১২ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭।
কলকাতা।
#
কথাই শুধু দেবার থাকে ?
আর কিছু না ?
মিস্টি হাসি মিস্টি চাওয়া
মিস্টি তোমার হাতটা ছোঁয়া
এসব ফেলনা ?
কথাই শুধু দেবার থাকে, আর কিছু না ?
তোমার প্রথম ডুরে শাড়ি
লালচে ফিতের বেণী –
চারখানা চোখ পরস্পরে
হৃদয় বৈতরিনী ?
সেই সে’দিনের পুতুল খেলায়
ছুঁয়ে দিতে অবহেলায়
সে সব কিছুই না ?
কথাই শুধু দিতে হবে –
এমনই বায়না !
প্লীজ্..., এমন কোরো না।
আজকে নাহয় কেনাবেচার
ফন্দি ফিকির শহর জুড়ে -
মনের কথা মন’কে ছেড়ে
চল হয়েছে ভুবনজোড়া
কিন্তু আমি নাচার তবু...
মনে পড়ে – ?
সেই আমাদের হৃদয় দেওয়া –
একটু চাওয়া অল্প পাওয়া
সেই খানেতেই থেমে আছি
তুমি আমি কাছাকাছি।
থাকবো না হয় যে কটা দিন
স্বপ্নে ফানুস –
তার’ও পরে
আকাশপ্রদীপ।
মনটা জুড়ে বৃষ্টি নামা
সেই আমাদের দাঁড়ি-কমা
থাকনা বেঁচে।
কেন যেচে
কস্ট নেওয়া।
হাজার আলোয় ভরিয়ে দেবো
একমুঠো ধান ছড়িয়ে দেব
কথা দিলাম।
কথা দিলাম তোমায় আমি
লক্ষ কথার চেয়ে দামী
বাসবো ভাল এমন করে’ই।
দূরে’র তারা দূরে’র থেকেই
হিংসুটে হোক প্রেমের জোরে...।
১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ প্রতিশ্রুতি দিবস।
কলকাতা।
##
Comments
Post a Comment